বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
৫৬

আওয়ামী লীগ বিএনপি সংঘর্ষ রাজধানীতে

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২  

 রাজধানীর হাজারীবাগে সমাবেশ শুরুর আগেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দেশ টিভির ক্যামেরা পারসন দেলোয়ার হোসেনসহ দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে ২টার দিকে হাজারীবাগের টালি অফিস রোডে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মাঝখানে গিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে উভয় পক্ষকেই আটকে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় দুই পাশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীরা লাঠি হাতে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগও উর্দু শব্দ, জামায়াতও উর্দু শব্দ। তাদের দুই দলের ভিতরে এখন পরকীয়া চলছে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত, বিএনপি-জামায়াত’ শব্দগুলো আওয়ামী লীগের অনেকের মুখে এখন বুলি হয়ে গেছে। আমি বলছি- এখন সময় এসেছে, ‘আওয়ামী লীগ-জামায়াত, আওয়ামী লীগ-জামায়াত’ বলার। কারণ জামায়াত-ও উর্দু, আওয়ামী লীগও উর্দু শব্দ। দুটো একসঙ্গে মিলবে ভালো। কেননা আওয়ামী লীগ জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করেছে। কিন্তু বেআইনি ঘোষণা করে না। তাহলে কি- আমি বলব, জামায়াত-আওয়ামী লীগে ভিতরে পরকীয়া চলছে?
জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দলের চার নেতা-কর্মীকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর ১৬টি স্থানে সমাবেশের অংশ হিসেবে গতকাল হাজারীবাগে এই কর্মসূচি পালন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। এর আগে ধানমন্ডির শংকর বাসস্ট্যান্ডের পাশে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের সামনের সড়কে এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। একই সময়ে যুবলীগের পক্ষ থেকে সমাবেশ ডাকায় পুলিশ সেখানে সমাবেশ করতে না দিয়ে হাজারিবাগের শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে এই সমাবেশ করার অনুমতি দেয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং কে এম জোবায়ের এজাজ ও আরিফা সুলতানা রুমার পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর বীরউত্তম, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মীর সরাফত আলী সপু, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপি নেতা শেখ রবিউল আলম রবি, রফিকুল আলম মজনু ও ইউনূস মৃধা, যুবদল নেতা গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইয়াসিন আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জানা গেছে, গতকাল দুপুর থেকেই ‘লাঠির মাথায় জাতীয় পতাকা’ হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। রাস্তার অপর প্রান্তে টালি অফিস রোডে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানেও পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। কিন্তু তার আগেই বিএনপির কর্মী সমর্থকেরা লাঠি হাতে মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা বাধা দেয়। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের হস্তক্ষেপে কয়েক মিনিটের মধ্যে উভয় পক্ষ দুই দিকে সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে টালি অফিস রোডের মোড়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা লাঠি হাতে অবস্থান নেন। তার বিপরীত দিকে লাঠি-পতাকা হাতে নিয়ে অবস্থান নেন বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা। মাঝখানে পুলিশ তাদের উভয় পক্ষকেই ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঠিক উল্টো পাশে বেড়িবাঁধের পাশেই একটি মাঠে বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিএনপির শত শত নেতা-কর্মী লাঠি ও জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল নিয়ে অংশ নেন। এ সময় সড়কের দুই প্রান্তে অবস্থান নেওয়া দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করে। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে দুই পক্ষকেই নিভৃত রেখে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করে এবং উভয় পক্ষকেই লাঠিসোঁটা সরিয়ে ফেলতে বলেন।

এ বিষয়ে কর্তব্যরত ধানমন্ডি অঞ্চলের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এহসানুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তো লাঠির দরকার নেই। লাঠি থাকলে শান্তি বিনষ্ট হতে পারে। সে জন্য আমরা সমাবেশে আসা লোকজনকে লাঠি সরিয়ে ফেলতে বলেছি।

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর