ঢাকা, ২০২০-০৫-৩০ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ,  ১৪২৭

১৫ ঘণ্টায় ব্যাপক ক্ষতি ২৬ জেলায় বাংলাদেশে আম্পানের তান্ডব

প্রকাশিত: ০৬:৩৩, ২৩ মে ২০২০  


মাসুদ হোসেন, ঢাকা থেকে
‘অতিপ্রবল’ ঘূর্ণিঝড় আম্পান (প্রকৃত উচ্চারণ উম-পুন) বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে গেছে। বুধবার রাতে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলে আঘাত হানার পর এটি ১৫ ঘণ্টা ধরে তান্ডব চালায় বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এই দীর্ঘ সময়ে এটির শক্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। পরে সকাল ৯টায় ঘূর্ণিঝড়টি পরিণত হয় গভীর স্থল নিম্নচাপে।
২০০৭ সালের সিডরের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ছিল আম্পান। বাংলাদেশে এটির সর্বোচ্চ গতি রেকর্ড করা হয় ১৫১ কিলোমিটার সাতক্ষীরায়। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় ১০-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের চেয়েও বাংলাদেশে এর দাপট ছিল বেশি। সুন্দরবনের কারণে এ যাত্রায় আরও বড় ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছে বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশ।
আম্পান চলে গেলেও রেখে গেছে ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। অন্তত ৪০ জেলায় এর কমবেশি প্রভাব পড়ে। তবে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২৬ জেলায়। এসব জেলার মধ্যে আবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালীর জনপদে। প্রাথমিকভাবে সরকারি হিসাবে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ফসল নষ্ট হয়েছে ২ লাখ হেক্টর জমির। বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৭ জেলায় অন্তত ১৬ জন মারা গেছে। যদিও সরকারিভাবে সর্বোচ্চ ১১ জন স্বীকার করা হয়েছে। আর আহত হয়েছেন অর্ধশত মানুষ। ঝড়ের সময় দেশের অন্তত ৬০ শতাংশ বা ১ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় ঝড় চলে যাওয়ার ৬-৭ ঘণ্টা পরও সংযোগ দেয়া যায়নি।
এদিকে বিকালে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান জানান, চারটি মন্ত্রণালয়ের দেয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্পানে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান ২৬টি জেলায় আঘাত হেনেছে।
চূড়ান্তভাবে কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেই বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে ডি-ফরমে তথ্য আসবে। প্রায় ৭ দিন সময় লাগবে। এরপর এটা জানাতে পারব।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়