ঢাকা, ২০২০-১০-২২ | ৭ কার্তিক,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

ড. প্রদীপের বক্তব্যের জবাবে ড. সিদ্দিক

সভাপতি না হতে পেরে ক্ষোভ, অপপ্রচার

প্রকাশিত: ০৫:২২, ২২ আগস্ট ২০২০  



আজকাল রিপোর্ট
আজকাল-এ প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সাক্ষাৎকার নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগ নেতা ড. প্রদীপ কর। এবার প্রদীপ করের সেই বক্তব্যের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, প্রদীপ বাবু সভাপতি হতে না পেরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আজকাল-এ পাঠানো ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিবৃতি হুবহু প্রকাশ করা হলোÑ ‘তথাকথিত নর্থ আমেরিকা আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব প্রদীপ কর ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে না পেরে আমার বিরুদ্ধে অনাকাক্সিক্ষত সম্পূর্ণ মিথ্যা অপবাদ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করে মানহানিকর কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব যখন করোনার কারণে সম্পূর্ণভাবে দিশেহারা ঠিক সেই সময় জনাব কর কেন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছেন তা আমার জানা নেই।
গত সাত মাস যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মরণব্যাধি কোভিড-১৯ এর মাঝে সকল জাতীয় অনুষ্ঠান, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে করোনা ভাইরাসের কারণে ভুক্তভোগীদের খাবার সরবরাহসহ বঙ্গবন্ধুর ঘাতক রাশেদ চৌধুরীর এবং জনাব ইলিয়াস হোসেনের ১৫ অগাস্ট নিয়ে অনাকাক্সিক্ষত মন্তব্য নিয়ে সর্বক্ষণ কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত ১০/১২টি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যসহ সকল স্টেট/মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক অংশগ্রহণ করেন।
জনাব করের অপপ্রচারের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি না। তবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কিছু শুভানুধ্যায়ীর অনুরোধে নিম্নে সংক্ষেপে আপনাদের অবগতির জন্য তুলে ধরা হলো:
১। ১৯৭৫ সালে বাকশালে যোগ দিতে আমি যাইনি উনি গেছেন! আমি তখন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ১০০ জন শিক্ষকের তালিকা ভিসি সাহেবের নির্দেশে আমি করেছিলাম শিক্ষক সমিতির পক্ষে। ও তখন ছাত্র, বাকশালে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা ওর ছিল না। তখন ভিপি ছিল মোহাম্মদ আলী, ওনার কোন খবরও ছিল না ।
২। আমি উচ্চ শিক্ষার জন্য সরকারের স্কলারশীপ নিয়ে আমেরিকায় আসি নাই। নিজের মেধা দিয়ে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির এসিসট্যান্টশীপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য এসেছিলাম। উদাহরণ হিসেবে ড. রাজ্জাক সাহেব সরকারের স্কলারশীপ এবং তথাকথিত জিও নিয়ে আমেরিকায় এসেছিলেন আমার ৬ মাস আগে। তাকে নিয়ে কর বাবু কি বলবেন? আমাদের মত অনেকেই উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে গেছেন যারা আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বা ছিলেন।
৩। ১৯৭৫ সালে নভেম্বরে ৫ অথবা ৬ তারিখ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদের প্রথম প্রতিবাদ র‌্যালির সামনে প্রফেসর সাইদুল হক চৌধুরী আর আমি ছিলাম। প্রক্টর জলিল সাহেব তার দায়িত্ব পালনে ঐ দিন আমাদের মাঝে ছিলেন। জনাব কর আমাকে দেখেননি কারণ ওই র‌্যালিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকেও যোগ দেননি।
এখানে উল্লেখ্য যে মরহুম অধ্যাপক আশরাফ আলীকে পরবর্তীতে খুনি জিয়া উপাচার্য বানিয়েছিলেন। তিনি জনাব কর এর মতো স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন সাইদুল হক চৌধুরী ও আমাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য ।
৪। খুনি জিয়ার নির্দেশে ভিসি সাহেব প্রকৌশলী রহমতুল্লাহ, রেজিস্টার নজিবুর, সহকারী অধ্যাপক সরফউদ্দীন আজাদ, সহকারী অধ্যাপক সাইদুল হক চৌধুরী ও আমাকে আর্মি হেডকোয়ার্টার দেওয়ানগঞ্জে পাঠিয়েছিলেন মেজর ফজর আলী শেখের নিকট। আমরা লিখিত চেয়েছিলাম মাননীয় ভিসি মহোদয়ের কাছ থেকে। উনি বলেছিলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে হাজির না হলে ক্যাম্পাস থেকে আমাদের গ্রেফতার করবে বলে খুনি জিয়া নির্দেশ দিয়েছে। কারণ, কেন আমরা ছাত্রদের সাথে র‌্যালিতে অংশ নিয়েছিলাম। জনাব কর তখন কোথায় ছিলেন?
৫। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আমি ছিলাম ছাত্রলীগে। যা প্রথম সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র/শিক্ষক সংগ্রামে অন্যতম একজন হিসেবে ছিলাম যখন জনাব কর ছিলেন না।
মরহুম ড. ফয়সাল আহমেদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল আহসানকে ছাত্রলীগ থেকে যথাক্রমে ভিপি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন আমি দিয়েছিলাম রহমতুল্লাহ ও কুতুবী ভাইসহ নমিনেশন বোর্ডের সদস্যদের সহযোগিতায়। কোন বছর তা মনে নেই। তবে নির্বাচনে আমরা হেরে যাই ছাত্র ইউনিয়নের কাছে।
৬। মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল আহসান আর আমি সম্ভবত মার্চের ৩ তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রাবাস থেকে দেশের বাড়িতে যাই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরি। আমি কোন ক্লাস করিনি বা পরীক্ষা দেইনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। জনাব কর প্রমাণ দেখাতে পারলে যে কোন ব্যবস্থা আমি মাথা পেতে নেবো।
৭। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান আমাকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করার দিন থেকে জনাব কর আমার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর সংগ্রহ, সংবাদ সম্মেলন এবং নিজকে নতুন সংগঠন নর্থ আমেরিকা নাম দিয়ে স্বঘোষিত সভাপতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে চলেছেন।
জনাব কর আমার একজন প্রিয় ছাত্র। ফার্মমেকানিকস নামে একটি বিষয় পড়াতাম। ওর অনুষদের ছাত্রদের সে ক্লাসে সে থাকতেও পারে। শুধু তাই না ওর ক্লাসফ্রেন্ড, বর্তমানে ভিসি যে ছাত্রাবাসে থাকতেন সেই ছাত্রাবাসের সহকারী প্রভোস্ট ছিলাম। জনাব কর একজন অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি। জনাব করকে জিজ্ঞাসা করুন, কিভাবে উনি এ দেশে এসেছিলেন! করোনা চলে গেলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনাব কর এর অপপ্রচারের উত্তর দিবো।’

 

কমিউনিটি সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়