ঢাকা, ২০২০-০৭-০৯ | ২৪ আষাঢ়,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

এমন ঈদ আগে কখনও দেখেনি কেউ

লকডাউনে নিউইয়র্কে ঘরে ঘরে ঈদ জামাত

প্রকাশিত: ০৬:৪৯, ৩১ মে ২০২০  



আজকাল রিপোর্ট
সারা মাস রোজার পরেই আসে সারা বছরের সেই শ্রেষ্ঠতম দিন। ঈদুল ফিতর মুসলিম জাহানের হাজার বছরের ঐতিহ্য। মুসলমানদের বৃহত্তম উৎসব। শোক-দুঃখ ভুলে উল্লাসে মেতে ওঠে গোটা মুসলিম বিশ্ব। পথে পথে ঘোরে চাঁদ দেখার আনন্দ। কিন্তু এবার সব এলোমেলা হয়ে গেল। করোনা ভাইরাসে এবার সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেছে। পাল্টে গেছে ঈদ উৎসবের সব রীতিনীতি। পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া, উপহার আদান-প্রদান, খাবার ভাগাভাগি, চাঁদ রাতের আনন্দÑ সবকিছুই ম্লান হয়ে গেছে।
নিউইয়র্কসহ আমেরিকার বিভিন্ন শহরে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছে করোনা মহামারির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে। রমজান মাসে মসজিদে মসজিদে তারাবীর নামাজ হয়নি, মসজিদ ছিল বন্ধ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুদের নতুন কাপড় কেনা হয়নি। চিরাচরিত নিয়মে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের পথও ছিলো বন্ধ।
নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১০ জন উপস্থিতির অনুমোদন দেন। এতে নিউইয়র্কের বিভিন্ন মসজিদ ১০ জনের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল ঈদ জামাতের ঘোষণা দেয়। তবে অধিকাংশ বাংলাদেশি মসজিদ ঈদ জামাত আয়োজন থেকে বিরত থাকে। কোথায় কোথাও মুসলিম কমিউনিটি খোলা মাঠেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জামাতের ব্যবস্থা করে।
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মসজিদে ৮/১০ জনের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল ঈদ জামাতের খবর পাওয়া গেছে। নিউইয়র্কের জামাইকা মুসলিম সেন্টার, ম্যানহাটনের মদীনা মসজিদ, আব্দুর রহমান মসজিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য মসজিদ এই নিয়মে ঈদ জামাত আয়োজন করে। খুব অল্পসংখ্যক মানুষ এভাবে নামাজ আদায় করেছেন। তবে অধিকাংশ মুসলিম নর-নারী এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন বাসা-বাড়িতে নিজ নিজ গৃহে।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটির শীর্ষ স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে (জেএমসি) সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদুল ফিতরের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় রোববার সকাল পৌনে ৯টায়। এতে ইমামতি ও খুৎবা পাঠ করেন ইমাম শামসী আলী। এই জামাতে ১১ জন মুসল্লি অংশ নেন বলে জানা গেছে। ঈদের জামাতের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়ক সিটির পুলিশ কমিশনার ডেরমোট এফ. শিয়া, জেএমসি’র ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোজাফফর, পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমান ও সেক্রেটারি মনজুর আহমেদ চৌধুরী। এছাড়াও কিভাবে নামাজ আদায় করা হবে তা তুলে ধরেন জেএমসি পরিচালিত আল মামুর স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম।
জেএমসি’র ঈদের জামাতের শুরুতে ঈদুল ফিতর বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এবং শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জেএমসি’র পেশ ইমাম ও খতিব মওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। তিনি বাংলাদেশ থেকে মোনাজাতে অংশ নেন।
জ্যামাইকার দারুল উলুম মসজিদে সমাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদুল ফিতরের ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
সকাল আটটায় আরো একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এস্টোরিয়ার গাউছিয়া জামে মসজিদে। এতে ইমামতি করেন প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা জালাল সিদ্দিকী। এস্টোরিয়া এলাকায় বসবাসরত অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। জামাতে উপস্থিত সবাই সোশ্যাল ডিসটান্স বজায় রাখেন।
নিউইয়র্কে সবচেয়ে বড় ঈদের জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রঙ্কসের পেলাম পার্কের বাস্কেট বল মাঠে। এখানে সোশ্যাল ডিসটান্স মেনে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। রোববার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জামাত অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও সকাল ৭টার আগেই পুরো মাঠ ভর্তি হয়ে যায়। মুসুল্লীরা নিজ নিজ নামাজের বিছানা নিয়ে সোশ্যাল ডিসটান্স মেনে কাতারবন্দী হয়ে বসে যান। পাঁচ শতাধিক মুসুল্লি এখানে নামাজ আদায় করেছেন এবং নিউইয়র্ক সিটিতে এটাই সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত বলে জানা গেছে।
এছাড়াও ব্রঙ্কসে আরো একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় পার্কচেস্টারের খলিল পার্টি সেন্টারে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে ইমামতি করেন পার্কচেস্টার ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওবায়দুল হক। নামাজ শেষে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত এবং যারা অসুস্থ আছেন তাদের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া করা হয়। নামাজ শেষে সকল মুসল্লিকে খলিল বিরিয়ানী হাউজের পক্ষ থেকে আপ্যায়িত করা হয়।
নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর উডসাইড বায়তুল জান্নাহ মসজিদে তিন দফায় ৭০ জনের উপস্থিতিতে ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিউইয়র্কে অপর একটি মসজিদে ৭০ জন করে ২শ জন ঈদের নামাজ আায় করেছেন।
লং আইল্যান্ডের লেক রনকনকোমা পার্কে সকাল ১১টায় একটি মাত্র জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাত শেষে করোনায় হারিয়ে যাওয়া সকলের জন্য দোয়া করা হয়।
এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সী, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভেনিয়া, ভার্জেনিয়া, ওয়াহাইও, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনাসহ প্রভৃতি স্টেটে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে।

 

কমিউনিটি সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়