ঢাকা, ২০২১-১২-০৯ | ২৪ অগ্রাহায়ণ,  ১৪২৮
সর্বশেষ: 
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র বিচার ১২৩ বছর আগে গ্রেপ্তার গাছ, শেকলে বন্দি আজো ফ্রান্স প্রেসিডেন্টকে চড় মারার মাশুল কতটা? কুরআনের আয়াত বাতিলে ‘ফালতু’ রিট করায় আবেদনকারীকে জরিমানা আদালতের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড ওয়াক্ত ও তারাবি নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ২০ জন বিদেশে মারা গেছে ২৭০০ বাংলাদেশি আর্থিক ক্ষতি মেনেই সাঙ্গ হলো বইমেলা সুন্দরী মডেলের অপহরণ চক্র ! মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিপ্লবে দেশ যুক্তরাজ্যে করোনার আরও মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ বিরতিতে অক্সফোর্ডের টিকা বেশি কার্যকর সবাই সপরিবারে নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিন নিন: প্রধানমন্ত্রী শেষ রাতে দু’রাকাত নামাজ জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে নতুন করোনাভাইরাস আতঙ্কে ইউরোপ-আমেরিকার শেয়ারবাজারে ধস জুনের মধ্যে আসছে আরও ৬ কোটি করোনার টিকা বাড়িভাড়ায় নাভিশ্বাস, ফের বাড়ানোর পাঁয়তারা অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

প্রসঙ্গ: বাংলাদেশ

রুখে দাঁড়াও!

প্রকাশিত: ০২:৫৩, ২৩ অক্টোবর ২০২১  


মনজুর আহমদ
এসব কী হচ্ছে বাংলাদেশে? যে অসাম্প্রদায়িকতা বাংলাদেশের গর্বের বিষয়, যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে আমরা বড়াই করি, কোথায় সে সম্প্রীতি আজ? দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশে যা ঘটছে তা কি সম্প্রীতির নিদর্শন? এসব ঘটনা তো আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভাবমূর্তিকে ধসিয়ে দিচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মন্ডপে মন্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, তাদের ওপর আক্রমণ, এসব তো আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পরিচয়কে কালিমালিপ্ত করে দিচ্ছে। আমাদের মাথা হেঁট করে দিচ্ছে।
এসব ঘটনায় কারা জড়িত? তারা সংখ্যায় কত? দেশের ব্যাপক মুসলিম জনগোষ্ঠীসহ আপামর মানুষ তো এ ধরনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ, মর্মাহত। এই সব অপকর্মের সাথে জড়িত মহল যত ক্ষুদ্রই হোক বা যত সংগঠিতই হোক তাদেরকে কি প্রতিহত করার কোন ব্যবস্থা ছিল? দেশে শক্তিশালী একটি সরকার রয়েছে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের নানা পর্যায়ের বাহিনী রয়েছে, শান্তি রক্ষায় কঠোর সব আইন রয়েছে। কিন্তু কি করতে পারলেন তারা? পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাই তো তাদের ব্যর্থতার পরিচয় রেখেছে। কোন খবরই কি রাখেনি সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা বিভাগ? এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। সরকারের এ ব্যর্থতা অবশ্যই প্রশ্নের ঊর্ধে নয়। কেন তাদের এই ব্যর্থতা? বিরোধী মত দলনে সরকার যতটা পারঙ্গম, সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারি এজেন্সীগুলি যতটা তৎপর, সে তুলনায় এক্ষেত্রে তারা এত ব্যর্থ কেন? এ বিষয় নিয়ে মানুষ আজ সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠেছে। তারা বুঝে নেয়ার চেষ্টা করছে, সরকারের ব্যর্থতা ছাড়াও অন্য কোন রহস্য এর পেছনে কাজ করছে কি-না? কুমিল্লার পূজামন্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনা দিয়ে শুরু। ধারণা করা গিয়েছিল এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, এখানেই থেমে যাবে। কিন্তু এর সূত্র ধরে আরো বিভিন্ন স্থানে এমনকি সুদূর রংপুরের পীরগঞ্জ পর্যন্ত যখন হামলা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে তখন বিশ্বাস না করে উপায় থাকে না যে এটি মহল বিশেষের একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল।
কোন সে মহল যারা বাংলাদেশের আবহাওয়াকে বিষিয়ে তুলছে? লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেই মহলটিকে চিহ্নিত না করে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের দলীয় স্বার্থ হাসিলে পারষ্পরিক দোষারোপে লিপ্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সেই একই ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে চলেছে, এ ঘটনা নাকি ঘটিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। অপরদিকে বিএনপিও তাদের ক্ষীণ কন্ঠে বলে চলেছে এর পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কিছু না বলে আমাদের শুধু এটুকুই জানাচ্ছেন যে অনেক তথ্য তার হাতে এসেছে। এসব ঘটনায় জড়িতরা কেউ ছাড় পাবে না। কিন্তু কারা এর সঙ্গে  জড়িত তা তিনি এখনও প্রকাশ করছেন না।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য সকলকে দারুণভাবে নাড়া দিয়েছে। বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিদের সাথে পূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভারতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তাদেরকে এমন কিছু করতে নিষেধ করেছেন যার প্রভাব বাংলাদেশে এসে পড়ে। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতকেও সচেতন থাকতে হবে। এ কথায় কি ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন শেখ হাসিনা? তাহলে কি ঘটছে ভারতে? কি করছে তারা? বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংঘটিত ঘটনাবলীতে ভারতে হিন্দুদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়ে।
এমন অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, তাহলে খেলাটা কি ভারতের? বাংলাদেশের এ সব ঘটনার কলকাঠি কি তবে নাড়ানো হচ্ছে দিল্লি থেকে? একটি সূত্রে বলা হয়েছে, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বেতনভোগী এজেন্টরা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে সক্রিয়। ভারতের যে কোন স্বার্থ হাসিলে তারা সদা তৎপর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘র’-এর ক্ষমতা সম্পর্কে অবগত নন এ কথা নিশ্চয় বলা যাবে না। তবে পর্দার পেছনের সব কথা সামনে আনা যায় না। বাংলাদেশে বহু কথা বলা থেকে বিরত থাকতে সবাইকে বাধ্য হতে হয়। বাংলাদেশের মানুষ চোখের সামনে দেখেছে সেনা বিদ্রোহের নামে দেশের চৌকষ বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়ার ঘটনা, ৫৭ জন পদস্থ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা, বিডিআর প্রধানের স্ত্রীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যার বর্বর ঘটনা। এই নৃশংসতায় জড়িত বিদ্রোহী সেনাদের বিচার হয়েছে, সবার গড়ে ফাঁসি, যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড হয়েছে। কিন্তু এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পেছনের রহস্য কি প্রকাশ পেয়েছে? আকস্মিকভাবে সংঘটিত এই ঘটনার পেছনের কারণ জানা থেকে থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে দেশের মানুষ। এ রহস্য তাদের কাছে অজ্ঞাত এবং এ নিয়ে মুখ খোলারও অধিকার তাদের নেই।
পূজামন্ডপে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, হিন্দুদের ওপর নিগ্রহ এ সব ঘটনা বাংলাদেশে যে নতুন তা নয়। প্রতি বছর বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় এ ধরনের কিছু না কিছু ঘটেই চলেছে কোন না কোন স্থানে। মাত্র ক’দিন আগেই এক বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে গেল সুনামগঞ্জের শাল্লায়। কিন্তু মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানী শাসন থেকে মুক্ত হয়ে আমাদের তো বুক ভরে নিশ্বাস নেয়ার কথা ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে। কোথায় সে সম্প্রীতি?
বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রকৃত কারণকে উপেক্ষা করে বিষয়টিকে রাজনীতিকীকরণ করা আমাদের রাজনীতিকদের অভ্যস্ত দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। কোন ঘটনা ঘটলেই রাজনৈতিক দলগুলি পারষ্পরিক দোষারোপে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এর মধ্য দিয়ে পার পেয়ে যায় প্রকৃত দুষ্কৃতকারীরা। আড়াল হয়ে যায় তাদের উদ্দেশ্য। তারা এই রাজনৈতিক বিবাদের সুযোগটাই গ্রহণ করে থাকে। এবারও তাই ঘটছে। দীর্ঘ তের বছর ধরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ। তাদের এ ক্ষমতা তের বছর ধরেই একচ্ছত্র। তাদের  বিরোধিতা করার শক্তি এখন আর কারো নেই। তাদের তের বছরের এই একচ্ছত্র শাসনে বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িকতার শিকড় উপড়ে ফেলা তো সবার ন্যায়সঙ্গত প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তা তো হয়নি। কেন এ কাজটি করতে পারেনি তারা? শিকড় উপড়ে ফেলা তো দূরের কথা, বাস্তবতা হচ্ছে হেফাজতের মতো সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে তাদের আঁতাত জোরদার হয়েছে। হেফাজতের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে সরকারি নীতিতে। রাষ্ট্র ধর্ম বহাল রেখে, ধর্মান্ধ শক্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে সাম্প্রদায়িক চেতনাকে লালন করা হচ্ছে।
তবে সব কিছুর ঊর্ধে উঠে আমরা বিশ্বাস করতে চাই, সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে রক্ষা করতে আন্তরিকভাবেই সচেষ্ট। কিন্তু এই সম্প্রীতি রক্ষায় আইন বা সরকারি বাহিনীগুলিই তো যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধের, জনগণকে সোচ্চার করার। বাংলাদেশে জনগণের কোন ভূমিকা কোন ক্ষেত্রেই আর লক্ষ্য করা যায় না। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে দেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় ও সাংস্কৃতিক মহল। ভূমিকা পালন করেছে সংবাদ মাধ্যম। ১৯৬৪ সালে হিন্দু বিরোধী দাঙ্গার বিরুদ্ধে দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি প্রকাশ করেছিল  প্রচারপত্র ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’। সে প্রচারপত্রটি আট কলাম জুড়ে ব্যানার করে এই একই শিরোনামে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় হুবহু ছাপা হয়েছিল। সংবাদপত্রের এই ভূমিকা দাঙ্গাবাজদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এই সব মহল আজ নীরব। কোন আওয়াজ নেই সাংস্কৃতিক মহলেরও। সবাই আজ নিবেদিত প্রধানমন্ত্রীর তোষামোদে। সবাই দিনে দিনে কোন অতলে তলিয়ে গেছে। অনেকদিন পরে আওয়াজ পাওয়া গেল নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের। তারা ‘রুখে দাঁড়াবার’ আহ্বান জানিয়েছেন। জানি না সে আহ্বান কারো কানে গেছে কিনা। কারণ তাদের ডাকে এখনও পর্যন্ত কাউকে রুখে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে না।
আসলে রুখে দাঁড়াবে কে? রুখে দাঁড়াবার মতো মানসিকতা, চেতনার দৃঢ়তা কি কারো অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে? একে একে প্রতিবাদী কন্ঠগুলির মেরুদন্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। এই রুখে দাঁড়াবার মনোবল  যখন ভেঙে দেয়া হয়েছে তখন এইসব বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক মহল প্রচ্ছন্নভাবে এ ধরনের কার্যক্রমকে সমর্থন জানিয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে তারা কোনভাবেই বিড়ম্বিত করতে চায়নি। সরকার যা চেয়েছে তারা অন্ধভাবে তারই প্রতি সমর্থন যুগিয়ে গেছে। স্তিমিত হতে হতে বিলীন হয়ে গেছে শাহবাগের সেই বিশাল গণজাগরণ, নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের গড়ে তোলা অভাবনীয় আন্দোলন। শুনেছি পরবর্তীকালে এই সব আন্দোলনের সংগঠকদের শিকার হতে হয়েছে দমন-পীড়নের। সরকার সেই সব কোন আন্দোলনকেই টিকে থাকতে দেয়নি যেগুলি তাদের সমর্থনপুষ্ট ছিল না, তাদের পক্ষের ছিল না।
আজ যখন ‘রুখে দাঁড়াও’ ডাক দেয়া হচ্ছে তখন রুখে দাঁড়াবার মানুষ কোথায়? এখন শুধু তারাই দাঁড়াতে পারে যারা সরকার সমর্থক। হিন্দুদের ওপর হামলা শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ পরে সরকারি সবুজ সংকেত পেয়ে রাস্তায় সম্প্রীতি মিছিলে নেমেছে এককভাবে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রীর বড় বড় ছবি সংবলিত দলীয় ব্যানার বহন করে তারা তাদের দলের প্রতি আনুগত্যের পরিচয় রেখেছে। গণ সম্পৃক্ততার লেশমাত্র সেখানে ছিল না। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আন্দোলন থেকে আজ হারিয়ে গেছে গণমানুষের অংশগ্রহণ।
তবুও আমরা আছি রুখে দাঁড়াবার আহ্বানে শরিক হয়ে। সাম্প্রদায়িকতার আগ্রাসন থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য দেশে-প্রবাসে সবার প্রতি আমাদের আহ্বান একাট্টা হওয়ার। সাম্প্রদায়িকতার উস্কানিদাতাদের রুখে দেয়ার জন্য সোচ্চার কন্ঠে আমরাও আহ্বান জানাই ‘রুখে দাঁড়াও’।

 

Space For Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement
সর্বশেষ
জনপ্রিয়