ঢাকা, ২০২০-০৮-১১ | ২৬ শ্রাবণ,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

মধ্যাহ্নভোজে ট্রাম্পকে দেওয়া হাসিনার ফাইলেই কাজ হলো

রাশেদ চৌধুরীর আশ্রয় পর্যালোচনার নেপথ্যে

প্রকাশিত: ০৬:১৪, ৩১ জুলাই ২০২০  



আজকাল রিপোর্ট
পলাতক রাশেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বিষয়টি বোঝাতে সক্ষম হওয়ার পর তার রাজনৈতিক আশ্রয় পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। নজিরবিহীন এ ঘটনার পর এ নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। কেন রাশেদ চৌধুরীর আশ্রয় পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, এর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করেছেন অনেকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগদানের জন্য এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মধ্যাহ্নভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি ফাইল হস্তান্তর করেন। এসময় দুই নেতার মধ্যে দুই দফা বেশ কিছুক্ষণ অনানুষ্ঠানিক কথা হয়। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিক হাসানুজ্জামান সাকী। তার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যাহ্নভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছি। চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী জাতির পিতার খুনিদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। মূলত এ বিষয়ে তাকে চিঠি দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় খুবই সোচ্চার। তাহলে কী করে এই দেশে জাতির পিতা, নারী ও শিশু হত্যাকারী (রাশেদ চৌধুরী) থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন খুনি কানাডায় রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে। আমরা সবাইকে খুনিদের ফেরত পাঠাতে অনুরোধ করেছি। এই খুনিরা ওইসব দেশের জন্যও নিরাপদ নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দেশগুলো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রত্যর্পণ করলে তখন বাংলাদেশের আদালতের রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠি পাওয়ার পর কৌশলগত কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী রাশেদ চৌধুরীর মামলা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সময় লাগলেও রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব বলেও আশাবাদী তারা।
প্রায় ১৫ বছর পর রাশেদ চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয় পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়ে পুরনো নথি তলব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস। ২০০৬ সালে দীর্ঘ শুনানীর পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের মামলায় আদালত থেকে নিজের পক্ষে রায় পান সাবেক সেনা কর্মকর্তা রাশেদ চৌধুরী। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পেলেও বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে অনেকটা আত্মোগোপনে থাকেন বঙ্গবন্ধুর এই খুনী। ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেমেন্টো থেকে আর একশ মাইল দূরের একটি শহওে নিভৃতে বসবাস করেন রাশেদ চৌধুরী। তার ছেলেও ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন। সেখানে রাশেদ চৌধুরী ও তার ছেলেদের নামে প্রায় একশ কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি রয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত কূটনৈতিক ওয়ালিউর রহমান বলছেন, এই খুনি সম্পর্কে এতদিন ভুল ধারণা ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করবো যে রাশেদ চৌধুরীকে তার একটা ফাইনাল বিচার করবে এবং সেই বিচারের প্রেক্ষাপটে আমরা তাকে ফেরত পাবো।’
সে দেশের আইন বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে রাজনৈতিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো বলছে, দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টি পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্তে বিষয়টি পরিষ্কার যে তাকে ফেরত দেয়া হবে। হয়ত এ কারণেই রায় কার্যকরের আশা দেখছেন বাংলাদেশের আইন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম বলেন, ‘আমার বিশ্বাস এখন উনি (অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়ার বার) রিভিউ করে নিঃসন্দেহে উনি পাবেন যে সে (রাশেদ চৌধুরী) এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো।’
এ বছরের এপ্রিলে জাতির পিতার খুনি মাজেদকে গ্রেফতার করে ফাঁসি কার্যকর করে সরকার। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু এপ্রিলে তাকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রে রাশেদ চৌধুরী ও পলাতক নূর চৌধুরী কানাডায় অবস্থান করছেন। আর আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান এখনো জানা যায়নি।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়