ঢাকা, ২০২১-০৫-০৭ | ২৪ বৈশাখ,  ১৪২৮
সর্বশেষ: 
কুরআনের আয়াত বাতিলে ‘ফালতু’ রিট করায় আবেদনকারীকে জরিমানা আদালতের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড ওয়াক্ত ও তারাবি নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ২০ জন বিদেশে মারা গেছে ২৭০০ বাংলাদেশি আর্থিক ক্ষতি মেনেই সাঙ্গ হলো বইমেলা সুন্দরী মডেলের অপহরণ চক্র ! মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিপ্লবে দেশ যুক্তরাজ্যে করোনার আরও মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ বিরতিতে অক্সফোর্ডের টিকা বেশি কার্যকর সবাই সপরিবারে নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিন নিন: প্রধানমন্ত্রী শেষ রাতে দু’রাকাত নামাজ জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে নতুন করোনাভাইরাস আতঙ্কে ইউরোপ-আমেরিকার শেয়ারবাজারে ধস জুনের মধ্যে আসছে আরও ৬ কোটি করোনার টিকা বাড়িভাড়ায় নাভিশ্বাস, ফের বাড়ানোর পাঁয়তারা অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-১৮ নির্বাচন আসন্ন

মজুমদার-মামুন দ্বন্দ্বে হতাশা!

প্রকাশিত: ০২:৪৪, ১ মে ২০২১  



        
আজকাল রিপোর্ট          
মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের সম্ভাবনাময় নির্বাচনী আসন বঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট ১৮। বাংলাদেশি ভোটারদের সক্রিয় অঙ্কগ্রহণ ও প্রার্থীদের সমঝোতার মাধ্যমে সিটি কাউন্সিলের এ আসনটিতে কমিউনিটির একক প্রার্থী হলে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব। সিটি হল পেতে পারে বাংলার এক গর্বিত মুখ। ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করতো এ বিজয়। কিন্তু কমিউনিটির বিভাজন বারবার তাতে কালিমা মেখে দিচ্ছে। পিছিয়ে পড়ছে নতুন এই উদীয়মান কমিউিনিটি।
গেল বছর জামাইকার ডিস্ট্রিক্ট ২৬ নির্বাচনেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। ব্রঙ্কস এলাকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে পরিচিত মুখ মোহাম্মদ এন মজুমদার। মূলধারায় কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। কমিউনিটি বোর্ডেও কাজ করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। তাঁর প্রার্থীতা ঘোষণা চমক আনলেও হোঁচট খেলেন অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই। তাঁর পথে কাঁটা হয়ে আসলেন মূলধারায় তরুণ রাজনীতিক মির্জা মামুন। এলাকায় ব্যাপক পরিচিত না থাকলেও সিলেট বিভাগের লোকজনের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক কিছু সমালোচনা থাকলেও নতুনদের মধ্যে তাঁকে নিয়ে রয়েছে বেশ আগ্রহ। পক্ষান্তরে কমিউনিটি ছাড়াও হিসপানিক ও ব্ল্যাক কমিউনিটিতে মজুমদারের রয়েছে পদচারণা।
মির্জা মামুনের দাবি, মূলধারার স্টেট সিনেটর লুইস তাঁর জন্য কাজ করছেন। সিটি কাউন্সিলম্যান নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ হাজার ভোট। গত নির্বাচনে লুই সেফুলভিদা ৫ হাজার ভোট পেয়ে স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। এ নির্বাচনী এলাকাতে বাংলাদেশি ভোটারই আছেন ৫ হাজারের অধিক। তারা যদি জোট বেঁধে বাংলাদেশি প্রার্থী মোহাম্মদ এন মজুমদার বা মির্জা মামুনকে ভোট দেন তবে বিজয় নিশ্চিত- এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে উভয় প্রার্থীকে একসাথে কাজ করতে হবে। র‌্যাকিং সিস্টেমে ভোট হওয়ায় একজন ভোটার ৫ জন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। মামুনের যুক্তি বাংলাদেশিরা তাকে ও মজুমদার ভাই উভয়কে ভোট দিতে পারবেন। এতে ক্ষতির কিছু নাই। এ যুক্তি মানতে নারাজ মজুমদার। তিনি বলেন, ভোটারদের কিছু অঙ্কও যদি মামুনকে প্রথম চয়েস হিসেবে ভোট দেয় তা আমার জন্য ক্ষতিকর। মূল লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়বো। কারণ এ নির্বাচনে লড়াইটা হচ্ছে আমান্ডা ফারিয়াস, উইলিয়াম রিভারা ও আমার মধ্যে। মামুনের ভোট বাংলাদেশিদের বিজয়কে হাত ছাড়া করবে।
তবে মামুন বলছেন ভিন্ন কথা। তার ভাষায় মজুমদারের পায়ের নীচে মাটি নেই। মজুমদারকে সর্মথনকারী অনেকেই তাকে এখন সর্মথন দিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিলেটীদের মধ্যে মামুন বড় একটি অংশের ভোট পাবেন। এন্টি মজুমদার একটি অঙ্ক মামুনকে ভোট দিবে। মামুনের দাবি, বাংলাদেশি ৩ হাজার ভোটারকে যদি তিনি ভোট কেন্দ্রে নিতে পারেন তবে তার বিজয় নিশ্চিত। সমঝোতার মাধ্যমে একক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করা যায় কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মামুন বলেন, সময় পার হয়ে গেছে। মজুমদার ট্রেন মিস করেছেন। তার অহমবোধই এর জন্য দায়ী। নির্বাচনের জন্য সিটির কোন ফান্ড কিংবা ফান্ডরেইজ করতে না পারলেও নির্বাচন করছেন কিভাবে- জবাবে মামুন বলেন, আমার অনুসারিরা প্রয়োজনে অর্থ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করবে।
এদিকে, মজুমদার গুছিয়ে ও পরিকল্পনা মাফিক নির্বাচন পরিচালনা করছেন। নিয়োগ দিয়েছেন নির্বাচনী স্টাফ। ফান্ড রেইজ করেছেন ৪০ হাজার ডলার। সিটি থেকে নির্বাচনের জন্য পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার। জনাব মজুমদার আজকালকে বলেন, যে কারোর নির্বাচন করার অধিকার রয়েছে। তবে তার সম্ভাবনা কতটুকু? হঠাৎ করে প্রার্থী হলেইতো চলবে না? জনগণই মুল্যায়ন করবেন। তবে এটি কমিউনিটির জন্য ভালো নয়। আত্মঘাতী। আমার চেয়ে কোয়ালিফাই প্রার্থী থাকলে সরে যেতাম, বলেন মজুমদার।
বাংলাদেশি দুইজন প্রার্থীতার ব্যাপারে মির্জা মামুন বলেন, এতে কোন সমস্যা নেই। একই পদে মজুমদার ভাই লড়ছেন। একজন ভোটার সর্বোচ্চ ৫টি ভোট দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ভোটাররা আমাকে ও মজুমদার ভাইকে ভোট দিতে পারবেন। এতে যিনি বেশি ভোট পাবেন, তিনিই বিজয়ী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশি ২ জন প্রার্থী হলে কোন সমস্যা দেখছি না। তবে প্রাইমারিতে দলীয় মনোয়ন পেতে হলে প্রদত্ত ভোটের শতকরা ৫০ এর অধিক পেতে হবো।  
সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট ১৮ পার্কচেস্টার, ক্যাসলহিল, জেরেগা, সাউন্ডভিউ এবং হার্ডিংপার্ক নিয়ে গঠিত। ২ লাখ ভোটার অধ্যুষিত এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠির সিংহভাগই হিসপানিক। এরপরই রয়েছেন আফ্রিকান আমেরিকান। উদীয়মান কমিউনিটি হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশী, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী ও আরব আমেরিকান। আগামী ২২ জুন ডেমাক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচন। এলাকাটিতে শতকরা ৯০ ভাগ ভোটারই ডেমোক্র্যাটিক সর্মথক। যে কারণে সাধারণ নির্বাচনে  রিপাবলিকান পার্টির কোন প্রার্থী থাকে না। প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থীকে কাউন্সিলম্যান হিসেবে ধরে নেয়া হয়। এবারের প্রাইমারিতে ৮ জন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রয়েছেন। তারা হচ্ছেন- মোহাম্মদ এন মজুমদার, মির্জা মামুনুর রশীদ, আমান্ডা ফারিয়াস, ডারলিন জ্যাকসন, উইলিয়াম মুর, এলিউ লারা, মাইকেল বেল্টজার ও উইলিয়াম রিভারা।
বাংলাদেশী প্রার্থী মোহাম্মদ এন মজুমদার। তিনি  ৩২ বছর ধরে এই ডিস্ট্রিক্টে  বসবাস করছেন। তিনি বিগত ১১ বছর স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ড এর সদস্য, ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান এবং দুইবার অর্ন্তবর্তীকালীন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন, হাউজিং সমস্যার সমাধান এবং বর্ণ বৈষম্যের বিরূদ্ধে সোচ্চার তিনি। মজুমদারের নেতৃত্বাধীন সংগঠন বাংলাদেশ আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল এবং মজুমদার ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন, শিক্ষার প্রসার, হাউজিং সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করছে। তিনি টিউরো ল স্কুল থেকে আইনে মাস্টার্স ডিগ্রীধারী এবং একটি ল’ ফার্মসহ কয়েকটি ল’ ফার্ম পরিচালনা, কনসালট্যান্ট ও এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করছেন।
মির্জা মামুন ১৯৮৫ সাল থেকে ব্রঙ্কসে বসবাস করছেন। পার্ক চেস্টারের কনডোমোনিয়ামই তার স্থায়ী ঠিকানা। কমিউনিটিতে জুডিসয়াল ডেলিগেট হিসেবে কাজ করেন। গত ৩৫ বছর ধরে কাজ করছেন রিয়েলটর, কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও বিজনেসম্যান হিসেবে। এখন তিনি কমিউনিটির মুখ হিসেবে নিউইয়র্ক সিটি হলে কাজ করতে চান।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়