ঢাকা, ২০২০-১০-২০ | ৫ কার্তিক,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

প্রতারণা থেকে সাবধান থাকার পরামর্শ স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের

বাফেলোর দিকে ছুটছেন বাংলাদেশিরা

প্রকাশিত: ০২:৩৩, ১১ জুলাই ২০২০  



আজকাল রিপোর্ট
নিউইর্য়কের বাংলাদেশিরা ছুটছেন বাফেলোর দিকে। বাস, ট্রেন কিংবা প্রাইভেট কারে প্রতিদিনই তাদের এ যাত্রা। করোনা তাদের আটকাতে পারেনি। দেখে মনে হয়, করোনাই তাদের তাড়া করেছে। বাফেলোর কথা বললে আগে সবাই প্রশ্ন করতেন নায়েগ্রা ফলস দেখতে যাচ্ছেন? এখন বলেন, বাড়ি কিনতে যাচ্ছেন নাকি? সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে, বাফেলোতে মুভ করছেন?
বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই করোনাকালে বাফেলোতে মুভ করা কিংবা বাড়ি কেনার হার বেড়েছে বহুগুন। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এখন এটি করোনার মতোই আলোচনার অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। কে যাচ্ছেন? কে বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন? তাই এখন আলোচনার বিষয়।
গত ১৫ বছর হলো নিউইয়র্কের পশ্চিমের এই শহরটিতে বাংলাদেশিদের আনাগোনা শুরু। সেখানে এখন ২৫ হাজার বাংলাদেশির বসবাস। বাফেলো থেকে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক ‘বাফেলো নিউজ’ এর মতে, ৮ বছর আগেও বাফেলোর ব্রডওয়ে-ফিলমোর এলাকা ছিল জনমানবশূন্য। সন্ধ্যার পর কেউ ওই পথে পা বাড়াতো না। ব্লকের পর ব্লক পরিত্যক্ত ছিল। বাংলাদেশিরা  এসে চেহারাটাই পাল্টে দিয়েছে। নতুন করে জেগে উঠেছে ব্রডওয়ে-ফিলমোর। ১০ বছর আগে শুধু বাড়ি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বাংলাদেশিরা। ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় বাড়ি কেনা যেত অনায়াসেই। নিউইর্য়কে যারা ট্যাক্সি চালাতেন তারাই প্রথমদিকে বাড়ি কিনতে শুরু করেন। অনেকেই একের অধিক বাড়ি কিনে ভাড়া দিয়ে রাখতেন। আয়-রোজগারও কম হয়নি। এমনও অনেকে রয়েছেন যার ১০ থেকে ২০টি বাড়ি রয়েছে। অনেকে ট্যাক্সি ব্যবসায় টায়ার্ড হয়ে পড়েছেন কিংবা অবসরে গিয়েছেন। তারা বেছে নিয়েছেন বাফেলোকে। নগদ টাকায় তিনটা বাড়ি কিনে ২টি ভাড়া দিয়েছেন। একটিতে নিজে বাস করছেন। ভাড়ার টাকায় ঝামেলাবিহীন সংসার চালাচ্ছেন। বাফেলোতে রয়েছে নিউইর্য়কের বৃহৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। যা কিনা ইউনিভার্সিটি অব বাফেলো নামে পরিচিত। ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল শিক্ষায় যার মান অনেক উন্নত। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্টেট টিউশন ফ্রি’র অন্তর্ভূক্ত। ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেও অনেকে বাফেলোর পথে পা বাড়াচ্ছেন। রংপুরের সন্তান ব্রঙ্কসের রিপন ট্যাক্সি চালাতেন সিটিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাফেলোতে মুভ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বাফেলো ঘুরেও এসছেন।
করোনাকালে বাফেলোমুখী বাংলাদেশিদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। ট্যাক্সি ড্রাইভিং-এ ধ্বস, উবার বা লিফটে ত্রাহি অবস্থা। সংসার খরচ সামলানোর চিন্তায় অনেকেই উদ্বিগ্ন। স্টিমুলাস চেকের প্রতি সপ্তাহে ৬’শ ডলার জুলাই মাসে বন্ধ হয়ে যাবে। সামনে সুদিনের কোন আভাস নেই। সে কারণেই ব্যয়বহুল নিউইর্য়ক শহর ছাড়ার পথে পা বাড়াচ্ছেন স্বল্প আয়ের বাংলাদেশিরা। বাফেলোতে ৬ থেকে ৭ ’শ ডলারে ৩ বা ৪ বেডরুমের বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। এখনও ৬০ থেকে ৮০ হাজার ডলারের মধ্যে বাড়ি কেনা সম্ভব। কাজও পাওয়া যায় অনায়াসেই। এসব বিবেচনাই বাফেলোমুখী হবার কারণ মনে করছেন অনেকেই। গত জুনেই মুভ করেছেন ঢাকা ও নিউইর্য়কের সাংবাদিক আবিদুর রহিম। জ্যাকসন হাইটসের সিংহ মার্কা বিল্ডিং-এ ২০ বছর ধরে বসবাস করেন উল্লাপাড়ার মোতাহার হোসেন। এই বিল্ডিংয়ে নিজের একটা এপার্টমেন্ট থাকার পরও তিনি চলে যাচ্ছেন। বাফেলোতেও তার দুটি বাড়ি রয়েছে। নিজের ম্যাডিলিয়নে গাড়ি চালাতেন। ব্যবসা মন্দা। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার কথা চিন্তা করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব বাফেলোর সভাপতি ফয়জুর রহমান। দীর্ঘ ১৩ বছর হলো বাফেলোতে তার বসবাস। জন্মস্থান সিলেটের গোলাপগঞ্জে। আমেরিকায় নিউইর্য়ক সিটিতে আগমন। তারপর বাফেলো। সেখানে ১৫টি বাড়ির মালিক। আজকালকে তিনি বলেন, প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার আসছে নিউইয়র্ক থেকে। চোখে পড়ছে ব্লকে ব্লকে বাংলাদেশিদের আগমন। করোনাকালে গত দুই মাসে এ হার ব্যাপক হারে বাড়ছে। প্রবাসীদের আরেকটি সংগঠন ‘আমেরিকান বাংলাদেশি কমিউনিটি অব বাফেলো’। যার সভাপতি আবুল হাশেম। তিনি আজকাল প্রতিনিধিকে বলেন, এমন কোনদিন নেই সিটি থেকে লোকজন আসছেন না। কেউ আসছেন বাড়ি কিনতে। কেউ ভাড়া নিয়ে হলেও মুভ করতে। এই ট্রেন্ডটা করোনাকালে বহুগুণে বেড়ে গেছে। লিস্টিং এ বাড়ি বিক্রির তালিকা থাকলেও বাস্তবে বাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না। মার্কেটে আসার সাথে বিক্রি হয়ে যায়। এমতাবস্থায় এখানে প্রতারক এজেন্ট ও দালাল তৈরি হয়েছে। নতুন যারা আসছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ তাড়াহুড়া না করে সাবধানে ও দেখে শুনে বাড়ি কিনুন।
বাফেলো থেকে প্রকাশিত হচ্ছে একটি বাংলা পত্রিকাও। যার সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম। তিনি নিউইর্য়ক শহর থেকে প্রকাশিত ‘বাংলা পত্রিকা’র অন্যতম অংশীদার ছিলেন। কয়েক বছর আগেই বসত গেড়েছেন বাফেলোতে। তিনি আজকালকে বলেন, এই শহরে প্রতিদিনই বাংলাদেশিরা মুভ করছেন। নিউইর্য়কের মতো এখানেও এলাকাভিত্তিক সংগঠন গড়ে উঠছে। গঠিত হয়েছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও মুনা’র শহর শাখা। বাংলাদেশিদের তত্ত্বাবধানে স্থাপিত হয়েছে ৬টি মসজিদ। চালু হয়েছে বাংলা স্কুল। প্রতিদিনই আমি সিটি থেকে পরিচিতদের ফোন পাই। বাফেলোতে তাদের মুভ হবার আগ্রহের কথা শুনতে পাই। তবে এক শ্রেণীর অসৎ রিয়েল স্টেট এজেন্ট প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছেন। বাড়ি বিক্রির কন্ট্রাক্ট সাইন হবার পরও বেশি টাকার অফারে অন্যত্র বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেন। এক্ষেত্রে ক্রেতাদের সাবধানে এগুতে হবে।

 

নিউইয়র্ক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়