ঢাকা, ২০২০-১১-২৮ | ১৪ অগ্রাহায়ণ,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

বাইডেনের কাছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা

প্রকাশিত: ০৪:৪০, ৭ নভেম্বর ২০২০  


           
    
আজকাল রিপোর্ট
ট্রাম্প শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে আমেরিকায়। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সূতিকাগার। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র। রাজনৈতিক পরিভাষায় না হলেও বিশ্ব মোড়ল হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে আমেরিকার। দেশটির ২৪৪ বছরের গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় সবচেয়ে উত্তেজনা ও অভিযোগের পাহাড় গড়েছেন শাাসক দলের প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোট গণনার শেষ লগ্নে যেখানেই হারার সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরেছেন সেখানেই ভোট গণনা বন্ধ রাখতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে আদালত তা আমলে নেননি। ভোট যুদ্ধে নিশ্চিত বিজয়ী জো বাইডেন ও কমালা হারিস। ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের আগাম বার্তায় বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ আমেরিকায় বসবাসরত বিভিন্ন ইমিগ্র্যান্ট ও মাইনোরিটি কমিউনিটিতে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করেছে। বিজয়ের পতাকা হাতে দরজায় দাঁড়িয়ে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসা মাত্র বিজয় উৎসবে নেমে পড়বেন প্রবাসী বাংলাদেশিসহ আমেরিকান জনগোষ্ঠী।
গত ৪ বছরের গুমোট রাজনীতি, ইমিগ্রেশন সঙ্কট, বর্ণ বৈষম্য, বর্হি বিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর চরম কুঠারাঘাতের অবসান শুরু হলো। শুরু হবে বাইডেন-কমালার নেতৃত্বে নতুন এক ইতিহাসের। আজকালের পক্ষ থেকে বাইডেনের এগিয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা কি তা জানতে চাওয়া হয়েছিল কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের কাছে। পাঠকদের জন্য তা এখানে তুলে ধরা হলো।
বঙ্গবন্ধু পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী আজকালকে বলেন, আমার বিশ্বাস বিজয় নিশ্চিত। শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষনার অপেক্ষামাত্র। এ বিজয়ে জো বাইডেন ও কমালা হ্যারিসকে প্রথমেই অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি প্রত্যাশা করবো ট্রাম্পের একলা চলা নীতি বাইডেন পরিহার করবেন। সারা বিশ্বে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। আশা করি তিনি তা পুনরুদ্ধার করবেন। করোনা  মহামারিকে নতুন সরকার দক্ষতার সাথে মোকাবেলা করতে পারবে।বাইডেন সব সময়ই শান্তিপূর্ন আন্দোলনের পক্ষে। আমি প্রত্যাশা করবো তিনি আন্দোলনের নামে যারা সহিংসতা ছড়াবে, লুটতরাজ করবে তাদের কঠোর হস্তে দমন করবেন।
প্রবীন সাংবাদিক মোহাম্মদ উল্লাহ আজকালকে বলেন, এ বিজয় আমেরিকার সাধারন জনগোষ্ঠীর বিজয়। সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের বিজয়। ইমিগ্রান্ট সম্প্রদায়ের বিজয়। আশা করি বাইডেন প্রশাসন সোশাল জাস্টিস এর ভিত্তিতে ইমিগ্রান্টদের অমিমাংশিত ইস্যুগুলো ফয়সালা করবেন। ওবামার কেয়ারকে সলিডিফাই করবেন। ইরানের সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হবেন। ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনে ফিরে যাবেন। পরিবেশ চুক্তিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সাথে এক সাথে কাজ করবেন। ট্রাম্পের এক চোখা যুদ্ধংদেহি মনোভাব পরিহার করে তিনি শান্তির পথে পা বাড়াবেন। এটাই আমার প্রত্যাশা।
বাংলাদেশি আমেরিকান রিপাবলিক্যান এলায়েন্স এর চেয়ারম্যান নাসির আলী খানের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি আজকালকে বলেন, মেইল ইন ব্যালট করে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এখন আমেরিকা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। আরব বিশ্বে মুসলমান ভাইরা মারা যাবে। ট্রাম্পের আমলে আমেরিকা কোথাও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েনি। বরং ট্রাস্প ইজরাইলের সাথে আরব বিশ্বের শান্তি চুক্তিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছে। সে জন্য তার নোবেল পুরস্কার পাবার কথা ছিল। একজন বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট হিসেবে বাইডেন প্রশাসনের কাছে আপনার প্রত্যশা কি? জবাবে জনাব পল বলেন, আমরা আর্ন করবো। আর বাইডেন সে টাকা নিয়ে একটি শ্রেনীকে খাওয়াবে। ফুডস্ট্যাম্প দেবে। সোসালিস্ট দেশ বানাবে। একটা রুটির জন্য আমি পল খানকে লাইন দিতে হবে। গাড়ি চালাতে পারবো না। বাইডেনদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।
জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র’র সাবেক সাধারন সম্পাদক জিল্লুর রহমান আজকালকে বলেন, ইন্টারন্যাশনাল স্টেজে আমেরিকার ভাবমূর্তি একবারেই নাজুক। আমি বিশ্বাস করি বাইডেন সারা বিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনবেন। আমার বিশ্বাস বাইডেন প্রশাসন ইকোনমি ও সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে ভালো করবেন। ট্রাম্প পাশ করলে ইমিগ্র্যান্টদের এ দেশে থাকা কঠিন হয়ে যেত। আমার ধারনা আমেরিকায় বসবাসরত সারা বিশ্বের ইমিগ্র্যান্টরা ট্রাম্পের হাত থেকে রক্ষা পেল।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরী আজকালকে বলেন, আমার বিশ্বাস বাইডেনের বিজয়ে বর্হিবিশ্বে আমেরিকার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার হবে। ইমিগ্র্যান্টরা এখন স্বস্তিতে ও ভয়ভীতি ছাড়া বাস করতে পারবেন। ট্রাম্পের শাসনামলে পুরো ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটি উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে ছিল। সবাই স্বস্তিতে ফিরলেন।
বাংলাদেশ সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার আজকালকে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইমিগ্র্যান্ট সমপ্রদায়কে একবারে স্কুইজড করে ফেলেছিলেন। ইমিগ্র্যান্টদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত আমেরিকা হয়ে উঠেছিল বিভীষিকাময়। আমি আশাকরি বাইডেন প্রশাসনের আমলে ইমগ্র্যিান্টরা মর্যাদার সাথে বাস করতে পারবে।
মেরি জোবায়দা আমেরিকায় মূলধারা রাজনীতিতে সক্রিয়। আজকালকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি লেফটিস্ট। বাইডেনকে ভোট দিয়েছি ট্রাম্পকে হারানোর জন্য। শ্রেনীগোষ্ঠীর বিবেচনায় তার দুজন একই। একজন বড় ই--। একজন ছোট। তবে একজন বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট হিসেবে বাইডেন প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা তারা ইমিগ্রান্টদের ক্ষেত্রে ‘ পাবলিক চার্জ’ আইনটি রহিত করবেন। এটা করলে বাংলাদেশি ইমিগ্রান্টরা অনেক উপকৃত হবেন।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়