ঢাকা, ২০২০-১১-২৮ | ১৪ অগ্রাহায়ণ,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

কোভিড-১৯ দ্বিতীয় ঢেউ

বাংলাদেশে সব বিমানবন্দরে উচ্চ সতর্কতা

প্রকাশিত: ০৪:০৯, ২১ নভেম্বর ২০২০  



মাসুদ হোসেন, ঢাকা থেকে
বাংলাদেশে হঠাৎ করে কোভিড-১৯ সংক্রমনের হার বেড়ে গেছে। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এটাকে বিশেষজ্ঞরা করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ বলে অভিহিত করেছেন। শীতকালে ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়বে বলে বেশ কিছুদিন যাবত আশঙ্কা করা হচ্ছিল। যদিও এখনও শীত তেমন শুরু হয়নি। এরিমধ্যে কোভিড-১৯ প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার সকল বিমানবন্দরে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে বিমান।
কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পাঁচ গন্তব্যে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ব্যাংকক, ম্যানচেস্টার, কাঠমান্ডু, মাস্কাট ও কুয়েত রুটে বিমানের চলাচল স্থগিত করা হয়। পরিস্থিতি উন্নতির সাপেক্ষে ফ্লাইট চালুর দিন ও তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে।
কোভিড-১৯ মহামারি দেখা দিলে গত মার্চ মাস থেকে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায় বিমানের। পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এরই মধ্যে কয়েকটি রুটে ফের ফ্লাইট চালু করেছে বিমান। তবে ব্যাংকক, ম্যানচেস্টার, কাঠমান্ডু, মাস্কাট ও কুয়েত রুটে এখনও ফ্লাইট চালু করেনি বিমান। এর আগে গত ১ নভেম্বর ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করে বিমান। সবশেষ বৃহস্পতিবার আরেক দফায় ফ্লাইট স্থগিতের সময় বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।  
কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘বাবল ফ্লাইট’ চালু করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটে তৃতীয় কোনও দেশের যাত্রী যেতে পারবেন না। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চীনের সাউদার্ন এয়ারলাইন্স এবং বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট চালু রাখলেও এসব ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে কোনও যাত্রী নেয়া হয় না। শুধু চীন থেকে বাংলাদেশে যাত্রী আসতে পারেন। চীনে কেউ যেতে হলে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ থেকে কিছু দিন আগে অনেকে নেগেটিভ সনদ নিয়ে গেলেও সেখানে পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়ে। চীনের সরকার নিয়ম করেছে কোনও এয়ারলাইন্স একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত বহন করলে সাত দিন ওই এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। দশ জনের বেশি কোভিড-১৯ পজিটিভ যাত্রী বহন করলে এক মাস ফ্লাইট বন্ধ রাখবে। নিয়মের এমন কড়াকড়ির কারণে বাংলাদেশ থেকে খালি ফ্লাইট যায়। ঢাকায় আসার সময় যাত্রী বহন করে।
বাংলাদেশে হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিদেশ থেকে আসা সকল যাত্রীকে কোভিড নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ নেগেটিভ সনদ না নিয়ে এলে তাদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছে অভিযান।
বাংলাদেশে বিগত মার্চ মাসে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলেও জুন-জুলাইয়ে তা পিকে উঠেছিল। তারপর সংক্রমণ ও মৃত্যু কমতে শুরু করে। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে বাংলাদেশেও শীতকালে তা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। প্রথমবার করোনা ভাইরাসের সময়ে বাংলাদেশে প্রায় টানা তিন মাস লকডাউন ছিল। এতে দেশটির অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। অনেকে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যান। সীমিত আয়ের অনেক মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। ঢাকার রাস্তায় অনেক স্বচ্ছল পরিবারের মহিলাকেও বোরখা পরে সাহায্যের জন্য হাত পাততে দেখা যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালু করলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ। বোরো উৎপাদনে বাম্পার ফলন হওয়ায় মহামারীর প্রথম ধাক্কা সামাল দেয়া গেলেও বারবার বন্যার ফলে আমন ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় শাক-সব্জিও। ফলে ভরা মওসুমেও শাক-সব্জির দাম চড়া। চালের দামও অনেক বেশি। মধ্যবিত্তের জীবনে নাভিশ্বাস অবস্থা শুরু হয়ে গেছে। সার্বিক অথনীতির পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার নতুন করে লকডাউনে যাচ্ছে না। তবে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোতে মারাত্মকভাবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিমানবন্দরে কড়াকড়ি বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার অন্য অনেক দেশের চেয়ে কম। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে চার লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ছয় হাজার ২৭৫ জন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার লকডাউনের বদলে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছে। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপারে জোর দেয়া হচ্ছে বেশি। তবে মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের ভয়-ভীতি কমে গেছে। হাটে-বাজারে, রাস্তায়, যানবাহনে মানুষ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না। সরকার বাধ্য হয়ে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে মোবাইল কোর্ট নামিয়েছে। মাস্ক না পরার জন্য জরিমানা করা হচ্ছে। মাস্ক না পরলে সরকারি কোনও দফতরে কোনও সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে, স্কুল-কলেজ খুলে দিয়ে বাচ্চাদের মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারি না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এখানে স্কুল খোলার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমেরিকাসহ বিভিন্ন স্থানে স্কুল খুলে তারা আবার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ও সংসদের দশম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশেও স্কুল খোলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হওয়ায় ঝুঁকি বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় স্কুল খুলে বাচ্চাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারি না। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী সবাইকে মাস্ক পড়ার আহ্বান জানান।
এ সময় স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। এর আগে বিরোধী দলের উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নেই মন্তব্য করে তা খুলে দেয়ার প্রস্তাব করেন।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়