ঢাকা, ২০২০-১০-২৬ | ১০ কার্তিক,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা

প্রকাশিত: ০৩:৪৬, ১৭ অক্টোবর ২০২০  

 
আজকাল রিপোর্ট     
আমেরিকার গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বর্ণ বৈষম্য, অর্থনীতি ও বিশ্ব রাজনীতি এক যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে। ইমিগ্র্যান্টদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত আমেরিকা আজ ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী রাষ্ট্রের তকমা নিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক তরফা ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী অবস্থান শংকিত করছে প্রবাসী জনগোষ্ঠীকে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা ট্রাম্প জমানায় এক ধরনের আতংকের মধ্যেই বাস করছেন। হোয়াইট সুপ্রিমেসি ও বর্ণ বৈষম্য আমেরিকার মূল চেতনা ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আঘাত করছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন এক কঠিন বার্তা নিয়ে আসবে ৩২ কোটি আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সামনে। দাঙ্গা ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকায় বসবাসরত ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি কড়া নজর রাখছেন রাজনীতির গতিবিধির ওপর। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে তারা উদগ্রীব। তারা তাকিয়ে আছেন ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের দিকে। অধিকাংশ বাংলাদেশি বছরের পর বছর ডেমোক্র্যাটদের ভোট দিয়ে আসছেন। এবার বিশেষ করে নিউইয়র্কে  কিছু বাংলাদেশির মুখে ভিন্ন সুর শোনা যাচ্ছে। যার প্রধান কারণ বলা হচ্ছে, আইনশৃংখলা পরিস্থতিতে ডেমোক্র্যাট মেয়র ও গর্ভনরের ব্যর্থতা। এর  নেতিবাচক প্রভাব হয়তো পড়ছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। সাপ্তাহিক আজকাল এর পক্ষ থেকে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল। পাঠকের কাছে তা তুলে ধরা হলো।
শাহ নেওয়াজ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিত নাম। ব্যবসা-বাণিজ্যে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। কমিউনিটির প্রতিটি ইস্যুতে তার সরব উপস্থিতি। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার সরব উপস্থিতি। তার কাছে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি আজকালকে বলেন, কাকে ভোট দেব এখনও স্থির করিনি। একজন ইমিগ্র্যান্ট ও মুসলমান হিসেবে ট্রাম্পকে সর্মথন করতে পারছি না। আমার ধর্মকে একটি টেররিস্ট ধর্ম হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তার মুখের কোন লাগাম নেই। তবে ওভার অল পরিস্থিতি দেখলে ট্রাম্প কিন্তু ব্যাড কেনডিডেট নয়। ইকোনমির কথা চিন্তা করলে সে কিন্তু পারফেক্ট। নিউইয়র্কে আমরা অধিকাংশই ডেমোক্র্যাট। ইমিগ্র্যান্ট ও মাইনোরিটি কমিউনিটির সদস্য হিসেবে বাংলাদেশিরা বাইডেনকেই চাচ্ছেন। আমি এখনও মাইন্ড সেট করিনি। তবে ভোটের আগে মনস্থির করবো।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এম এন মজুমদারের সরব উপস্থিতি। কেউ আক্রান্ত হলে, বিপদে পড়লে কিংবা মারা গেলে মজুমদার ছুটে যান সবার আগে। করোনা মহামারিকালে বাংলাদেশিদের পাশে সারাক্ষণ তাকে দেখা গেছে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে বা ইউটিউবে উপদেশ ও করণীয় নিয়ে মানুষের সামনে হাজির ছিলেন। মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় একজন বাংলাদেশি। ২০২১ সালের নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনে কাউন্সিলম্যান পদে তিনি লড়বার ঘোষণা দিয়েছেন। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আজকালকে বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট শুধু আমেরিকার প্রধান হিসেবে কাজ করেন না। তিনি বিশ্বের অভিাভাবক হিসেবে কাজ করেন। এমতাবস্থায় ট্রাম্পের মতো মাথা গরম একজন মানুষকে কেউ প্রেসিডেন্ট হিসেবে আর দেখতে চায় না। জো বাইডেনের প্লাটফরম খেটে খাওয়া মানুষের প্লাটফরম। ইমিগ্র্যান্টদের প্লাটফরম। মুসলমানদের প্লাটফরম। জো বাইডেনকে আমাদের বিজয়ী করতে হবে। ‘অনেকে বলছেন, বাইডেন নির্বাচিত হলে নিউইয়র্কের আইনশৃংখলার চরম অবনতি হবে?’ জবাবে জনাব মজুমদার বলেন, সুন্দর একটি প্রশ্ন। তবে খেয়াল করবেন বাইডেন ও হ্যারিস বার বার বলছেন, অরাজকতা কখনই আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। তিনি পুলিশের ফান্ডকে ডিফান্ড  করার বিপক্ষে কড়া ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। নৈরাজ্য ও অরাজকতা যেটা হয়েছে তার পেছনে রয়েছে ট্রাম্প, বার্নি স্যান্ডার্স ও ওকাসিও’র লোকজন। তারা সাবোটাজ করতে চাইছে। নির্বাচনের কারণে বাইডেন অনেক কিছু সহ্য করে নিচ্ছেন। জেতার পর তিনি কঠোর হস্তে সকল নৈরাজ্য দমন করবেন।
বাংলাদেশ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ, কমিউনিটি বোর্ড-১২ এর সদস্য ও মূলধারায় সক্রিয় রাজনীতিক মোহাম্মদ আলী আমেরিকান নির্বাচন প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশিরা আগের চেয়ে এখন বেশি আমেরিকান রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী। নতুন প্রজন্মসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এবারের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং খোঁজ খবর রাখছেন। এটা একটা নতুন কমিউিনিটির জন্য ইতিবাচক দিক। ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে আমাদের উচিত হবে জো বাইডেনকে সর্মথন দেয়া। পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে তার ৪৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি সফল ছিলেন। আমি মনে করি, তার পাল্লাই ভারি। আর প্যানডামিক নিয়ে ট্রাম্প যা করেছেন তা দেখলেই তো ভোট প্রশ্নে সবাই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও মার্কস হোম কেয়ার এর ব্যবস্থাপক আলমাস আলী আজকালকে বলেন, বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে বাইডেনকেই ভোট দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কমালা হারিসকে সে রানিংমেট করায় আমি সরে এসেছি। কমলা ইজরাইলের দালাল। ট্রাম্প আর যাই হোক আমেরিকার স্বার্থটাকে সিরিয়াসলি দেখে। সে প্রেসিডেন্ট থাকলে ইকোনমি ভালো হবে। সে কারণে এবার আমরা ট্রাম্পকেই ভোট দিব।
কর্ণফুলি ট্যাক্স এর কর্ণধার মোহাম্মদ হাশেম আজকালকে বলেন, জো বাইডেন নির্বাচিত হলে মধ্যবিত্ত আমেরিকানদের জন্য ভালো। তারা অনেক ট্যাক্স ব্রেক পাবেন। চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬শ ডলার পর্যন্ত পাওয়া যাবে। ফার্স্টটাইম হোম বায়াররা এককালীন ১৫ হাজার ডলার অনুদান পাবেন। স্টুডেন্টদের লোন মওকুফ হবে। আর ট্রাম্প জিতলে লাভবান হবেন ধনীরা বেশি। তাদের ট্যাক্স ২২% থেকে কমে ১৫% হবে। মেড ইন আমেরিকার আওতায় ট্যাক্স ক্রেডিট পাবে। তাদের ক্যাপিটাল গেইন এর ওপর ট্যাক্স কমবে। আর বাইডেন জিতলে যাদের ইনকাম বছরে ৪শ হাজার ডলারের ওপরে তাদের ট্যাক্স বাড়বে। আর যাদের এর নীচে তাদের ট্যাক্স কমবে। জনাব হাশেম বলেন, বিশ্ব পরিমন্ডলের বিবেচনায় জো বাইডেন ভালো প্রার্থী। আর শুধু আমেরিকার কথা চিন্তা করলে ট্রাম্প বেটার। তবে এবারের ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ট্রাম্প হারলে গদি ছাড়বে কিনা আমার সন্দেহ আছে।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়