বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
২৬

ফুটবল বিশ্বকাপ

ফিরে দেখা বিশ্বকাপ ফুটবল

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২২  



আজকাল ডেস্ক
১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজন করেছিল ফিফা। সেবার প্রতিবেশী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় স্বাগতিকরা। এরপর প্রতি ৪ বছর অন্তর এই আসর নিয়মিত বসছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে বসেনি ১৯৪২ এবং ১৯৪৬ বিশ্বকাপ আসর। এ পর্যন্ত ২০ বিশ্বকাপ আসরে ৮টি দেশ শিরোপা জিতেছে। সর্বোচ্চ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। একমাত্র ব্রাজিলই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সব আসরে অংশ নিয়েছে। ইতালি ও জার্মানি চারবার (পশ্চিম জার্মানি ৩), আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও ফ্রান্স দু’বার করে শিরোপা জিতেছে। ইংল্যান্ড ও স্পেন শিরোপা জিতেছে একবার করে। ২০ আসরে মাত্র ৬ বার স্বাগতিক দেশ জিতেছে বিশ্বকাপ।
১৯৭৪ বিশ্বকাপ: পশ্চিম জার্মানি চ্যাম্পিয়ন: পশ্চিম জার্মানি, রানার্স আপ: নেদারল্যান্ডস
তিনবার বিশ্বকাপ জেতায় ১৯৭০ সালে চিরতরে ‘জুলেরিমে’ কাপ দিয়ে দেয়া হয় ব্রাজিলকে। তাই দশম বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে আরেকটি নতুন ট্রফি তৈরির প্রয়োজন পড়ে। ফিফা একটি নতুন কাপ তৈরি করে- নাম দেয়া হয় ‘ফিফা কাপ’। এ বছর কাপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে ফিফার সভাপতিরও বদল হয়। স্যার স্ট্যানলি রাউসের ১৩ বছরের দায়িত্ব পালনের পর তার স্থলাভিষিক্ত হন ব্রাজিলের জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জ। এ সময় আরও একটি সিদ্ধান্ত হয়- কোনো দেশ ৩ বার বা তারও বেশি চ্যাম্পিয়ন হলেও কাপটি চিরতরে নিতে পারবে না। এই বিশ্বকাপে স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানি সেরা বাজি হিসেবে খেলে। পশ্চিম জার্মানি ছাড়াও নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ড নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। নেদারল্যান্ডসের কোচ রিনাস মিশেল ‘টোটাল ফুটবল’ নামে নতুন এক কৌশল উদ্ভাবন করেন। পুরো দলকে একইসঙ্গে আক্রমণে যাওয়া ও রক্ষণ সামলানোর দুরূহ কাজটি অনুপম দক্ষতায় সম্পন্ন করার কৌশলই ছিল টোটাল ফুটবল। এই বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির অধিনায়ক বেকেনবাওয়ার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথম ফিফা কাপ জয়ের অনন্য কৃতিত্ব দেখান। ফাইনাল ম্যাচটি ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পশ্চিম জার্মানির বিপদসীমার মধ্যে ফাউল করা হয় ডাচ স্ট্রাইকার ইয়োহান ক্রুয়েফকে। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। এতে গোল করে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপের ফাইনাল প্রথমবারের মতো পেনাল্টি দেখে দর্শকরা। তবে পরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নেদারল্যান্ডসকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানি।  
১৯৭৮ বিশ্বকাপ: আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন: আর্জেন্টিনা, রানার্স আপ: নেদারল্যান্ডস
১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসরে ফাইনাল খেলেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেবার উরুগুয়ের কাছে হেরে শিরোপা ছুঁতে ব্যর্থ হয় তারা। ৪৮ বছর পর নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ। এ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী ছিল না অনেকে। বিশেষ করে ১৮ বছর বয়সী তরুণ স্ট্রাইকার দিয়েগো ম্যারাডোনাকে বিশ্বকাপের দলে না রাখায় অনেকে ছিলেন ক্ষুব্ধ। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক আর্জেন্টিনাই নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জিতে নেয় নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে। ১৯৭৮ বিশ্বকাপেই নকআউটপর্বে প্রথম পেনাল্টি শটের নিয়ম চালু করে ফিফা। ১২০ মিনিটে খেলা নিষ্পত্তি না হলে পেনাল্টিতে শেষ হয় ম্যাচ। ওই বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বিভিন্ন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়ে শিরোপাধারী জার্মানরা। তবে মেক্সিকোকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসাবে বিশ্বকাপে ম্যাচ জয়ের ইতিহাস গড়ে তিউনিসিয়া। পাঁচ মহাদেশ থেকে ১৬টি দল অংশ নেয়। পাঁচ শহরের ৬টি ভেন্যুতে খেলা হয়। মোট গোল ১০২ (ম্যাচ প্রতি ২.৬৮ গোল)। সর্বোচ্চ গোলদাতা মারিও কেম্পেস (ব্রাজিল, ৮ গোল)। ম্যাচপ্রতি দর্শক সংখ্যা ৪০,৬৭৯জন।
১৯৮২ বিশ্বকাপ: স্পেন চ্যাম্পিয়ন: ইতালি, রানার্স আপ: পশ্চিম জার্মানি
দ্বাদশ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পায় স্পেন। জাঁকজমকপূর্ণ ও নয়নাভিরাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বার্সেলোনায়। ৫০ মিনিট ধরে চলে এ অনুষ্ঠান। এ বিশ্বকাপের জন্য বাছাইপর্বে অংশ নেয় সর্বাধিক ১০৬টি দেশ। অংশগ্রহণকারী ২৪ দলকে ৪টি গ্রুপে ভাগ করা হয়। লীগ ভিত্তিতে খেলা হয়। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দল সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পায়। পশ্চিম জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্যে সেমিফাইনালকে শতাব্দীর সেরা খেলা বলা যায়। ১২০ মিনিটেও খেলার ভাগ্য নির্ধারণ হয়নি। অপেক্ষা টাইব্রেকারের। তাতেও কোন ফয়সালা হলো না। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে খেলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় সাডেন ডেথ পথকেই বেছে নিতে হয়। উত্তেজনায় ঠাসা ওই ম্যাচে পশ্চিম জার্মানি ৮-৭ গোলে জিতে ফাইনালে ওঠে। অপর সেমিতে পোল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পায় ইতালি। পশ্চিম জার্মানি-ইতালির মধ্যকার ফাইনালে ৩-১ গোলে জয় পায় ইতালি।

 

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল