ঢাকা, ২০২১-০৯-২৬ | ১১ আশ্বিন,  ১৪২৮
সর্বশেষ: 
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র বিচার ১২৩ বছর আগে গ্রেপ্তার গাছ, শেকলে বন্দি আজো ফ্রান্স প্রেসিডেন্টকে চড় মারার মাশুল কতটা? কুরআনের আয়াত বাতিলে ‘ফালতু’ রিট করায় আবেদনকারীকে জরিমানা আদালতের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড ওয়াক্ত ও তারাবি নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ২০ জন বিদেশে মারা গেছে ২৭০০ বাংলাদেশি আর্থিক ক্ষতি মেনেই সাঙ্গ হলো বইমেলা সুন্দরী মডেলের অপহরণ চক্র ! মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিপ্লবে দেশ যুক্তরাজ্যে করোনার আরও মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ বিরতিতে অক্সফোর্ডের টিকা বেশি কার্যকর সবাই সপরিবারে নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিন নিন: প্রধানমন্ত্রী শেষ রাতে দু’রাকাত নামাজ জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে নতুন করোনাভাইরাস আতঙ্কে ইউরোপ-আমেরিকার শেয়ারবাজারে ধস জুনের মধ্যে আসছে আরও ৬ কোটি করোনার টিকা বাড়িভাড়ায় নাভিশ্বাস, ফের বাড়ানোর পাঁয়তারা অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

পরীমনির ঘটনা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বহিঃপ্রকাশ

প্রকাশিত: ০৩:১৭, ১২ আগস্ট ২০২১  

একজন মানুষ হিসেবে আজ আমি খুব আতঙ্কিত! কারণ যতটা ভাবার চেষ্টা করি সমাজ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এই ধরনের পরিস্থিতি মনে করিয়ে দেয়- এই সমাজে নারীর অবস্থান কোথায়?

সমাজের তথাকথিত ‘আদর্শ নারী’ না হয়ে নারী যখনই নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেছে প্রথমেই তাদের ‘কুরুচিপূর্ণ’ শব্দ দিয়ে চরিত্রে আঘাত করা হয়েছে। নারী জীবন নিয়েও শঙ্কায় থাকে। কারণ আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারী। নিজের ঘনিষ্ঠ স্বজন, স্বামী এমনকি বাবা-মাও তার মেয়েকে মেরে ফেলে! শুধু তাদের সঙ্গে মতানৈক্য না-হওয়ার কারণে। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো এই বাস্তবতা আমরা অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি; দেখতে চাই না, চোখ বন্ধ করে রাখি।  কিন্তু আমরা ভুলে যাই চোখ বন্ধ করে রাখলেই প্রলয় বন্ধ হয় না।

যারা মনে করেন, আমরা একটা সুবিধাজনক জায়গায় আছি; ভালো আছি, সুতরাং এসব বিষয় দেখার দরকার নেই, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি- যে সমাজে, যে রাষ্ট্রে একজন মানুষ অনিরাপদ, তার স্বাধীনতা বা অধিকার সে বুঝে পায় না, সেখানে আসলে সবাই অনিরাপদ। সবাই বঞ্চিত। আপাতদৃষ্টিতে আমরা মনে করছি, এই ঘটনা তো আমার সঙ্গে হচ্ছে না সুতরাং আমি নিরাপদ। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, অন্যায় যার সঙ্গেই ঘটুক সেটা অন্যায়।  এবং এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও অধিকার এবং কর্তব্য। ফলে এই জায়গায় আমরা চুপ করে থাকতে পারি না।

পরীমনির ক্ষেত্রে মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে যা করা হচ্ছে সেটা নেক্কারজনক। এটাই সমাজের আসল চেহারা। এই মিডিয়া ট্রায়ালের কোনো দরকার ছিল না। আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, তবে প্রথমে প্রমাণ, এরপর বিচার, শাস্তি। অপরাধ অনুযায়ী শাস্তিরও কম-বেশি ব্যাপার আছে। কিন্তু তা যদি সমাজ বা রাষ্ট্রের একেবারেই লিঙ্গভিত্তিক আচার আচরণ হয়ে যায়, সেটা দুঃখজনক, ভয়ের এবং আতঙ্কের। কারণ এই সমাজ, এই রাষ্ট্র আমার। এই সমাজে আমি বসবাস করি।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় একজন মেয়েকে আরেকজন মেয়ের পেছনে লেলিয়ে দেয়াটা ভয়ঙ্কর ব্যাপার। পুরুষের দরকার নেই, নারীর সামনে এগিয়ে যেতে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য আরেকজন নারীই যথেষ্ট। তারা মনে করে এটা তাদের দায়িত্ব। কারণ এটা ছোটবেলা থেকে দেখে দেখে তারা বড় হয়। মেয়েকে প্রথমে বাধা দেয়া হয় পরিবার থেকে। তারা মনে করে বাধা দেয়াটা তার অধিকার। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের অধিকার বুঝে পাওয়ারও অধিকার আছে, তা আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিলুপ্তপ্রায়। এখানে যে কোনো মানুষ যে কোনো বিষয়ে কথা বলে। কারণ তারা মনে করে এটা তাদের অধিকার। এটা যে তার অধিকার না তারা পরিবার থেকে শেখেনি।

আমরা সব বিষয়ে, সবার ব্যাপারে কথা বলি। বিশেষ করে মেয়ে হলে তো কথাই নেই। এই প্রভাব একজন মেয়ের মধ্যে সারা জীবন থেকে যায়। খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের সমাজে মেয়েদের দোষ দিতে বিশেষ কিছু লাগে না। আর এটাকে তারা কোনো অপরাধ মনে করে না। একটা কুৎসিত ঘটনাকেও স্বাভাবিক মনে করে। কুৎসিত বলতে আমি অন্যের জীবনে হস্তক্ষেপ করাকে বোঝাচ্ছি। আর এই কাজটি তারা নিজেদের দায়িত্ব মনে করে করছে। কিন্তু এটা তো তাদের দায়িত্ব না।

মানুষ হিসেবে আমাদের পরস্পরকে সম্মান করতে হবে। অন্যের চিন্তার সঙ্গে মতানৈক্য হলেই আমি অন্যের অধিকার বা স্বাধীনতা হরণ করতে পারি না কিংবা তাকে নিয়ে কুৎসা রটানো, তাকে লাঞ্ছিত বা আঘাত করার কোনো অধিকার আমার, আপনার, সমাজের, রাষ্ট্রের নেই। কিন্তু এই অধিকার বা স্বাধীনতা এতটাই খর্ব হয়ে গেছে যে, সমাজে এটা এখন খুব স্বাভাবিক। বিষয়টি আমাকে আতঙ্কিত করে।

আমি আমার জীবনে অনেক কিছু ফেস করেছি। অনেক কঠিন সময় পার করেছি। ওই সময় আমার পরিবারও আমাকে নিজের মনে করেনি। একজন মেয়ে যখন যৌন হয়রানির শিকার হয়, তখন তার পরিবার বা নিজের মানুষই আগে তার দিকে আঙ্গুল তোলে। আমার পরিবার, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি, মিডিয়া, রাষ্ট্রযন্ত্র সমাজ ব্যবস্থার বাইরে না। এটাই আমাদের এখানকার সিস্টেম। এই সিস্টেম আমাদের বদলাতে হবে। একটা জাতি এভাবে অন্ধত্ব গ্রহণ করতে পারে না, এখান থেকে আমাদের বের হতে হবে। এই মুক্তি ছাড়া কোনোভাবেই আমাদের অগ্রগতি হবে না।

একজন মেয়ে কীভাবে চলবে তা কেন সমাজ ঠিক করে দেবে? এসব ঘটনা যদি শুধু মেয়েদের ক্ষেত্রে না ঘটতো তবে আমার কোনো প্রশ্ন ছিল না। সবকিছুতে মেয়েদের আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে। এটা খুব ভয়ঙ্কর! আমাদের সমাজে অনেক ত্রুটি আছে, ভয়ঙ্কর অপরাধ আছে। এসব যখন ঘটে তা নিয়ে মানুষ আলোচনা-সমালোচনার মধ‌্যে হয়তো যান না। মানুষের মধ্যে অনেক স্বভাবগত ত্রুটি থাকে। আর তা সংশোধনের উপায় আছে। এসব সমস্যা আলোচনার মাধ‌্যমে সংশোধন করা যেতে পারে। কিন্তু সেসব সমস্যা যে জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই লজ্জাজনক। পরীমনিকে যেভাবে আটক করা হয়েছে, আইনি যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে তা আতঙ্কের। তার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে এবং তা যেভাবে ফলাও করে প্রচার হচ্ছে তা অবশ্যই আতঙ্কের। এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বহিঃপ্রকাশ।

পরীমনিকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে হারে ট্রল হচ্ছে এটা বিভৎস! এই মাধ্যমে দিনের পর দিন মেয়েরা শিকার হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমি সবচেয়ে বেশি দুঃখ পাই যখন দেখি, এই কাজ আরেকজন নারী করছেন। নিজেকে গৌরবান্বিত করার জন্য অন্য নারীকে হেয় করেন তারা। কাউকে ছোট করে বড় হওয়া যায় না—মনীষীরা যে এ কথা বলেছেন তা এমনি এমনি বলেননি। এই শিক্ষাগুলো আমাদের মধ্যে নেই। এগুলো যে সমাজ থেকে বিলুপ্ত হচ্ছে এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা আছে বলেও মনে হয় না। অথচ মাথাব্যথা ঠিকই আছে কোন মেয়ে কীভাবে হাঁটলো, কোন মেয়ে কোথায় ওড়না পরলো এসব নিয়ে। দুর্নীতি করে দেশ উজাড় করে দিচ্ছে, মানুষকে দিনে-দুপুরে খুন করছে, গুম হচ্ছে, এসিড নিক্ষেপ করছে, ধর্ষণ করছে, বউকে স্বামী পুড়িয়ে মারছে, নিজের সন্তান মেরে ফেলছে— এসব নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। এই বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।

লেখক: অভিনেত্রী

Space For Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement
খোলামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়