বৃহস্পতিবার   ২৩ মার্চ ২০২৩   চৈত্র ৮ ১৪২৯   ০১ রমজান ১৪৪৪

সর্বশেষ:
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন লুলা যে কোনো দিন খুলবে স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু টানেল শীতে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল দেশে করোনার নতুন ধরন, সতর্কতা বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করবো: মাহিয়া মাহি মর্মান্তিক, মেয়েটিকে ১২ কিলোমিটার টেনে নিয়ে গেল ঘাতক গাড়ি! স্ট্যামফোর্ড-আশাসহ ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বর্ষবরণে বায়ু-শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যে ধাক্কা কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
১৭

নির্বাচন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কলঙ্কজনক ঘটনা

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২৩  

আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বেপরোয়া হামলা

আজকাল ডেস্ক

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দুদিনব্যাপী নির্বাচনের প্রথম দিনে গতকাল বুধবার একতরফা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশি পাহারায় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে সমিতির আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে একতরফা ভোটগ্রহণের প্রতিবাদ করায় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জের শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন আইনজীবী। পুলিশি নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি সাংবাদিকরাও। সংবাদ সংগ্রহকালে প্রায় ১০ থেকে ১২ জনের মতো সাংবাদিক আহত হয়েছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীকে জানিয়ে বিচার দাবি করেছেন উচ্চ আদালতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ল রিপোর্টার্স ফোরাম’।
সমিতির প্রথম দিনের ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে দাবি আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীদের। গতকাল বৃহস্পতিবারও দ্বিতীয় দিনের মতো তারা ভোট গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা সমিতির নির্বাচন পরিচালনার জন্য নতুন উপকমিটি গঠন করে ফের নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। তারা আইনজীবীদের ওপর পুলিশি হামলারও বিচার দাবি করেছেন। বিষয়টি তারাও তাৎক্ষণিকভাবে প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেন। এ ছাড়া তারা তাদের বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে দিনব্যাপী ঘটে যাওয়া এমন ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এদিকে সমিতির ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে অনাকাক্সিক্ষত ও কলঙ্কজনক বলে আখ্যায়িত করেছেন আইনজীবীদের অনেকেই। অতীতে উচ্চ আদালতে কর্মরত আইনজীবী ও সাংবদিকদের ওপর নির্বিচারে পুলিশের এমন হামলা নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক বলে মত তাদের।
এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান এ ঘটনায় বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক প্রার্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় একশ আইনজীবীকে আসামি করা হয়েছে। এতে প্রাণনাশের হুমকি, ভাঙচুর, ব্যালট পেপার চুরি, প্রায় ৪ লাখ টাকার নির্বাচনী আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি নিয়ে গতকাল এ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার সূত্রপাত হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান কে হবেন তা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবী নেতারা। পরে সমিতির ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করা হয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতা, সাবেক বিচারপতি মুক্তিযোদ্ধা মনসুরুল হক চৌধুরীকে। তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মনসুরুল হক চৌধুরী পদত্যাগ করেন। একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ভোট গণনার মেশিন ব্যবহার করতে চাইলে সমিতির বর্তমান সম্পাদক ও আওয়ামী ফোরামের সম্পাদক প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুন নূর দুলাল তাতে বাধা দেন। তিনি আলাদা ব্যালট পেপার তৈরি করে আনেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৩ মার্চ বিকেলে প্রার্থী পরিচিতি সভার পর সন্ধ্যায় অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী পদত্যাগ করেন।
এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার বিএনপি ও আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা ফের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েন। সমিতির আওয়ামী ফোরামের নেতারা মুক্তিযোদ্ধা মো. মনিরুজ্জামানকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করে নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটি ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থকরা সমিতির সাবেক সহসভাপতি এএসএম মোক্তার কবিরকে প্রধান করে একটি নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটি গঠন করেন। বিষয়টি নিয়ে দিনভর দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। সন্ধ্যার পর সমিতি প্রাঙ্গণে আহ্বায়ক কমিটির প্রধান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তাপ ছড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক আইনজীবীর ভাষ্য, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যালট পেপারে সই করতে সমিতির তিনতলার সম্মেলন কক্ষে যান। এতে আপত্তি জানান বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময় দুপক্ষের হট্টগোলের মধ্যে প্রায় তিন হাজার ব্যালট পেপার ছিনতাই হয়ে যায়। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মিছিল, হৈচৈ ও হট্টগোল হয়। একপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ফলে গতকাল সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হবে কিনা, তা নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়। আর সমিতির সম্পাদক ও এবারের আওয়ামী লীগ ফোরামের সম্পাদক প্রার্থী আবদুন নূর দুলালের ভূমিকার কারণেই গতকালের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। তার এ ঘটনায় বিব্রত অনেক সিনিয়র আইনজীবীও।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল সকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।  সকাল ৭টা থেকেই আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা সমিতি প্রাঙ্গণে হাজির হন। বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরাও সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে এসে বিক্ষোভ করতে থাকেন নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবিতে। অন্যদিকে সকাল ১০টার দিকে আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতাদের মনোনীত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সমিতির অডিটোরিয়ামে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরুর উদ্যোগ নেয়।
এ সময় বিএনপি-সমর্থিত প্যানেল থেকে মনোনীত প্রার্থীদেও সাথে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত উপকমিটির বাদানুবাদ হয়। এক পর্যায়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বলেন, আমরা উপকমিটির পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নির্ধারিত জায়গায় যেতে বলছি। নির্বাচন শুরু হবে। এ বক্তব্য সমর্থন করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা ‘ইয়েস, ইয়েস’ বলে রব তোলেন। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বলেন, ব্যালট বাক্স খুলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করুন। তারপর ভোট শুরু করুন। তারা এ সময় শ্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক আইনজীবীর সঙ্গে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এ সময় বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন হবে না।’ তার সমর্থনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা ‘ইয়েস, ইয়েস’ বলে রব তোলেন। পক্ষে-বিপক্ষে হৈচৈ ও হট্টগোল শুরু হয়। বেশ কিছুক্ষণ তা চলে। সকাল পৌনে ১১টার দিকে মিলনায়তনে উপস্থিত একাধিক আইনজীবী জানান, ভোটগ্রহণ তখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। এ সময় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও এবারের ভোটে আওয়ামী লীগ ফোরামের সভাপতি প্রার্থী মমতাজ উদ্দিন ফকির পুলিশ ডাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল ১১টার ৪০ মিনিটের দিকে সমিতির মিলনায়তনে পুলিশ প্রবেশ করে। তারা বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দিতে থাকেন। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ শুরু করেন। রাইফেলের বাঁট দিয়েও আইনজীবীদের আঘাত করতে দেখা যায়। পুলিশের লাঠিচার্জে বিএনপির প্রায় ১৫ জন আইনজীবী আহত হন।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে ঢোকা সাংবাদিকরা ঘটনার ছবি, ভিডিও নিতে থাকেন। ফলে পুলিশ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। সাংবাদিকদেরকেও বেধড়ক লাঠিপেটা করতে থাকেন। এতে এনটিএন নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাভেদ আক্তার গুরুতর আহত হন। এ ছাড়াও বৈশাখী টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন ইব্রাহিম হোসেনকে বেধড়ক লাঠিপেটা ও তার পরিহিত পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়। পিটিয়ে আহত করা হয় মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মারুফ, এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন হুমায়ুন কবির, সময় টিভির ক্যামেরাপারসন সোলাইমান স্বপন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন মেহেদী হাসান মিম, জাগো নিউজের রিপোর্টার ফজলুল হক মেধা, আজকের পত্রিকার রিপোর্টার এস এম নূর মোহাম্মদসহ আরও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে।
সাংবাদিক জাভেদ আক্তারকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে জাভেদ আক্তার সাংবাদিক বলেন, ‘আমি দুজনকে অনুরোধ করেছি যে, ভাই আমি সাংবাদিক, নিউজ করার জন্য এসেছি। ওই সময় আমাকে অন্তত ১০টি লাথি-ঘুষি দেওয়া হয়। এ ছাড়া আমাকে ফেলে দিয়ে কলার ধরে উঠিয়ে আবার ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আমাকে চড়-থাপ্পড়ও দেওয়া হয়। সাংবাদিকদের ওপর পুরো হামলার সময় পুলিশের নেতৃত্বে ছিলেন রমনা জোনের ডিসি মো. শহীদুল্লাহ ও এডিসি হারুনুর রশিদ। এ সময় তারা বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে হেনস্থাও করেন। কালবেলার বিশেষ প্রতিনিধি কবির হোসেনের আইডি কার্ড চেক করে ডিসি শহীদুল্লাহ তার অধীনস্তদের কবিরের মোবাইল নিয়ে সবকিছু ডিলিট করে ফেরত দিতে বলেন। পরে পুলিশকে এসব বলা হলে তারা বিষয়গুলো অস্বীকার করেন। নির্যাতনের বিচার দাবি করে স্লোগান তোলেন সাংবাদিকরা। পরে বিষয়টি নিয়ে তারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন। প্রধান বিচারপতি লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে বলেন। তবে সাংবাদিকদের নির্যাতনের বিষয়ে গতকাল বিকেলে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবরটি আমার জানা নেই। সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালনে পুলিশের পরিপূরক। আমরা একসঙ্গে কাজ করি। সুপ্রিম কোর্টের ঘটনার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ভোট গ্রহণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে দাবি করেন সমিতির আওয়ামী লীগ সমর্থক প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মমতাজ উদ্দিন ফকির। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার ২ হাজার ২১৭ ভোট পড়েছে। যথারীতি বৃহস্পতিবারও সকাল ১০টা থেকে ভোট গ্রহণ চলবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা দেখিনি, তবে শুনেছি। এ ধরনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত, ন্যক্কারজনক। যে ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটানো হয়েছে, কয়েকবার তারা আক্রমণ করেছে এগুলো নজিরবিহীন।
অন্যদিকে সমিতির বিএনপি সমর্থিত সভাপতি পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সর্বসম্মত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামানকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। সেজন্য সকালে ভোট গ্রহণ শুরু হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাকে কে নিয়োগ দিয়েছে? আপনি ব্যালট পেপারে স্বাক্ষর করছেন কেন? তাছাড়া দেখবেন, ভোট নিচ্ছে যে কমিটি তাদের প্রত্যেকের গলায় আইডি কার্ড রয়েছে; কিন্তু কার্ডে পরিচালনা কমিটির প্রধানের স্বাক্ষর নেই। আবার ব্যালটে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নাম রয়েছে অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরীর, আর স্বাক্ষর করছেন মনিরুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ভোট শুরুর আগে কত ব্যালট পেপার আছে তা প্রার্থীদের দেখাতে হয়। আমি বলেছি, এখানে এক হাজার ব্যালট বেশি আছে; কিন্তু তিনি ব্যালট পেপার দেখাননি। ব্যালট বাক্সও দেখাননি। সরকারের কয়েকজন ডিএজি, এএজি ভোটে সিল মেরেছে। এ ভোট আইনের দৃষ্টিতে কোনো ভোটই না। কোনো বৈধ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ভোট নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমি নয়বার সমিতিতে নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু কখনো কোনো পুলিশ ভেতরে ঢোকেনি। আমরা দেখা করে প্রধান বিচারপতিকে জিজ্ঞেস করেছি। কিন্তু প্রধান বিচারপতি বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে কোনো পুলিশ চাওয়া হয়নি। তাহলে কোন ক্ষমতাবলে পুলিশ এখানে ঢুকে আইনজীবীদের, সাংবাদিকদের পেটাল? এর বিচার করতে হবে প্রধান বিচারপতিকে। ব্যারিস্টার খোকন বলেন, আজ কোনো ভোট হয়নি। এভাবে ভোট হবেও না। ভোট করতে হলে নতুন করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। প্রধান বিচারপতি এই সুপ্রিম কোর্টের অভিভাবক। তাকে অনুরোধ অবিলম্বে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করুন। নতুন করে নির্বাচনের তারিখ দিন। সব সিনিয়রদের নিয়ে বসে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে নির্বাচন করতে হবে। আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে।
এদিকে গতকাল বিকেলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা শ্লোগান দিতে থাকলে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময়ও পুলিশ চড়াও হয় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ওপর। পুলিশের ধাওয়ায় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এ সময় আইনজীবীরা বিক্ষিপ্তভাবে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে কিছু ভাঙচুর চালায়। পরে আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীরা শ্লোাগান শুরু করেন। অন্যদিকে একতরফা ভোট গ্রহণ চলতে থাকে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ভোট গ্রহণ চলে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। জানতে চাইলে সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, আইনজীবীদের দলীয় লেজুড়বৃত্তির কারণে এমন ঘটনা ঘটছে। এ ধরনের ঘটনা আইনজীবী সমাজের জন্য লজ্জাজনক। অতীতে ফজলুল হক সাহেব, আতাউর রহমান, সোহরাওয়ার্দী সাহেব তারা সমিতিতে ঢোকার পর কোনো রাজনীতি করতেন না। অতীতে সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে এমন ঘটনার নজির আর নেই। এভাবে আইনজীবীদের ওপর পুলিশের নির্যাতন আইনজীবী সমাজের জন্য লজ্জার ও কলঙ্কজনক। তিনি আরও বলেন, লজ্জার তো আরও অনেক কিছুই আছে। এভাবে ভোটও তো লজ্জার। গত বছরও তো লজ্জাজনক ঘটনা ঘটে। তারপর কেউ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার দাবি; সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও আইন আদালত বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।

 

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর