ঢাকা, ২০২১-০৩-০৩ | ১৯ ফাল্গুন,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
সুন্দরী মডেলের অপহরণ চক্র ! মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিপ্লবে দেশ যুক্তরাজ্যে করোনার আরও মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ বিরতিতে অক্সফোর্ডের টিকা বেশি কার্যকর সবাই সপরিবারে নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিন নিন: প্রধানমন্ত্রী শেষ রাতে দু’রাকাত নামাজ জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে নতুন করোনাভাইরাস আতঙ্কে ইউরোপ-আমেরিকার শেয়ারবাজারে ধস জুনের মধ্যে আসছে আরও ৬ কোটি করোনার টিকা বাড়িভাড়ায় নাভিশ্বাস, ফের বাড়ানোর পাঁয়তারা অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীদের দৈনদশা

নির্বাচনের পর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৩:১৪, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  



বিশেষ প্রতিনিধি
মূলধারায় রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশিদের ‘লম্ফঝম্ফ’ শুরু হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কের সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট ২৪ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশি প্রার্থীদের মধ্যে তা প্রকট আকারে দেখা দেয়। এলাকার ভোটারদের সাথে নেই কোন যোগাযোগ, নেই কোন পাবলিক অফিসে কাজ করার অভিজ্ঞতা, এমনকি নিজ দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতেও উল্লেখযোগ্য রেকর্ড নেই। ‘মন চাইলো তাই ভোটে দাঁড়িয়ে গেলুম এই আর কি’। এমনটাই বলছেন প্রবাসীরা।
নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে ন্যূনতম যোগ্যতা না থাকায় নিজের কমিউনিটিকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমখি হতে হয় সেই বোধ শক্তিও নেই তাদের। এ যেন আত্ম প্রচারমুখিতা ছাড়া আর কিছু নয়। সিটি কাউন্সিলের এ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৮ জন। এরমধ্যে ৬ জনই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত। আর এ ৬ জনের ৪ জনই বাংলাদেশি। বাকী ২ জন আমেরিকান জিম জেনারো ও ম্যাককেন ব্রাউন। জেনারো ৩,৩৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মৌমিতা আহমেদ। তার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৮৮২।
বার্নি স্যান্ডার্সের মতো সিনেটরসহ ডজন খানেক মূলধারার সর্মথন পেয়েছিলেন মৌমিতা। সামান্য ফাইট দিলেও তা অনেক পিছিয়ে। অন্যদের অবস্থা তো ত্রাহী ত্রাহী। বাংলাদেশি অন্য প্রার্থীদের ভোট সংখ্যা হচ্ছে সোমা সাইয়িদ ৪৮১, দিলীপ নাথ ২৪৮ ও মজিবুর রহমান ১২৩। অথচ এই নির্বাচনী এলাকায় বাংলাদেশি ভোটার সংখ্যা ৫ হাজারের কাছাকাছি। যদি বাংলাদেশিরা একক প্রার্থী দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতো তাহলে বিজয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব ছিল।
এ নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটারকে সর্বোচ্চ ৫ জন প্রার্থীকে ভোট দেবার সুযোগ রেখেছিল। সেক্ষেত্রে জেনারো প্রায় ৪ হাজার ভোট পেলেও অন্যরা ১২৩, ২৪৮ কিংবা ৪৮১ ভোট পেয়েছেন। এতে স্পষ্ট যে ভোটাররা জেনারো ছাড়া অন্য প্রার্থীদের প্রতি করুণাও করেনি। প্রার্থীদের এই দৈন্যদশা তাদের জনবিচ্ছিনতার প্রতিফলন ছাড়া কিছু নয়। অথচ রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে তাদের বাহারি পোস্টারের ছড়াছড়ি। কিন্তু বিজয়ী প্রার্থী জিম জেনারোর কোন পোস্টারই চোখে পড়েনি।
এ নির্বাচন নিয়ে কমিউনিটির সাধারণ মানুষেরা প্রার্থীদের ওপর ক্ষুব্ধ ও হতাশ। অথচ মিশিগান, জর্জিয়া ও নিউ জার্সিতে স্টেট ও সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশিদের গৌরবোজ্জ্বল বিজয় রয়েছে। আজকাল বাংলাদেশি প্রার্থীদের সাথে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। ম্যাসেজ রেখেছে। কিন্তু একজন ছাড়া বাকীরা কল বা ম্যাসেজ রিটার্ন করার মতো সৌজন্যতা বোধও দেখাননি। বাংলাদেশি প্রার্থীদের ভরাডুবি ও ভবিষ্যৎ মূলধারার রাজনীতি নিয়ে আজকাল কমিউিনিটির বেশ কয়েকজন ব্যক্তির সাথে কথা বলেছে। তাদের মতামত পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রবাসী বাংলাদেশি ও নিউ জার্সির প্লেইনস ব্যরো টাউনের কাউন্সিলম্যান ড. নুরুন্নবী। ৪ দফায় তিনি সেখানে নির্বাচিত। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, শুরুতেই আমাদের প্রার্থীরা জিতবেন এমন আশা করা যায় না। তবে বের করতে হবে কেন তাদের এ পরাজয়। এতো কেনডিডেট না হলে এবং একসাথে কাজ করলে হারলেও একটা সম্মানজনক ভোট পেতেন। হঠাৎ করেই দাঁড়িয়ে গেলে চলবে না। প্রার্থীতা ঘোষণা করার আগে দলে কাজ করতে হবে। অন্যান্য কমিউনিটির সাথে কোয়ালিশন গড়ে তুলতে হবে। গ্রাসরুট লেভেলে কাজ করতে হবে। তবেই রেজাল্ট আসবে। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি ভোটে দাঁড়ানোর আগে ১২ বছর লোকাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাথে কাজ করেছি। তারা আমাকে সবাই চিনতেন। অন্যান্য মাইনোরিটি কমিউনিটিকে ইলেকশন কোয়ালিশনে এনেছি। তবেই বিজয় সহজ হয়েছে। শর্টকাট রাস্তায় বিজয় সহজ নয়। জাম্প দিয়েই নির্বাচনে জেতা যাবে না।
মোর্শেদ আলম মূলধারা প্রবীন রাজনীতিক। আজ থেকে ২২ বছর আগে নিউইয়র্ক স্টেটের সিনেটর পদে নির্বাচন করেছিলেন। শতকরা ৪২ ভাগ ভোট পেয়েছিলেন। ২ বার স্কুলবোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আজকালকে বলেন, ডিস্ট্রিক্ট ২৪ নির্বাচনী ফলাফল দুঃখজনক। হতাশ ও আপসেট হয়েছি। আমাদের প্রার্থীরা মূলধারার রাজনীতি কি সেটাই বোঝেন না। তাদের মূলধারা শুধু বাংলাদেশিদের মধ্যেই। মূলধারা মানে সাদা, কালো, হিসপানিক ও অ্যারাবিয়ান সবাইকে নিয়েই। এদের সবার কাছে যেতে হবে। বাংলাদেশি প্রার্থীরা অন্যান্য কমিউনিটির ভোটরদের কাছে কোন আবেদনই তৈরি করতে পারেনি। তাদের ভোটও পায়নি। তারপরও একক প্রার্থী নিয়ে এগুতে পারলেও একটা কথা ছিল।
গিয়াস আহমেদ মূলধারার রাজনীতির সাথে জড়িত। ২০০২ সালে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর পদে ডিস্ট্রিক্ট ১৩ থেকে নির্বাচন করেছিলেন। কমিউনিটি অ্যাক্টিভিটিতেও তিনি সক্রিয়। তিনি বলেন, অনেকেই নাম ফুটানোর জন্য নির্বাচন করেন। থাকেন বাফেলোতে। দৌঁড়ে এসে ভোট করলেন জামাইকা এলাকায়। এভাবে হারলে মূলধারায় আমাদের ভুল বার্তা যায়। ডিস্ট্রিক্ট ২৪ নির্বাচনে আমরা একক প্রার্থী দেবার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিছু অতি লোভীদের জন্য তা সম্ভব হয়নি। কমিউনিটির ঐক্য না হলে সফলতা আসবে না।
কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শাহনেওয়াজ। ২০১৯ সালের ফোবানার তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন। সিটি কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশি ভোটার দিয়ে নির্বাচনে জেতা যাবে না। সাউথ এশিয়ান ভোটারদের সাথে কাজ করতে হবে। দিতে হবে একক প্রার্থী। অন্যান্য কমিউনিটি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে হবে। শুধু বড় বড় পোস্টার ছাপিয়ে ভোট পাওয়া যায় না। আমি বিজয়ী জিম জেনারোর কোন পোস্টারই দেখিনি। অথচ তিনিই বিশাল ব্যবধানে জিতলেন।
মোহাম্মদ এন মজুমদার আইন পেশায় জড়িত। ব্রংকস কমিউনিটিতে ব্যাপকভাবে পরিচিত মুখ। স্থানীয় কমিউনিটি বোর্ডেরও সদস্য। আগামীতে ব্রংকসের পার্কচেস্টার এলাকা থেকে সিটি কাউন্সিলম্যান পদে নির্বাচন করবেন। ডিস্ট্রিক্ট ২৪ নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আজকালকে তিনি বলেন, খুবই দুঃখজনক। জাম্পিং পার্টির সদস্য হিসেবে তারা নির্বাচন করেছেন। মন চাইলো আর দাঁড়িয়ে গেলেন আর কি। মূলধারায় কাজের কোন অভিজ্ঞতা নেই। কোন দিন কমিউনিটি বোর্ড বা স্কুল বোর্ডেও নির্বাচন করেননি। হঠাৎ করেই প্রার্থী হয়ে গেলেন। একজনতো থাকেন বাফেলোতে। আসলেন জ্যামাইকায়। ভোটে খাড়া হয়ে গেলেন। এ ভাবে নির্বাচন হয় না। নাম ফলানো যায় মাত্র।
বাংলাদেশি ৪ প্রার্থীর অন্যতম মজিবুর রহমান আজকালের প্রশ্নের জবাবে বলেন, একটি গোত্রের ষড়যন্ত্রের কাছে হেরে গেছি। একটি কেন্দ্রে যখন বিজয়ী প্রার্থী ২০০০ ভোট পান তখন বুঝতে হবে খেলাটি কোথা থেকে হয়েছে। আর বাংলাদেশি কয়েকজন প্রার্থীকে ষড়যন্ত্রের ক্রীড়ানক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। ওরা এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছে। দালাল প্রার্থী বলতে পারেন। আগেও আমি এ এলাকায় নির্বাচন করেছি। এবারকার চেয়ে অনেকগুন ভোট পেয়েছিলাম। আমার সর্মথকরা করোনা ও আবহাওয়ার কারণে ভোট দিতে পারেননি। আমার আরও কিছু ভোট মেইলে আসবে। তাতে ভোট বাড়বে। তিনি বলেন, এক ইয়ং প্রার্থী বার্নির মতো রাজনীতিকের এনডোর্সমেন্ট এনেছিলেন। কিন্তু ফলাফল কি তা দেখলেন? আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণ রাজনীতিকদের ধ্বংস করাই ছিল এ নির্বাচনের অন্যতম ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, আগামী জুনে এই ডিস্ট্রিক্টে প্রাইমারি ইলেকশন হবে। তখন আমি প্রার্থী হবো না। অন্যরা এক হয়ে নির্বাচন করুক। সেটা দেখতে চাই। ওরা আমাদের অনৈক্য টিকিয়ে রেখে ফায়দা লুটবেই।
বাফেলো থেকে এসে হঠাৎ নির্বাচন প্রশ্নে জনাব মুজবুর রহমান বলেন, এমন কোন বিধান নেই অন্য এলাকা থেকে এসে নির্বাচন করা যাবে না। আরও প্রার্থী ছিলেন যারা এলাকায় বাস করেন না। তাছাড়া আমি ডিস্ট্রিক্ট ২৪ এর বাসিন্দা। আমি এখানকার ভোটার। আমার বাড়িঘর রয়েছে। এটা বলতে দ্বিধা নেই, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বাংলাদেশিদের মধ্যে সুকৌশলে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়