ঢাকা, ২০২০-১২-০৪ | ১৯ অগ্রাহায়ণ,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

বাংলাদেশিদের মধ্যে বিনা ভাড়ায় থাকার প্রবণতা বাড়ছে

নিউইয়র্কে বাড়ি মালিক ও ভাড়াটিয়া বিরোধ

প্রকাশিত: ০১:১৫, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০  


আজকাল রিপোর্ট
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বাড়ির মালিকরা ভালো নেই। অনেক ভাড়াটিয়াই ভাড়া প্রদান বন্ধ রেখেছেন। মহামারি করোনা ভাইরাসের অজুহাত ও ট্রাম্প প্রশাসনের ভাড়াটে উচ্ছেদে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষেধজ্ঞা আদেশের কারণে সুযোগ নিচ্ছেন অনেকে। অনেকের সার্মথ্য থাকার পরেও বাসা ভাড়ার বিল পরিশোধ করছেন না। ফলে কপাল পুড়েছে বাড়িওয়ালাদের। স্টেটের ট্যাক্স, পানি, ইলেকট্রিক ও গ্যাস বিল এবং ব্যাংকের মর্টগেজ গুনতে হচ্ছে প্রতিমাসে। ভাড়া সময়মত না পাবার কারণে তারা এ সব বিল পরিশোধ করতে পারছেন না। বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে। বাক বিতন্ডা এক পর্যায়ে সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। পুলিশ ডাকাডাকির ঘটনাও ঘটছে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। উপায় না দেখে অনেকে বাড়ি ফরক্লোজারের পথে পা বাড়াবার চিন্তা করছেন।
বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়ি কেনার সময় অধিকাংশ ক্রেতাই বেসমেন্টের ভাড়ার আয়কে ক্যালকুলেশন করে মর্টগেজ প্রদানের চিন্তা করেন। যদিও নিউইয়র্কে বেসমেন্ট ভাড়া প্রদান আইনসিদ্ধ নয়। অনেকেই বেসমেন্ট ভাড়ার অর্থ ও নিজে কিছু টাকা যোগ করে মর্টগেজ প্রদানের লক্ষ্যে বাড়ি কেনেন। কিন্তু কোন কারণে বেসমেন্টের ভাড়া প্রাপ্তি বন্ধ হলে মাথায় হাত পড়ে তাদের। শুধু নিজের আয় দিয়ে মর্টগেজ ও অন্যান্য বিল প্রদানে সার্মথ্য হারিয়ে ফেলেন। তাছাড়া বেজমেন্ট ভাড়া প্রদান আইনসিদ্ধ না হওয়ায় অনেক ভাড়াটিয়া এ সুযেগের অপব্যবহার করেন। নানা অজুহাতে বাড়ার অর্থ প্রদানে টালবাহানা করেন। বেচারা বাড়িওয়ালাও আইনের আশ্রয়টি পর্যন্ত নিতে পারেন না। এমনি এক পরিস্থিতির মুখোমুখিতে বাড়ির মালিকের হাতে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ জাকির খান দুবছর আগে ব্রংকসে খুন হয়েছেন।
সম্প্রতি জ্যাকসন হাইটস এলাকায় বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুই বা তিন ফ্যামিলির বাড়ি কিনে লিগ্যালি ভাড়া দিয়েও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বাড়িওয়ালারা। করোনাকে ইস্যু করে ভাড়াটিয়ারা ভাড়ার অর্থ প্রদান বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা ভালো করে জানেন এ সময় তাদের বাড়ি থেকে কেউ উচ্ছেদ করতে পারবে না। অনেকেই বেকার হবার আগে যে পরিমাণ আয় করতেন, করোনার কারণে ফেডারেল সরকারের স্টিমুলাস প্যাকেজ ও বেকার ভাতাসহ অনেক বেশি আয় করছেন। যাতে বাড়ি ভাড়া প্রদান কোন সমস্যা হবার কথা নয়। কিন্তু অনেকে ইচ্ছে করেই ভাড়া দিচ্ছেন না। বাংলাদেশি বাড়ির মালিকদের অধিকাংশ ভাড়াটিয়াই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। অনেকেই পূর্ব পরিচিত। ভাড়া নেয়ার আগে ও পরে ভীষণ সুমধুর সম্পর্ক দেখা যায়। একসাথে ডাল ভাত খাওয়া, একে অপরের বাসায় ভর্তা, শাক-সব্জি আদান প্রদান, এক সাথে মাছ শিকারে যাওয়াসহ কত না মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই ভাড়া নিয়ে তৈরি হয় এক অস্বস্তিকর পরিবেশ। মুখ দেখাদেখি বন্ধ, মামলা মোকদ্দমা ও সালিশ ইত্যাদি।
আজকালের কাছে এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেন, ‘কুইন্সে এক বাড়ির মালিক মো. সরকার ও ফাতিমা তালুকদার। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে বরিশালের নাঈম খোন্দকারকে বাড়ি ভাড়া দেই। আইন সিদ্ধভাবে ডিড সাইন হয়। কত ভালো ব্যবহার। কত যে সুসম্পর্ক। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই তাতে চিড় ধরে। ২০১৯ সাল থেকেই সে ভাড়া প্রদান বন্ধ করে দেয়। জিনিসপত্র ভাঙতে থাকে। ভাড়া চাইলে উল্টো হুমকি ধামকি দেয়। ভাড়াটিয়া আমাদের বলে তার পা ধরে মাফ চাইলে সে ভাড়া দিবে। নইলে নয়। এ দুঃখ রাখি কোথায়।’ এনওয়াইপিডির স্কুল সেফটি বিভাগে মো. সরকার ও ডিইও-তে কর্মরত ফাতেমা তালুকদার নিরুপায় হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। প্রথম হেয়ারিং এ ভাড়াটিয়া আদালতে উপস্থিত হননি। দ্বিতীয় হেয়ারিংয়ে আগেই করোনার কারণে অফিস আদালত বন্ধ হয়ে যায়। ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। গত এক বছর ভাড়ার অর্থ না পাওয়ায় কর্মজীবী এ পরিবার অথনৈতিকভাবে হিমশিম খাচ্ছেন। মর্টগেজ দিতে পারছেন না ঠিকমতো। বিষয়টি নিয়ে আজকালের পক্ষ থেকে ভাড়াটিয়া নাঈম খন্দকারের সাথে যোগাযোগ করা হয়। কুইন্সে ফুসকা ব্যবসায়ী এই ভাড়াটিয়া বলেন, পত্রিকা আমার নাম প্রকাশ করতে পারে না। আমার মান সম্মান রয়েছে। সমাজে আমার একটা পরিচিতি আছে। তবে তিনি ভাড়ার অর্থ না দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওরা খুব মিষ্টি কথা বলে। কিন্তু মানুষ খুব খারাপ। আমার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে। গ্যারেজ ব্যবহার করার অনুমতি থাকলেও কিছুদিন পর তা বন্ধ করে দেয়। ওরা যদি আমার কাছে পা ধরে মাফ চায় তবেই ভাড়া দেব। ‘বাড়িওয়ালা আপনার কছে পা ধরে মাফ চাইবে? এটা কি হয়?’ জবাবে নাঈম বলেন, বাংলাদেশ হলে আরও কিছু হতো। তিনি আরও বলেন, আমিও নতুন বাসা খুজছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে আটকে গেছি। তাছাড়া মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আমি বাড়ি ছাড়বো না এবং ভাড়াও দেব না।
এমনই আর এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান এক সাংবাদিক। গত দেড় বছর ধরে তিনি বাংলাদেশি ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে ভাড়া পাচ্ছেন না। প্রতি রাতেই ভাড়াটিয়া বিকট শব্দ করেন। এতে তিনি পরিবার নিয়ে ঠিকমত ঘুমাতেও পারেন না। বড় অংকের মর্টগেজও টানতে পারছেন না। অনেক দেন দরবার করেও সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। বাসায় কথিত ভাড়াটিয়া থাকার কারণে বাড়িটি বিক্রিও করতে পারছেন না। তার ভাষায়, স্বপ্নের বাড়ি এখন গলার ফাঁস। তিনি এ বাড়িটি বিক্রি করে একটি কনডো কিনে পরিবার নিয়ে ঝামেলামুক্ত হয়ে বসবাসের চিন্তা করছেন। ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদে আদালতের দ্বারস্থ হবার পরিকল্পনাও তিনি করছেন।
কমিউনিটির আর এক পরিচিত মুখ ফরহাদ খান। ভালো গায়ক হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। মানিকগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতিও ছিলেন। কাজ করেন সিটির হেলথ ডিপার্টমেন্টে। তিনিও বাড়ি কিনে ও ভাড়া দিয়ে এক যন্ত্রণাকাতর স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুক ও ইউটিউবে। অভিযোগ তারই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র ভাইয়ের বিরুদ্ধে। আমেরিকায় আসার পর ফরহাদ খান এই সিনিয়র ভাইয়ের সাথে পেশাজীবী সংগঠন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই করেছেন। মধুর সম্পর্ক ছিল দুই পরিবারের মধ্যে। অথচ বাড়ি ভাড়াকে কেন্দ্র করে তাদের অবস্থান এখন শাপেনেউলে। ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে খান লিখেছেন, ‘নিউইয়র্কে বসবাসরত এক মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষিবিদ এর ভাগিনা ও ভাগিনা বউ বাড়ি ভাড়ার অর্থ না দিয়ে বাড়ির মালিক কৃষিবিদ ফরহাদ খান এবং তার মেয়েকে চরম বিপাকে ফেলেছেন। বাড়িতে ম্যারেজ ডে চলছে। অথচ ঘর ভাড়া দেয় না চার মাস।’
বাড়ি ভাড়া নিয়ে এমনই অসংখ্য ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘বাড়ি ভাড়ার বিল না দিয়ে অনেকদিন থাকা যায়। বাড়িওয়ালা মামলা মোকদ্দমায় গেলেও লেগে যায় তিন বা চার মাস। ইভিকশন অর্ডার হলেও সময় দেয় দুই মাসের বেশি। তাই যতদিন ফ্রি থাকা যায়Ñ এই আর কি।’ একজন রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী আজকালকে বলেন, ‘বাংলাদেশি অনেক ভাড়াটিয়াই এই খারাপ নজিরটিকে ভালোভাবেই আত্মস্থ করে ফেলছেন। এই সমাজ থেকে আমরা ভালো কিছু গ্রহণ করছি না। নিচ্ছি শুধুই খারাপ বিষয়গুলো।’

 

নিউইয়র্ক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়