ঢাকা, ২০২১-১২-০৯ | ২৪ অগ্রাহায়ণ,  ১৪২৮
সর্বশেষ: 
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র বিচার ১২৩ বছর আগে গ্রেপ্তার গাছ, শেকলে বন্দি আজো ফ্রান্স প্রেসিডেন্টকে চড় মারার মাশুল কতটা? কুরআনের আয়াত বাতিলে ‘ফালতু’ রিট করায় আবেদনকারীকে জরিমানা আদালতের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড ওয়াক্ত ও তারাবি নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ২০ জন বিদেশে মারা গেছে ২৭০০ বাংলাদেশি আর্থিক ক্ষতি মেনেই সাঙ্গ হলো বইমেলা সুন্দরী মডেলের অপহরণ চক্র ! মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিপ্লবে দেশ যুক্তরাজ্যে করোনার আরও মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ বিরতিতে অক্সফোর্ডের টিকা বেশি কার্যকর সবাই সপরিবারে নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিন নিন: প্রধানমন্ত্রী শেষ রাতে দু’রাকাত নামাজ জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে নতুন করোনাভাইরাস আতঙ্কে ইউরোপ-আমেরিকার শেয়ারবাজারে ধস জুনের মধ্যে আসছে আরও ৬ কোটি করোনার টিকা বাড়িভাড়ায় নাভিশ্বাস, ফের বাড়ানোর পাঁয়তারা অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

তিরিশ বছরের স্মৃতিগাঁথা

প্রকাশিত: ০৩:৫৩, ৩০ অক্টোবর ২০২১  


বিশ্বজিত সাহা
বাংলাদেশের গৌরবময় অমর একুশে ১৯৯৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত। একুশের আন্তর্জাতিকরণের সর্বশেষ স্বীকৃতি ২০০১ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক অনুমোদন। এই প্রাপ্তি সকল বাংলাভাষাভাষীর অহঙ্কারের। বাঙালির এই অহঙ্কার আজ বিশ্বজনীন। পৃথিবীর অনেক দেশের ভিন্ন ভাষাভাষী সাধারণ নাগরিকও জানে বাংলা নামে একটি ভাষা আছে। সেই ভাষার জন্য একটি দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছে। সেই দেশের নাম বাংলাদেশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, এসব বীরত্বের কাহিনী জানার আগ্রহ জন্মেছে। মানুষ সার্চ করছে বিভিন্ন ওয়েব সাইট। ২০০৭ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলা হলো পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম ভাষা।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতির পেছনে প্রবাসী বাঙালিদের অবদানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাঙালিদের অহঙ্কারের একটি বিষয়ও আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। তা হলো জাতিসংঘের সামনে একুশের অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালিরা ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২-০১ মিনিটে জাতিসংঘের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে ১৯৯২ সাল থেকে। স্মৃতির ফলকে জ্বল জ্বল করে প্রতিনিয়ত উত্তর আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবার মধ্যরাতের শহীদ মিনার স্থাপনের কথা।
১৯৯২ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই শুরু হয় ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের প্রক্রিয়া। এরমধ্যে স্প্যানিশ কার্পেন্টার আনা হলো। হোম ডিপো থেকে কাঠ কেটে আনা হলো। শিল্পী সজল পাল, বাঙালির চেতনা মঞ্চের হারুণ আলী, আবদুর রহমান বাদশা, সাখাওয়াৎ আলী, দিলদার হোসেন দিলু, শামীম হোসেন সহ আমরা সবাই মিনারের ৫টি স্তম্ভ ৭দিনের মধ্যেই মোটামুটি দাঁড় করাতে সক্ষম হলাম। কিন্তু ৮ ফুটের ও ১০ ফুটের ২টি করে ৪টি এবং ১২ ফুটের ১টি স্তম্ভ মোট ৫টি মিনার আমরা কোনভাবেই দাঁড় করাবার উপায় বের করতে পারছিলাম না। এরকম একটি সিদ্ধান্ত ভাবা এবং তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়া খুবই কঠিন ছিল সে সময়। তখন আমিও একবারে নবাগত। ১৯৯১ সালের আগস্টের একেবারে শেষে আমেরিকায় এসে ক্ষুন্নিবৃত্তির সন্ধান করতে গিয়ে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদপত্র সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ সম্পাদিত ‘প্রবাসী’তে কাজে যোগ দিই। সেই সুবাদেই পত্রিকার উপদেষ্টা কথাশিল্পী জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, কবি শহীদ কাদরী এবং ড. জাফর ইকবালের সাথে অতি অল্প সময়ের মধ্যে যোগাযোগ ঘটে। শহীদ কাদরী তখন থাকতেন বস্টনে। আর জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের একটি মূলধারার প্রকাশনা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। প্রায় প্রতিদিনই কাজ শেষে ‘প্রবাসী’ দপ্তরে আসতেন। এরমধ্যে ‘প্রবাসীতে কাজ করার পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ সম্মেলন উপলক্ষে দেশ থেকে কিছু বাংলা বই ও ম্যগাজিন আমদানী করে ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’ নামে নিউইয়র্ক সিটি থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে বই বিক্রি করতে গিয়েই বাঙালির চেতনা মঞ্চের কয়েকজন তরুণের সাথে প্রথমে পরিচয় ঘটে। পরবর্তীতে একুশের প্রথম প্রহর রাত ১২-০১ মিনিটে শহীদ মিনার স্থাপন করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও উত্তর আমেরিকা বাংলা বইমেলা আয়োজনের বিষয়টি ওদেরকে জানাই। প্রস্তাবটি ওরা যে ভীষণ পছন্দ করেছে তা আমি পরদিন ‘প্রবাসী’ পত্রিকা থেকে উডসাইডের বাসায় এসেই বুঝতে পারি। এপার্টমেন্টের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ৫ জনই দাঁড়িয়ে আছে। বাসায় ঢোকার আগেই ওরা জানাল ‘বাঙালির চেতনামঞ্চ’ ১৯৯২ সাল থেকেই এই কার্যক্রম শুরু করতে চায় মুক্তধারা নিউইয়র্কের সাথে যৌথভাবে। এরমধ্যে হারুণ আলী প্রস্তাব দিলেন আমাকে বাঙালির চেতনামঞ্চের সদস্য হওয়ার জন্য। সাংবাদিকতা পেশার কারণে কোন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা না রাখার ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ ছিলাম বলে বাঙালির চেতনা মঞ্চের সদস্য না হয়ে মুক্তধারা নিউইয়র্কের ব্যানারেই আমার আগ্রহের কথা জানালাম। তারপর শুরু হলো আলোচনা, কীভাবে এর বাস্তবায়ন হবে। সবকিছুই পাকাপাকি। একুশের প্রথম প্রহর-এর অনুষ্ঠান ও বইমেলা সবই হবে যৌথ ব্যানারে। শহীদ মিনারটি কোথায় স্থাপন করা হবে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগেই স্পষ্টভাষী আব্দুর রহিম বাদশা ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার কৃতী এথলেট এর ব্যয়ভারের কথা তুললেন। যেহেতু দুটি সংগঠনের নামে এই আয়োজন তাই এর ব্যয়ভারও সমানভাবে বহন করার ব্যাপারটি পাকা হয়।
তখন আমি আমেরিকায় একেবারে নবাগত। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা সংবাদপত্র ‘প্রবাসী’ অফিসে সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত। সপ্তাহে তিনদিন কাজ ১৫০ ডলারের বিনিময়ে। দেশে বাংলা সফটওয়্যার বিজয় এর উদ্ভাবক মোস্তফা জব্বারের ‘আনন্দপত্র’তে সাংবাদিকতা করার সময় নিজের রিপোর্ট নিজে কম্পিউটারে টাইপ করার যোগ্যতা না থাকলে এ চাকরিটাও যে জুটতোনা, তা চাকরির প্রথম দিনই বুঝতে পেরেছি। দেশ থেকে যেসব ডলার নিয়ে এসেছি তা বাসা ভাড়া করার অগ্রিম পরিশোধ আর থালা বাসন কিনতেই প্রায় শেষ। প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে হালকা জ্যাকেট পরে প্রবাসী অফিসে যাওয়ার প্রথম দিনই সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ ভাই কিনে দিলেন একটি মোটা জ্যাকেট।
তবে চাকরিটা না হলে অড জব করা ছাড়া গত্যন্তর ছিলনা। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বইয়ের প্রদর্শনী করার সুবাদে আস্তে আস্তে বইপ্রেমী মানুষদের তালিকা তৈরি করতে থাকি। তাদের সাথে যোগাযোগও বৃদ্ধি পেতে থাকায় কিছুদিনের মধ্যে নভেম্বর ১৯৯১ থেকে প্রতি সপ্তাহে বৃটিশ এয়ার ওয়েজ -এ বাংলাদেশের সাপ্তাহিক পত্রিকা এনে আমদানি করা শুরু করলে প্রতি শনিবারই একটি বড় অঙ্কের টাকা আসতে থাকে। এর মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ব্যয়ভার নির্বাহের দুঃশ্চিন্তাও মিটে যায়।
এখন নিউইয়র্কে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহেও বরফ পড়ে না। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই নিউইয়র্কে প্রচন্ড বরফ পড়া শুরু হয়। শহীদ মিনার তৈরি করার জন্য আমাদের কারো কোন জায়গা ছিল না। তখন সবাই আমরা প্রায় নবাগত। প্রকৌশলী ফরাশত আলীর (আগে গণতন্ত্রী পার্টি করতেন বর্তমানে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান) ছোটভাই ছাখাওয়াৎ আলী বাঙালির চেতনা মঞ্চের সদস্য সুবাদে আমরা তাঁর বাড়ির বেসমেন্টেই শহীদ মিনারের কাজ শুরু করলাম। এরমধ্যে একটি ক্যালেন্ডার থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে মাপজোক করার জন্য শিল্পী সজল পালকে দায়িত্ব দেয়া হলো।
মিনারের ৫টি স্তম্ভকে পাকা মেঝেতে অথবা মাটির উপর দাঁড় করাতে হবে। কার্পেন্টার এটা দাঁড় করাবার জন্য পাটাতন তৈরি করার পরামর্শ দিলেন। পাটাতন তৈরির ব্যয়ভার ও তার ওজনের কথা বিবেচনা করে দু সপ্তাহে ৭/৮ জন মানুষের নিরলস প্রচেষ্টায় বানানো ১২ ফুট লম্বা শহীদ মিনার নির্মাণ প্রক্রিয়ার ইতি ঘটে। এরপর সকলের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। এ বছর বুঝি আর হবে না। কেননা ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হয়ে গেছে। চারিদিকে বরফ আর বরফ। কাজ আর ঘরে ফেরা ছাড়া কোন অনুষ্ঠান নেই তখন। এর মাঝেই একদিন শিল্পী সজল পালের সাথে কথা বলে একটি উপায় বের হয়। ৫টি মিনারের বদলে তিনটি মিনার। আর কাঠের পরিবর্তে কার্ডবোর্ড দিয়ে সজল পাল ১০দিনের মধ্যে একটি শহীদ মিনার দাঁড় করালেন। আমরা সবাই মিলে সজলের বাসায় শহীদ মিনারটি দেখে সিদ্ধান্ত নিই এবছর কার্ডবোর্ডের মিনারেই একুশের ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হবে। এরপর সজলের বাসাতেই সবাই কাজ ভাগ করে নেই। তখন পর্যন্ত নিউইয়র্কে শহীদ মিনার নির্মাণের বিষয়টি আমরা নয়জন আর ফরাশত আলী ছাড়া কাউকেই জানানো হয়নি। শহীদ মিনার স্থাপনের বিষয়ে বাঙালির চেতনা মঞ্চের হারুন আলী ও দিলদার হোসেন দিলু প্রস্তাব রাখেন বাঙালি অধ্যুসিত এস্টোরিয়ার কথা, আমি প্রস্তাব রাখি জাতিসংঘের সামনে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য। ছাখাওয়াত আলী বললেন ওখানে দিনের বেলা প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ করার পারমিশন দেয়া হয়। রাতে পারমিশন দেয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। রেডজোন এরিয়া। আমি চুপ করে গেলাম। নতুন মানুষ তেমন কিছুই জানিনা। সংগঠনটির অন্য সদস্যরাও হারুন ও দিলুর প্রস্তাব সমর্থন করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই আমাকে মেনে নিতে হলো। পরদিন হারুণ আলীকে ফোন করে জাতিসংঘের সামনে শহীদ মিনার স্থাপনের পারমিশন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলার পর সে একরকম লাফিয়ে ওঠে।
আমি হারুন আলীকে প্রবাসীর সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ-ভাইর কথা বলি। ভাবা অনুযায়ী কাজ। হারুন আলী দরখাস্ত করেন পার্ক ডিভিশনে। ৫ দিনের মাথায় পারমিট পাওয়া গেলো। সেদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২। প্রবাসীর পরবর্তী সংখ্যার খবর প্রকাশিত হলো, জাতিসংঘের সামনে একুশের প্রথম প্রহর এর প্রস্তুতি সম্পন্ন। সকলকে একুশের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে বাঙালির চেতনা মঞ্চ ও মুক্তধারার সাদর আমন্ত্রণ। প্রচন্ড বরফের মধ্যে গাড়ি চালাবার উপায় নেই যেখানে, সেখানে রাত ১১টা থেকে কথাশিল্পী জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, প্রবাসী সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাাহসহ নিউইয়র্ক প্রবাসী শত শত মানুষ সমবেত হন ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। প্রবাসের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে একুশের গান পরিবেশন করে জাতিসংঘের সামনে শহীদ মিনার স্থাপন করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেন।
বাঙালির চেতনা মঞ্চের তরুণ কর্মীরা ও মুক্তধারা নিউইয়র্কের অদম্য উৎসাহে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস স্বীকৃতি পাওয়ার ৭ বছর আগে যে ভিত্তি প্রস্থরটি স্থাপিত হয় তা পরবর্তীতে উত্তর আমেরিকায় বাঙালিদের হৃদয়ে ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করে। ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন, একুশের গানের রচয়িতা আব্দুল গাফফার চৌধুরী, কবি শহীদ কাদরী , নির্মলেন্দু গুণ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়. রাবেয়া খাতুন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনসহ জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রদূত আনোয়ারুল করিম চৌধুরী, তত্ত্বাবধারক সরকারের উপদেষ্টা ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, কানাডা প্রবাসী রফিক আহমেদ এবং ইউনেস্কোর বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ অনেক গুণী ব্যক্তি এই মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কিন্তু একটি নিয়মের ব্যত্যয় আজ অবধি ঘটেনি। উপস্থিত সর্বকনিষ্ঠ শিশু সন্তানটির হাতেই প্রথম শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবার রীতি। শুরুতে যে মূলমন্ত্র নিয়ে গঠিত হয়, তেমনি গঠন করা হয়নি গত ৩০ বছর ধরে এর কোন কমিটি। এখানে নেই কোন আহ্বায়ক, নেই কোন সভাপতি বা চেয়ারম্যান। নিউইয়র্কে বাঙালির সংখ্যা ও সংগঠকের ধারাবাহিক ক্রমবিকাশে ঘরে ও বাইরে অনেকগুলো শহীদ মিনার হলেও জাতিসংঘের শহীদ মিনার উত্তর আমেরিকা অভিবাসীদের কাছে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মত অমলিন।
একুশের বইমেলা উপলক্ষে যেমন বাংলাদেশের লেখক প্রকাশক পাঠকদের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়, তেমনি গত ৩০ বছর ধরে মুক্তধারা ফাউেেন্ডশন নিরন্তর প্রচেষ্টায় আমেরিকায় বাংলা বইমেলার অভাবনীয় আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ টাকার বই রপ্তানি হচ্ছে আমেরিকায়। আমেরিকায় লাইব্রেরিগুলোতে গড়ে উঠছে বাংলা বইয়ের বিপুল সম্ভার। বাংলাদেশের মত প্রবাসী কবি লেখক সাহিত্যিক শিল্পী আবৃত্তিকার সাংস্কৃতিক কর্মীদের মেলবন্ধনে এই বইমেলা প্রাণের মিলন মেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। বইমেলা উপলক্ষে গত কয়েক বছর ধরে প্রকাশিত হচ্ছে প্রবাসী লেখকের বিভিন্ন প্রকাশনা।
গত ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষস্থানীয় শতাধিক লেখক আমেরিকার বইমেলায় অংশ নিয়েছেন। যোগ দিয়েছে বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রকাশনা সংস্থা। ফুলে ফলে সুশোভিত এই বইমেলাটির দিকে এক নজর দৃষ্টি ফেরানো যাক।
১৯৯২ সালে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহের শনি ও রোববার এই বইমেলার আয়োজন করা হয় একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সাথে যৌথভাবে নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে। বাঙালি অভিবাসীদের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বইমেলা হবে একদিন ব্রুকলিনে, অন্যদিন কুইন্সের একটি মিলনায়তনে। মিলনায়তন ভাড়া করা হলো ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে ও এস্টোরিয়ার করপাশকৃষ্টি চার্চ মিলনায়তন। নিউজার্সী প্রবাসী লেখক ও মূলধারার রাজনীতিবিদ এবং মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী ও ব্যাংকের চেয়ারম্যান সাবেক গণতন্ত্রী পার্টির নেতা ফরাশত আলী, ব্রুকলীন প্রবাসী শিল্পী সাজ্জাদ হোসেনর সাথে বইমেলা নিয়ে আলোচনা করলে তারা এগিয়ে নির্মূল কমিটির সাথে যৌথভাবে বইমেলার জন্য। বইমেলা নিয়ে ড. নূরন নবীর আগ্রহের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হল ভাড়া পরিশোধের পর বসলো বইমেলা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা। সভায় ছিলেন বাঙালির চেতনা মঞ্চের হারুন আলী, ছাখাওয়াত আলী, আবদুর রহিম বাদশা, সৈয়দ শামীম হোসেন, দিলদার হোসেন দিলু ও দিলীপ নাথ। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বইমেলা উদ্বোধন করা হবে একজন লেখককে দিয়ে। এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে বাংলা শিক্ষায় আগ্রহী করার জন্য থাকবে শিশু-কিশোরের মধ্যে বাংলা লিখন ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। ৪ থেকে ৭, ৮ থেকে ১১, ১২ থেকে ১৫ বছরের শিশু-কিশোরদের তিনভাগে ভাগ করা হয়। যারা বিজয়ী হবে তাদের দেয়া হবে মুক্তধারা নিউইয়র্কের পক্ষ থেকে বাংলা বই পুরস্কার। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় শিল্পী মনিরুল ইসলাম ও বাংলা লিখন প্রতিযোগিতার জন্য সাহিত্যিক পূরবী বসুকে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করলে তারা প্রস্তাবটি সাদরে গ্রহণ করেন। উত্তর আমেরিকায় প্রথম বাংলা বইমেলা উদ্বোধক হিসেবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে চলে আসে ডঃ জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের নাম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য শিল্পী দুলাল ভৌমিক, সেলিমা আশরাফ, এ্যানি ফেরদৌস, তপন বৈদ্য, স্বপ্না কাওসার, ঝর্না চৌধুরী, শহীদ হাসান, শ্যামলিপি শ্যামা, আবদুস সামাদ বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তাদের সাথে কথা বলার পর মনে হয় সাংস্কৃতিক পর্বটিও দর্শক প্রিয় হবে। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসরের দায়িত্ব নিলেন সুদূর কানাডায় বসবাসকারী কবি ইকবাল হাসান। আবৃত্তি অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নিলেন মাসদুর রহমান। এর মধ্যে শিল্পী দুলাল ভৌমিক ফোন করে মনে করিয়ে দিলেন তবলা বাদকের কথা। সব শিল্পীর বইমেলার অনুষ্ঠানে বিনা সম্মানীতে অংশগ্রহণ করবেন বলে সম্মতি দিলেন। কিন্তু তবলাবাদক তপন মোদক সম্মানী ছাড়া কোন অনুষ্ঠানে যান না। বিনীতভাবে তাকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়। তিনিও সম্মানী ছাড়া অনুষ্ঠান করতে রাজি হলেন। সাউন্ড সিস্টেমের দায়িত্ব নিলেন হারুন আলী। মুক্তধারা নিউইয়র্ক-এর পক্ষে আমি ব্যক্তিগতভাবে এধরনের একটি কাজ শুরু করার ব্যাপরাটা ছিল বিরাট পাওয়া।
এদিকে আগের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একুশের প্রথম প্রহর ও বইমেলার যাবতীয় খরচ বহন করার কথা অর্ধেক বাঙালির চেতনা মঞ্চের আর বাকি অর্ধেক মুক্তধারা নিউইয়র্কের। চেতনামঞ্চের কর্মীর সংখ্যা তখন ৭। দু’দিনের মিলনায়তন ভাড়া ও অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরির জিনিসপত্র কেনার যে খরচ হয় তার অর্ধেক দেয়ার পর আমার হাত শূন্য হয়ে পড়ে। আমেরিকা এসেছি ১৯৯১ আগস্টের ২৮ তারিখে। কাজ করি সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ‘সাপ্তাহিক প্রবাসী’তে ১৫০ ডলার বেতনে। প্রবাসীতে কাজ করা ছাড়া বাংলাদেশের বইপত্র ও ম্যাগাজিন নিয়মিত আনার পর বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঢাকায় না পাঠিয়ে বইমেলার জন্য খরচ করতে থাকি। তখন ঢাকা থেকে বই পাঠাতেন আমার বড় ভাই রনজিত সাহা (থিয়েটার মমতাজ উদ্দীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক) বৃটিশ এয়ার ওয়েজের মাধ্যমে। বইমেলার প্রস্তুতির কথা বলে বিভিন্ন প্রকাশক থেকে ১৯৯২ সালের ২১ তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত সহস্রাধিক বই নিউইয়র্কে পৌঁছার পর বইমেলার নতুন বই প্রদর্শনীর দুঃশ্চিন্তাও চলে যায়। এয়ারপোর্ট থেকে বই আনার পর পরই বইয়ের প্যাকেট খোলার আগেই আমার উডসাইডের বাসায় উপস্থিত হন হাসান আল আবদুল্লাহ, সাদ কামালী, ফকির ইলিয়াস, আবু সাঈদ শাহীনসহ তরুণ কবি ও লেখকরা। বইমেলার আগেই প্রায় দু’শবই বিক্রি শেষ। কিন্তু বইমেলা উদ্বোধনের জন্য ডঃ জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে তখনো বলা হয়নি। সবাই মিলে এই দায়িত্ব দেন আমার কাঁধে। শনি, রোববার প্রায় প্রতিদিনই ডঃ জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত ‘প্রবাসী’ কার্যালয়ে আসেন, কিন্তু এই কথা বলার কখনোই সাহস হয়না। এরমধ্যে ‘প্রবাসী’ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাাহকে একুশের প্রথম প্রহর ও বইমেলার কথা বলে ‘প্রবাসী’তে একটি বিজ্ঞাপন বিনা পয়সায় ছাপানোর কথা বললে তিনি তা প্রকাশ করে আমাদের কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করেন। বিষয়টি জ্যোতিদারও চোখে পড়ে; তাঁর সহধর্মিনী লেখক পূরবী বসুর সাথেও এব্যাপারে কথা হয়। ‘প্রবাসী’ অফিসে বইমেলার কথা আলোচনার সময় প্রবাসী সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাাহ ১৯৯১ সালের শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও কবি শামসুর রাহমানকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একাত্তরের দিনগুলি (বাংলাদেশ তখন বেস্ট সেলার বই) বিক্রির জন্য ঘোষণা করেও ৫ কপির বেশি বই বিক্রি না হওয়ার তথ্য দিলে আমার উৎসাহে ভাটা পড়ে। কিন্ত মনে মনে একটা সংকল্প দানা বাঁধে বইমেলা শুরু করতেই হবে।
এরমধ্যে জাতিসংঘের সামনে একুশের প্রথম প্রহর অনুষ্ঠান সফলভাবে পালিত হবার পরের দিনই ডঃ জ্যোতিপ্রকাশ দত্তকে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের কথা বললে তিনি সানন্দে রাজী হন, এবং আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাই। রাতের সভায় অন্যান্য কাজ নিজেদের মধ্যে বন্টন করার মধ্য দিয়ে আমরা উত্তর আমেরিকায় প্রথম বাংলা বইমেলার পূর্ব প্রস্তুতি শেষ করি।
সেদিন শনিবার ব্রুকলিনের চার্চ এভিনিউ এবং রোববার করপাশকৃষ্টি চার্চ মিলনায়নে প্রচন্ড তুষারপাত উপেক্ষা করে যেভাবে বইমেলায় অংশগ্রহণের জন্য দূর দূরান্ত থেকে প্রবাসী কবি, লেখক, সাহিত্যিক ও সাহিত্যমোদীরা যোগ দিয়ে প্রথম বইমেলাকে সার্থক করে তুলেদিলেন তা আজও আমাদের স্মৃতিতে চিরস্মরনীয়। সকাল ১১টায় শিশু-কিশোরদের নিয়ে তাদের অভিভাকরা বাংলা লিখন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হাজির হন। নিউইয়র্ক থেকে ডঃ জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, হাসান ফেরদৌস, মহিউদ্দিন আহমেদ (কূটনীতিবিদ), খন্দকার জাহাঙ্গীর, সাদ কামালী, ফকির ইলিয়াস, হাসান আল আব্দুল্লাাহ, আবু সায়ীদ শাহীন, হাসান আহমেদ, ফাারুক আজম, মণি মোজাম্মেল প্রমুখ কবি ও লেখকের উপস্থিতি ছাড়াও প্রচন্ড বরফের মধ্যে লং ড্রাইভ করে নিউজার্সি থেকে ড. নূরুন নবী, আমিনুর রশীদ পিন্টু, দলিলুর রহমান, ওয়াশিংটন থেকে দিলারা হাশেম, ইকবাল বাহার চৌধুরী, রোকেয়া হায়দার, ফিলাডেলফিয়া থেকে ডঃ জিয়াউদ্দিন আহমেদ, বস্টন থেকে ডঃ সাজেদ কামাল, বদিউজামান নাসিম, ক্যানাডা থেকে ইকবাল হাসানের প্রথম বইমেলায় যোগ দেয়ার কথা কখনো ভুলার নয়।
এরপর প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস এলে জাতিসংঘের সামনে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো এবং উত্তর আমেরিকা বাংলা বইমেলা অভিবাসী বাঙালিদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। ১৯৯২ থেকে ২০২১ গত ৩০ বছরে দুই বাংলার প্রতিথযশা সাহিত্যিকরা এই বইমেলা উদ্বোধন করেছেন। কোন রাষ্ট্রপ্রধান বা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বলে এই মেলা উদ্বোধন করেন না। জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের অর্থ, তথ্য, সংস্কৃতি ও পরারাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বইমেলায় অংশগ্রহণ করলেও বইমেলার উদ্বোধন করে আসছেন লেখকরা। এটাই হলো উত্তর আমেরিকার বইমেলার প্রধান অহংকার। বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয় প্রতিবছর ‘বাঙালির চেতনা’ স্মারক গ্রন্থ। ১৯৯২ সালের নিউইয়র্কে শুরু হওয়া বইমেলা এখন আমেরিকার বাঙালি অধ্যূসিত চারটি শহর নিউইয়র্ক, লস এঞ্জেলস, ডালাস ও নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রত্যেক শহরেই এই বইমেলা উপলক্ষে হচ্ছে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠান। স্বরচিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি, নাটক, সাহিত্য আলোচনা, লেখক-পাঠক মুখোমুখি, সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান, নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলা লিখন ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। মাতৃভাষা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সাথে ঘটছে নতুন প্রজন্মের মেল বন্ধন। মুক্তধারার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন ক্লিন্টন বি সিলি প্রমুখ বরেণ্য গবেষক ও বাংলার বন্ধু। বইমেলায় গত দুই বছর ধরে আসছেন আমেরিকান মূলধারার বিভিন্ন লাইব্রেরির কর্মকর্তা। এর ফলে বাংলা ভাষার লেখকদের সাথে গড়ে উঠছে যোগসূত্র। মুক্তধারার নিউইয়র্কের বইমেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১৯৯২ সালে যে বইমেলা শুরু হয় ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে এই বইমেলার ব্যাপ্তি বাড়তে থাকে। এবছর নিউ ইযর্ক বইমেলায় ১১টি প্রকাশনা সংস্থা বাংলাদেশ থেকে যোগ দিচ্ছে। বাংলা একাডেমী, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, মাওলা ব্রাদার্স, সময় প্রকাশনা, অনন্যা, ইত্যাদি গ্রন্থ সংস্থা, নালন্দা, কথাপ্রকাশ, ধ্রুবপদ, প্রথমা প্রকাশন. থিয়েটার, বেঙ্গল প্রকাশন, গতিধারা, আকাশ প্রকাশন, পুথিনীলয়, আলপনা বুক হাউস ও গণ প্রকাশন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছে বিভিন্ন  সময় বিশ্বভারতী, সাহিত্যম, পত্রভারতী, দেজ, সাহিত্য সংসদসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এতে করে প্রবাসে বসবাসকারী কবি, লেখক ও সাহিত্যিকদের সাথে তৈরী হয়েছে যোগসূত্র। প্রবাসে বসবাসরত লেখকদের গ্রন্থ প্রকাশ হচ্ছে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে।  এখন আর প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাঁদের লেখা গ্রন্থও দু’দেশে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে।  
আর গত কয়েক বছর ধরে যুক্ত হয়, আর একটি নতুন ঘটনা। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নিউইয়র্কের বইমেলা উপলক্ষে তিনটি নতুন গ্রন্থ প্রকাশ হওয়া। প্রকাশনা সংস্থা অনন্যা , বাংলাপ্রকাশসহ যেসব প্রকাশনা সংস্থা নিউইযর্ক বইমেলা উপলক্ষে গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন এজন্য তাদের অভিনন্দন। আর এই যোগসূত্রই হলো উত্তর আমেরিকার বাংলা বইমেলার সার্থকতা। উত্তর আমেরিকা বইমেলার দীর্ঘ ৩০ বছরের ধারাবাহিকতায় নিউইয়র্ক ছাড়াও লস এঞ্জেলেস, ডালাস, হিউস্টন ও নিউজার্সীতেও দুবার করে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আর একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয় বাংলার ভাষার চার নন্দিত লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হুমায়ূন আহমেদ, সমরেশ মজুমদার ও ইমদাদুল হক মিলন আমেরিকায় বইমেলার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একত্রিত হয়েছিলেন। এর আগে ও পরে পৃথিবীর কোন বইমেলায় তাঁদের একসাথে দেখা যায়নি। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই ঘটনা আজ ইতিহাস।
মুক্তধারা নিউইয়র্ক ও বাঙালির চেতনামঞ্চ যে বইমেলাটি শুরু করে, ২০০৭ সাল থেকে এটি আয়োজন করে আসছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন। ২০০৬ সালের অক্টোবর মাসে ৫১ সদস্যের কমিটি নিয়ে অলাভজনক সংগঠন মুক্তধারা ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়েছে। এর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে বাংলাভাষার লেখক-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-শিল্পী ও সাহিত্যানুরাগীরা। নিউইয়র্ক বইমেলাকে সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য ২০১৫ সালে রোকেয়া হায়দারকে চেয়ারম্যান করে গঠিত হয় ২ বছর মেয়াদের কার্যকরী কমিটি। এই কমিটি বইমেলার ২৫ বছরের অনুষ্ঠান করে দেশে বিদেশে সুনাম অর্জন করে। ২০১৭ সালে গঠিত হয় ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদকে চেয়ারম্যান করে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ১৫ সদস্যের ২ বছরের কার্যকরী কমিটি। ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ৩ বছরের জন্য কথাসাহিত্যিক ফেরদৌস সাজেদীনের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এই কমিটি ডা. জিয়াউদ্দীনের নেতৃত্বে ২০২০ সালে অতিমারী কোভিড ১৯ এর মধ্যে পৃথিবীতে প্রথম ভার্চুয়াল বইমেলা করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশেষ করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাঙালিদের মধ্যে সেতুবন্ধনের তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলার ৩০তম উৎসব। ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। আর এই মেলাকে স্বার্থক করতে এবছরের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ও একুশে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ড. নূরুন নবী এবং মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেযারপার্সন  কথাসাহিত্যক ফেরদৌস সাজেদীন, ভাইস চেয়ারপার্সন নিনি ওয়াহেদ, নজরুল ইসলাম, হাসান ফেরদৌস, উপদেষ্টা জামাল উদ্দীন হোসেন, রোকেযা হায়দার, দিলারা হাশেম, ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ, গোলাম ফারুক ভটুইয়া, কার্যকরী কমিটির সদস্য সউদ চৌধুরী, ড. জিনাত নবী, ড. ফাতেমা আহমেদ, কৌশিক আহমেদ, আহমাদ মাযহার, ফাহিম রেজা নূর, রানু ফেরদৌস, আদনান সৈয়দ, জাকিয়া ফাহীম, ইউসুফ রেজা, শামসাদ হোসেন, হারুন আলী, তানভীর রাব্বানী, সাবিনা হাই উর্বি, ওবায়দুল্লা মামুন, সেমন্তী ওয়াহেদ, শুভ রায়, মুরাদ আকাশ।
মঞ্জুর আহমেদ, স্বীকৃতি বড়–য়া, জীবন চৌধুরী, মঞ্জুর কাদের, জয়ন্ত নাগ, শান্তা নাগ, নাসরিন চৌধুরী, আশরাফুল হাবিব চৌধুরী, গোপাল সান্যাল, শাহাদাত হোসেন, আকবর হায়দার কিরন, পারভীন সুলতানা, আলপনা গুহ, আবদুর রহিম বাদশা নিউইয়র্ক বইমেলার প্রাণসঞ্চারে অবদান রেখেছেন।
এর মধ্যে কবি শহীদ কাদরী, মাহফুজুর রহমান, মিজান রহমান, ড. আলী আনোয়ার, মোজাম্মেল হোসেন মিন্টু, আহমেদ মুসাসহ অনেককে আমরা হারিযেছি। ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, জ্যেতির্ময় দত্ত, দিলারা হাশেম, মীনাক্ষি দত্ত, আলোলিকা মুখোপাধ্যায়, অর্ভিন ঘোষ, ইকবাল হাসান, ওয়ালেদ চৌধুরী, ফেরদৌস সাজেদীন, আবদুন নূর, রথীন্দ্রনাথ রায়, দুলাল ভৌমিক, শহীদ হাসান, দর্পণ কবীর, খিজির হায়াৎ, তমিজউদ্দীন লোদী, বদিউজ্জামান নাসিম, হাসান আল আব্দুল্লাহ, শামস আল মোমেন, ফকির ইলিয়াস, হুমায়ূন কবীর, ফারহানা ইলিয়াছ তুলি, সেজান মাহমুদ, সৌম্য দাশগুপ্ত, সুদীপ্ত ভৌমিক, ইব্রাহীম চৌধুরী, মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, ছাখাওয়াৎ আলী, আব্দুর রহিম বাদশা, অরপি আহমেদ বইমেলার পথচলার আলোকবর্তিকা।
ভাষা-সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে উত্তর আমেরিকা প্রবাসী বাঙালি ও বাংলা সংবাদ মাধ্যমগুলো এই বইমেলাকে ভালবেসে আপন করে নিয়েছে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে মুক্তধারা নিউইয়র্কের যৎকিঞ্চিৎ প্রচেষ্টা আজ মুক্তধারা ফাউন্ডেশন সফল করতে চলেছে। বাংলাদেশ, ভারত, ইউরোপ ও আমেরিকার শিল্পী-কবি-লেখক-সাহিত্যিক-সাংবাদিকদের অংশ্রগহণে এই বইমেলা আজ সকল বাঙালীর প্রাণের মেলা।
৩০ বছর আগে যে বীজ রোপিত হয়েছিল জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে একুশের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো ও বইমেলার কর্মসূচী নিয়ে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ২৫ বছর পূর্তিতে সেখানে স্থাপিত হয়েছে মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভাস্কর্য। যা ইতিমধ্যে বহু ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতির এক নব জাগরণ হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশন-এর প্রস্তাবনায় সেনেটর হোজে পেরাল্টা কর্তৃক উত্থাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-এর রেজ্যুলেশনটি পাশ করেছে ২০১৮ সালের মত এবছরও নিউইয়র্ক গভর্ণর এন্ড্রু ক্যুমো। ২০১৬ সাল থেকে  অবশ্য আমেরিকার মূলধারায় যুক্ত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আরেকটি অর্জন। একুশে ফেব্রুয়ারির দিন থেকে আমেরিকার পোস্টাল ডিপাটমেন্ট (ইউএসপিএস) নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস পোস্ট অফিস থেকে মাসব্যাপী ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্মারক সীলমোহর। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও ২০০১ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর ২০১৬ সালের এই অর্জন নিশ্চয়ই প্রবাসী বাঙালীদের পালকে যুক্ত হবে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি নিষ্ঠা-গৌরব ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে।
নিউইয়র্কের মেয়র অফিস থেকে পারমিশন পাওয়ার পর মাত্র দুমাসের মধ্যে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ভাস্কর্য স্থাপন করতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা যদি এগিয়ে না আসতেন তাহলে এটি কখনো ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্থাপন করা সম্ভব হতোনা।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক জাতিসংঘে ঐতিহাসিক বাংলা ভাষণের দিনটিকে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট কর্তৃক বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজ্যুলেশন পাশ করেন নিউইয়র্ক এর গভর্ণর এন্ড্রু ক্যুমো। ২০১৯ সালে বিশ্বজিত সাহার প্রস্তাবনায় নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর স্ট্যাভেস্কি বিলটি উত্থাপন করেন সিনেটে। যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর প্রারম্ভে আমেরিকার মূলধারায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিরল দৃষ্টান্ত।
কভিড-১৯ এ সারা পৃথিবী যখন নিস্তব্ধ তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১০দিনব্যাপী প্রথম ভার্চুয়াল বাংলা বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে সারা পৃথিবীর ৩০টি দেশের লেখক-সাহিত্যিক অংশ্রগহণ করে এক নবদিগন্তের সূচনা হয়। ২৫টি প্রকাশনা সংস্থাকে এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। এ বছরের আহ্বায়ক ডাঃ জিয়াউদ্দীন আহমেদের বিশেষ আগ্রহেই এই কাজটি সম্পন্ন করা সহজ হয়। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তধারার আবেদনে যুক্তরাষ্ট্র ডাক বিভাগ (ইউএসপিএস) ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে মাসব্যাপী জাতির জনকের প্রতিকৃতিসহ বিশেষ স্মারক ডাকচিহ্ন চালু করে।
মুক্তধারার আবেদনে ১৭ মার্চ ২০২০ জাতির জনকের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্ক স্টেট ‘আন্তর্জাতিক বঙ্গবন্ধু দিবস’ ঘোষণা করে রেজুলেশন পাশ করে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তধারা নিউ ইয়র্কের পরিকল্পনায় ও উদ্যোগে ২০২১ সালে ৭মার্চ থেকে ৩১মার্চ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে বঙ্গবন্ধুর ১০০ আলোকচিত্র নিয়ে মাসব্যাপী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধুর কিশোর জীবন থেকে সকল ঐতিহাসিক কর্ম আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। যা বাংলাদেশের বাইরে সর্বপ্রথম এধরণের কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। মুক্তধারার প্রস্তাবনায় নিউ ইয়র্ক স্টেট এর গভর্ণর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক জাতিসংঘে ঐতিহাসিক বাংলা ভাষণের দিনটিকে (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১) নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট কর্তৃক বাংলাদেশি ইমিগ্র্যান্ট ডে ঘোষণার ঐতিহাসিক রেজ্যুলেশন নবায়ন করা হয়।
বাংলা ভাষার গৌরবজ্বোল উপস্থিতি বাঙালি ব্যবসা-বণিজ্যের সাইনবোর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমেরিকার মূলধারার অফিসে-আদালতে-সাবওয়েতে-হাসপাতালে-আমেরিকার নির্বাচনী ব্যালট পেপারে বাংলা ভাষার অন্তর্ভুক্তি আজ উত্তর আমেরিকাবাসী সকল বাঙালির বিশাল অর্জন। এই অর্জনকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিতভাবে শুদ্ধ বাংলা সংস্কৃতির চর্চা। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন গত ৩০ বছর ধরে সে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সচেষ্ট। এর পেছনে রয়েছে প্রবাসী বাঙালিদের ভাষার প্রতি ভালবাসা ও মমত্ববোধ। শুরুর দিকে বাঙালির চেতনা মঞ্চের সাথে যুগপৎ পথচলাসহ দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় অসংখ্য সহযাত্রীদের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মারণ না করলেই নয়।
লেখক: মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, নিউইয়র্ক।

 

Space For Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement Advertisement
সর্বশেষ
জনপ্রিয়