বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
৭৭

ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার!

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২২  

মনজুরুল হক: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের বেকারিগুলো নোটিস দিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফ্রেঞ্চ ভাষায় বলা হয়েছে, ‘নো গ্যাস, নো ব্রেড’। সরল স্বীকারোক্তি। ফ্রান্সের মতো একটা উন্নত ধনী দেশ কপটতার আশ্রয় নেয়নি। চার গুণ বেড়ে যাওয়া গ্যাস সাপ্লাই হচ্ছে না। রাস্তায় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, হাই ইনফ্লাশন ও ইউরোপীয় ইউনিয়বিরোধী জনবিক্ষোভ চলছে। অথচ ‘হঠাৎ সিঙ্গাপুর’ হয়ে ওঠা বাংলাদেশে এরকমই সংকট চলছে। এরই মধ্যে সচিবদের সুইমিংপুলসহ বাড়ির প্রকল্প হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর লটবহরে ১৬৮ জন আমেরিকা ভ্রমণ করছেন। অস্ট্রেলিয়াতে ক্রিকেট দেখতে দঙ্গল ধরে প্রমোদ বিহারে। বাতিল হওয়ার পরও কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রমোদভ্রমণ চলছে। ৬৪ মন্ত্রী আর ৩৩০ সংসদ সদস্যের বিশাল ভরণপোষণ চলছে। পাতালরেল প্রকল্প নাড়াচাড়া হচ্ছে। সরকারি কর্তাদের ৩০০০ সিসির রাক্ষুসে লেক্সাস-প্রাডোর ফুয়েল পুড়ছে। প্রাইভেটকারে গ্যাস চলছে। ভবনে ভবনে আলোশয্যা চলছে। সরকারি কোনো কর্মকর্তার বেতন-ভাতা-ইন্টারটেইনমেন্ট ভাতার এক টাকাও কমেনি।

বাজারে চিনি নেই। আটা ৬০ টাকা কিলো। মোটা চাল ৬৫ টাকা। গো-মাংস ৭০০ টাকা। ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার। অধিকাংশ গরিব মানুষ মাছ-মাংস চোখে দেখছে না। পুষ্টি বলতে কি বোঝায় তা প্রায় ১৫ কোটি মানুষ জানেও না। অন্যদিকে ‘দেশের মালিক’ জনগণকে শুনতে হচ্ছে-‘দিই কারেন্ট বন্ধ করে?’ ‘ভ্যাকসিন দিয়ে বাঁচালাম আর এখন আমাদের বিরুদ্ধে কথা?’ ‘দিনের বেলা বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করে দেব’! দেশটা চালাচ্ছে ব্যাপারি সিন্ডিকেট। তাদের কথামত অর্থনীতি, ব্যাংক ব্যবস্থা, ইনফ্লাশন মোকাবেলা, আমানতের সুদ, রিজার্ভের পরিসংখ্যান চলছে। খাদ্য মজুদ নিয়ে মিথ্যাচার চলছে। যারা কয়েক মাস আগেই বলত-‘আমরা কারো কাছে ঋণ নেব না, আমরা বিশ্বকে ঋণ দেব’, তারাই এখন বলছে-'এলএনজি কেনার টাকা নেই। রিজার্ভ হু হু করে নামছে, আমদানি ব্যয় কী করে মেটাব জানি না'! এসবের সমাধানে বিশেষজ্ঞরা যে সমাধান দিচ্ছেন তা স্রেফ স্টুপিড ওপিনিয়ন।

স্টাবলিশমেন্ট তথা বাংলাদেশের শাসক শ্রেণি সভ্য হবে, মানবিক হবে সে আশা করি না। তাই বলে চরম সত্য চাপা দিয়ে জনগণের বাঁচা-মরা নিয়ে মস্করা? আর কত? আপনারা আপনাদের অযোগ্যতা, দায়িত্বহীনতা, চুরি-ডাকাতি স্বীকার না করলেই কি তা গোপন থাকবে? আজকে না হয় নিরঙ্কুশ ক্ষমতাদণ্ডের দাপটে নিরাপদে আছেন। সেটা কত কাল? নিশ্চয়ই চিরকাল নয়।
 লেখক ও ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর