ঢাকা, ২০২০-০৬-০২ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ,  ১৪২৭

কোন কিছু স্বচ্ছ না হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে

প্রকাশিত: ২১:০৪, ১৮ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২১:০৪, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

আজকাল রিপোর্ট বাংলাদেশের খ্যাতিমান সাংবাদিক ও টকশো’র আলোচিতমুখ গোলাম মোর্তোজা বলেছেন, প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে অনেক প্রতিশ্রুত দেয়। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে বা দেশে দুর্নীতি হলে কিংবা কোন কিছুতা স্বচ্ছতা পরিলক্ষিত না হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে। আর একজন সাংবাদিক হিসেবে আমরা সে প্রশ্নটিই বাংলাদেশে তুলে থাকি। গত ১৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত আড্ডায় গোলাম মোর্তোজা এসব কথা বলেন। সাপ্তাহিক আজকাল খাবার বাড়ির পালকি পার্টি হলে এ আড্ডার আয়োজন করে। আড্ডায় বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, সাংবাদিক, মিডিয়াকর্মী, সমাজকর্মী, রাজনীতিক, নাট্য ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রাণবন্ত এ আড্ডার আলোচনায় উঠে আসে রোহিঙ্গা ইস্যু, দুর্নীতি ও ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকান্ড, ছাত্র রাজনীতিসহ বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ। সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সাপ্তাহিক আজকালের প্রকাশক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন। আড্ডা সঞ্চালনা করেন নির্বাহী সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাগর। অন্ষ্ঠুানে সাংবাদিক গোলাম মোর্তোজা বলেন, প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে জনগণকে অনেক প্রতিশ্রুত দেন। সাংবাদিকদের কাজ হচ্ছে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে কি না তা ধরিয়ে দেয়া। তাদের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি গুরত্ব না দিয়ে সরকার ৫৭ ধারার মতো একটি আইন তৈরী করেছে। এই আইনে যে কোন সময় যে কোন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা যাবে। খুব অবাক লাগে একজন সাংবাদিক কোন শব্দ লিখবে, কোন শব্দ লিখবে না তার মানদন্ড নির্ধারণ করবেন থানার একজন এসআই। তিনি বলেন, খুব শিগগিরই রোহিঙ্গা সংকটের কোন স্থায়ী সমাধান হবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ যেদিন থেকে রোহিঙ্গা সমস্যার শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই মিয়ানমার সব সময়ই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমধান চেয়েছে। এটা তাদের একটা কৌশল। কারণ তারা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না করে তা ঝুলিয়ে রাখতে চেয়েছে। এবার মিয়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা শুরু করলে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই গণহত্যা এবং লাখ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বিষয়ে সোচ্চার হয়। একমাত্র রাশিয়া, চীন ও ভারত বাদে প্রায় সব দেশই বাংলাদেশের পক্ষে ছিলো। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ যখন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিলো ঠিক তখন চীনের পরামর্শে বাংলাদেশ মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য আলোচনায় বসে। ফলে বিশ্বের যেসব দেশের নেতারা এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলো তাদের অনেকেই এখন নীরব ভুমিকা পালন করছেন। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম মোর্তোজা বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে একাধিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছেন সেখানকার এক ছাত্রলীগ নেতা। ঘটনার পর তিনি আবার টিভি সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন আমিতো ক্যাম্পাসেই আছি। ওই ছাত্রের চিকিৎসা করতে কোন হাসপাতাল রাজি হয়নি। পরে ঢাকার কমিউনিটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টর্চার রুম, গেষ্টরুম, নির্যাতন কেন্দ্র নতুন করে গড়ে ওঠেনি। এটা সরকারসহ সবাই জানে। এখন সময় এসেছে এগুলো বন্ধ করার। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি আপতদৃষ্টিতে বন্ধ করলেও তা পুরোপুরি বন্ধ করা যাবে না। আমার মনে হয় আমরা রোগের চিকিৎসা না করে রোগের উপসর্গের চিকিৎসা করছি। দুর্নীতি ও ক্যাসিনো বিরোধী চলমান অভিযান নিয়েও একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন গোলাম মোর্তোজা। অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক আজকাল’র সাবেক সম্পাদক মনজুর আহমদ, নাট্য ব্যক্তিত্ব রেখা আহমেদ, সাপ্তাহিক বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা পত্রিকা ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশের সম্পাদক ড. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সামছুদ্দীন আজাদ, লেখক সাংবাদিক আহমদ মাযহার, কলামিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, কবি শামস আল মমীন, কবি ইশতিয়াক রুপুু, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সিনিয়র রিপোর্টার মনজুরুল হক, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজী আব্দুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আলী ইমাম শিকদার, গোলাম মোর্তোজার সহধর্মীনি শেগুফতা শারমিন, মূলধারার রাজনীতিক ও ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, শো টাইম মিউজিকের কর্ণধার আলমগীর খান আলম, বাংলা ভিশনের উত্তর আমেরিকার বিশেষ প্রতিনিধি প্রতিনিধি নিহার সিদ্দিকী, মানবাধিকার সংগঠন ড্রামের সমন্বয়ক কাজী ফৌজিয়া, সাপ্তাহিক আজকালের বানিজ্যিক প্রধান আবু বকর সিদ্দিকী, প্রধান আলোকচিত্রী এ হাই স্বপন, সময় টিভির উত্তর আমেরিকা প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান সাকী, সাংবাদিক এনামুল হক এনাম, সাংবাদিক তোফাজ্জল লিটন, ভোরের কাগজের উত্তর আমেরিকা প্রতিনিধি শামীম আহমেদ প্রমুখ।
নিউইয়র্ক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়