ঢাকা, ২০২১-০৪-২০ | ৬ বৈশাখ,  ১৪২৮
সর্বশেষ: 
কুরআনের আয়াত বাতিলে ‘ফালতু’ রিট করায় আবেদনকারীকে জরিমানা আদালতের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড ওয়াক্ত ও তারাবি নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ২০ জন বিদেশে মারা গেছে ২৭০০ বাংলাদেশি আর্থিক ক্ষতি মেনেই সাঙ্গ হলো বইমেলা সুন্দরী মডেলের অপহরণ চক্র ! মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিপ্লবে দেশ যুক্তরাজ্যে করোনার আরও মারাত্মক ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ বিরতিতে অক্সফোর্ডের টিকা বেশি কার্যকর সবাই সপরিবারে নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিন নিন: প্রধানমন্ত্রী শেষ রাতে দু’রাকাত নামাজ জীবন পরিবর্তন করে দিতে পারে নতুন করোনাভাইরাস আতঙ্কে ইউরোপ-আমেরিকার শেয়ারবাজারে ধস জুনের মধ্যে আসছে আরও ৬ কোটি করোনার টিকা বাড়িভাড়ায় নাভিশ্বাস, ফের বাড়ানোর পাঁয়তারা অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

২ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন প্যাকেজ

কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে বাইডেনের প্রস্তাব

প্রকাশিত: ০১:৩৫, ৩ এপ্রিল ২০২১  



আজকাল রিপোর্ট
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকায় সবচেয়ে বড় অবকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাবার লক্ষ্যে বাইডেন গত বুধবার ২ ট্রিলিয়ন ডলারের এই প্যাকেজ প্রস্তাব পেশ করেছেন। দেশের কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগকে কয়েক জেনারেশনের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী একটি অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ২ ট্রিলিয়ন ডলারের এই ফেডারেল কর্মসূচিতে অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে। জনগণকে সরাসরি সহযোগিতা দেওয়ার আরেকটি পরিকল্পনাও তিনি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘোষণা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে, করোনার সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আমেরিকার জনগণকে নিয়মিত নগদ অর্থ সহযোগিতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ২১ জন সিনেট সদস্য। প্রভাবশালী এসব সিনেটর প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে আহ্বান জানিয়েছেন, তাঁর আগামী প্রণোদনা প্রস্তাবে যেন জনগণের জন্য এই সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ঘোষিত ২ ট্রিরিয়ন ডলারের প্রস্তাবনায় রয়েছে- পুরনো হয়ে আসা সব সড়ক ও সেতু মেরামত, পরিবহন প্রকল্পগুলির উন্নয়ন, স্কুল ও হাসপাতাল ভবন পুননির্মাণ প্রভৃতি। যেসব কাজে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়াও পরিবহন ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চালিত যানবাহনের সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সারা দেশের পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবার প্রস্তাবও রয়েছে।
এই সব অবকাঠামোগত দিক ছাড়াও তার প্রস্তাবনায় রয়েছে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উল্লেখযোগ্য কিছু লক্ষ্য। এর মধ্যে রয়েছে সারা দেশের জন্য একটি ক্লিন এনার্জি ওয়ার্কফোর্স গড়ে তোলা, ম্যানুফ্যাকচারিং কর্মতৎপরতার সম্প্রসারণ এবং বয়স্ক ও অক্ষমদের সেবাদানের জন্য কেয়ারগিভিং পেশাকে আরো ব্যাপক ভিত্তিক করা। এ প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেছেন, এগুলিকে আমরা বিনিয়োগ হিসাবে দেখতে চাই। বিষয়টিকে এভাবেই সবাইকে দেখতে বলছি।
বাইডেনের এই অর্থনৈতিক এজেন্ডা এখন কংগ্রেসে পাশ হতে হবে। কিন্তু সমান সমান সদস্য সংখ্যার সিনেটে রিপাবলিকানরা ইতোমধ্যেই এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। এ সংক্রান্ত বিল পাশে সিনেটে রিপাবলিকানদের সমর্থন জরুরি।  
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানান হয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই পরিকল্পনায় চারটি মূল খাত রয়েছে। এগুলি হচ্ছে, পরিবহণ অবকাঠামো, এর জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৬২১ বিলিয়ন ডলার। গৃহস্থ জীবনের মানোন্নয়ন, এর জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬৫০ বিলিয়ন ডলার। অক্ষম ও বয়স্ক মানুষদের সেবা দান কর্মসূচি সম্প্রসারণ, এর জন্য ধরা হয়েছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার এবং রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার।
এই ব্যয় সংকুলানের জন্য বাইডেন কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে চান। কর্পোরেশনগুলি বরাবর এই হারেই ট্যাক্স দিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৭ সালে এই হার হ্রাস করেন। বাইডেন মার্কিন বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলিরও নিম্নতম ট্যাক্স বাড়িয়ে ২১ শতাংশ করতে চান।
অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট এ প্রস্তাবনার পক্ষে থাকলেও কেউ কেউ এর বাস্তবায়ন নিয়ে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। প্যাকেজটির সমর্থনে ডেমোক্র্যাটদের কেউ কেউ এমন অভিমতও প্রকাশ করেছেন যে শতাব্দী প্রাচীন সব অবকাঠামোর উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়। কিছু উদারনৈতিক আইন প্রণেতা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই প্যাকেজকে খুবই সীমিত বলে মন্তব্য করেছেন। প্রগ্রেসিভ ককাসের চেয়ারপারসন ওয়াশিংটন থেকে নির্বাচিত রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রমীলা জয়পাল এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি এই লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ মাত্র। তিনি বলেছেন, এক প্রজন্মে আমাদের হাতে এমন সুযোগ একবারই আসে, যখন আমরা ক্ষমতা হাতে পাই।         
এদিকে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই প্রস্তাবনার বিরুদ্ধে রিপাবলিকানরা জোট বাঁধতে শুরু করেছেন। তারা কর বৃদ্ধির বিরোধী। কর বৃদ্ধির প্রস্তাবটি উল্লেখ করে সিনেটের মাইনরিটি লীডার মিচ ম্যাককনেল একে ‘ট্রোজান হর্স’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই ট্রোজান হর্সের ভেতরে রয়েছে সব ঋণ করে আনা এবং ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা ট্যাক্সের অর্থ। যে অর্থ আনা হবে আমাদের অর্থনীতির সব উৎপাদনশীল খাত থেকে। এই প্যাকেজ যদি ব্যাপক ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং জাতীয় ঋণের ওপর নির্ভলশীল হয় তবে তিনি একে সমর্থন করবেন না বলে জানান।
তবে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বাইপার্টিজান ভিত্তিতে প্যাকেজটি পাশ করানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে খোলাখুলি মতবিনিময়ের জন্য রিপাবলিকানদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানাবার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন এবং ইতোমধ্যেই তিনি মিচ ম্যাককনেলকে ফোন করে কথা বলেছেন।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়