ঢাকা, ২০২০-১০-২২ | ৭ কার্তিক,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

ঝুলে থাকল ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান হানিফ ইস্যু

ঐক্যে ফিরল চট্টগ্রাম সমিতি

প্রকাশিত: ০১:৫৪, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০  



                        

       

আজকাল রিপোর্ট
নেতাদের পদত্যাগ, ট্রাস্টিবোর্ড বিলুপ্তের ঘোষণা, অর্থ কেলেংকারি, সংগঠনে নিষ্ক্রিয়তা ও পাল্টাপাল্টি নির্বাচন কমিশন গঠনের পর আবার ঐক্যের কলতানে সরব হয়ে উঠলো প্রবাসে বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন চট্টগ্রাম সমিতি। ২০১৭ সাল থেকে নেতৃত্বের কোন্দলে চট্টগ্রামবাসীর প্রিয় এই সংগঠনটি ঝিমিয়ে পড়েছিল। বর্তমান কমিটির মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হলেও নির্বাচন দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ আসছিল বর্তমান সভাপতি আব্দুল হাই জিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিমের অনুসারিদের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে দুই গ্রুপই পাল্টাপাল্টি নির্বাচন কমিশন গঠন করে। এ অবস্থায় এগিয়ে আসেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সিনিয়র সদস্যরা। গত শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর এক সমঝোতা বৈঠকে মিলিত হয়ে তারা এক সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. হানিফকে অব্যাহতি ও ট্রাস্টি বোর্ড বিলুপ্তের ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক রয়েই গেছে।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনস্থ সমিতির কার্যালয়ে এক জরুরী সভায় আব্দুল হাই জিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশ শাহজাহান মাহমুদকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের এক নির্বাচন কমিশন গঠন করে। কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন মুজিবুল হক, রতন চৌধুরী, মো. জসিম উদ্দীন ও মো. জয়নাল আবেদীন। সভায় সংগঠনের সভাপতি আব্দুল হাই জিয়া ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. হোসাইন নতুন নির্বাচন কমিশনারদের শপথ বাক্য পাঠ করান। পরদিনই পদত্যাগী সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিমের সর্মথকরা পাল্টা নির্বাচন কমিশন গঠন করে।  
সংগঠনের ঐক্য ও নির্বাচন বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি আব্দুল হাই জিয়া আজকালকে বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের কারণে নির্বাচন করা যাচ্ছিল না। সেটা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন আমরা নির্বাচনের পথে এগুচ্ছি। ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়াম্যান মোঃ হানিফই বড় বাধা ছিল। এখন সে পুরোপুরি আউট। তাকে সংগঠন থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাকে বহিস্কারের আদেশে জরুরী সভার ৬৩  সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে কার্যকরী কমিটির ৯ জন সদস্যও ছিল। ভূয়া বিল করে সংগঠনের অর্থ আত্মসাৎ করেছে সে। আমার আগের ২ কমিটিও তাকে বহিস্কার করেছিল। কাজি আজম ও আকবর আলীকে ফোন করলে বিস্তারিত জানতে পারবেন উনার ভানুমতির খেলা। কয়েকটি পত্রিকায় সেলিম পয়সা দিয়ে সংগঠন ও আমার বিরোদ্ধে রিপোর্ট করিয়েছে। টাকার খেলা চলছে। তবে সব ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়ে গেছে। সবাই আমাদের সাথে চলে এসেছে। জনাব সেলিম পত্রিকায় প্রেস রিলিজ পাঠিয়েছিলেন আরেকটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে। সেটার ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি? জবাবে জিয়া বলেন, সব ঠিক হয়ে গেছে। ১০ হাজার সদস্যের সংগঠন। একটু মতভেদতো থাকতেই পারে। এক প্রশ্নের জবাবে জিয়া বলেন, আমি কখনো পদত্যাগ করিনি। এসব মিথ্যে কথা। আমি পদত্যাগ করলে কিভাবে সংগঠন চালাচ্ছি। ‘আপনি সংগঠনের অর্থ অন্য একাউন্টে ট্রান্সফার করেছিলেন। আবার পরে তা জমা করেছেন। তার ডকুমেন্টস সাংবাদিকদের হাতে রয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?’ জবাবে জিয়া বলেন, অর্থ ট্রান্সফারের এ ঘটনা অসত্য। জালিয়াতি স্টেটমেন্ট তৈরি করে মো. হানিফ সাংবাদিকদের দিয়েছে। এ জন্যইতো তাকে বহিস্কার করা হয়েছে। ওনাকে বের করে দেবার পরই আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পেরেছি। এতদিন ওনার জন্য পারিনি। সংগঠনের সভাপতি হিসেবে আমি সহসাই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবো ইনশাল্লাহ।
এদিকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম আজকালকে বলেন, শনিবার জ্যাকসন হাইটস্থ কর্ণফুলি ট্রাভেলস অফিসে উভয় গ্রুপের একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের গ্রুপ থেকে ৪ জন নির্বাচন কমিশন সদস্যকে কো-অপ্ট করা হয়েছে। এখন আমরা এক ও ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেব। সংগঠনের বিশেষ জরুরী ও সমঝোতা সভায় উপস্থিত ছিলেন কাজি আজম, আব্দুল হাই জিয়া, সৈয়দ রেজা, আবু তাহের, মাকসুদুল হক চৌধুরী, খোকন চৌধুরী, মনির আহমদ, মো. হারুন, আবুল কাশেম, এনামুল হক চৌধুরী, নুরুল আনোয়ার, শামসুল আলম চৌধুরী, মেহবুবুর রহমান বাদল, শাহজাহান সিরাজী, ফরহাদ জাফর, আহসান হাবীব ও মো. নাজের।
সংগঠনের ট্রাস্টি বোর্ড বিলুপ্ত কিংবা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. হানিফকে বাদ দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জনাব সেলিম বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। তাকে বাদ দিবে কিভাবে। তাকে বাদ কিংবা বোর্ড বিলুপ্ত করতে হলেতো কার্যকরি কমিটির বৈঠক করতে হবে। তাতো হয়নি। দুই বছর আগে কার্যকরি কমিটির ১১ জন সদস্য নিয়ে আপনি সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। এখনও কি নিজেকে সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন? জবাবে সেলিম বলেন, আমাদের সেই পদত্যাগ পত্রতো গ্রহণ করা হয়নি। তাছাড়া এই সমঝোতা বৈঠকের পর অতীত সব ভুল বোঝাবঝির অবসান হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই সংগঠনের কাজে আবার এগিয়ে যাবো। এদিকে জনাব জিয়া গত শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর আজকালকে জানান, সমঝোতা বৈঠকের পর কমিশনে আমরা আরও ৪ জনকে কো-অপ্ট করেছি। তারা হলেন আবু তালেব চান্দু, এটিএম নজির, নাসির মাস্টার ও মোর্শেদ রিজভী। এখন কমিশনে মোট সদস্য সংখ্যা হলো ৯ জন।
আব্দুল হাই জিয়ার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এতদিন কাজ করেছেন আশরাফ আলী খান লিটন। শনিবারের সভায় পারিবারিক কাজ থাকায় যেতে পারেননি। তিনি আজকালকে বলেন, আমি সংগঠনের নির্বাচিত প্রচার সম্পাদক। ২০১৮ সালে সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম তার সমর্থিত ১১ জনকে নিয়ে পদত্যাগ কররার পর থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছি। জেনেছি আমাদের সংগঠনের ঐক্য সভা হয়েছে। মো. সেলিম সক্রিয় হয়েছেন। আজ থেকে আমি প্রচার সম্পাদকে ফিরে গেলাম। ট্রাস্টি বোর্ড প্রশ্নে লিটন আজকালকে বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হানিফ ভাইকে নিয়েই প্রথম থেকে সমস্যা হচ্ছিল। একাংশ তাকে মানছিল না।   সংগঠনে সংকট তার পদকে ঘিরেই। আমাদের এক বিশেষ সভায় সভাপতি আব্দুল হাই জিয়া ট্রাষ্টি বোর্ডের বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন। লিগ্যালি এখন কোন ট্রাস্টি বোর্ড নেই।
চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. হানিফ আজকালকে বলেন, গঠনতন্ত্র অনুসারে আমি এখনও বৈধ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য। সভাপতি জিয়া একক ক্ষমতার মালিক হয়ে নাকি ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল ঘোষণা করেছে। কার্যকরি কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল করতে পারে না। তার কমিটিতেই তো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। সে আমাকে বাদ দেয় কিভাবে। তার সাথে যে ৮ জন আছে তাদের ৪ জনই আমার পক্ষে। আর সেলিমদের যোগ করলে আমার পক্ষে রয়েছে ২১ জনের মধ্যে ১৫ জনই। আমি সংগঠনে কাজ করি সহায়তা করার জন্য। সংগঠন না চাইলে আমি থাকবো না। কিন্তু নিয়ম নীতি না মেনে বোর্ড বাতিল করার অধিকার কারও নেই। আর জিয়ার কমিটিরইতো মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। তারইতো ভিত্তি নেই। সেতো সভাপতিপদ থেকে পদত্যাগ করেছিল। তার কপি আমার কাছে আছে। সেইতো বৈধ সভাপতি নয়। আমাকে তাহলে বাদ দেয় কিভাবে। আসলে ওর পায়ের নীচে মাটি নেই। তাই যা ইচ্ছে তাই বলছে এবং করছে। সে সভাপতি হিসেবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তার আমলে অফিসের ট্যাক্স, পানি ও ইলেকট্রিক বিল ৩ বছর বাকী পড়েছিল। এ জন্য সংগঠনকে কয়েক হাজার ডলার ফাইন দিতে হয়েছে। সমিতির ব্যাংকের অর্থও অবৈধভাবে সে ট্রান্সফার করেছে। আবার একাউন্টে জমা করেছে। সে সবই করছে ২ জন গড ফাদারের পরামর্শে। সংগঠনকে ভালোবেসে নয়। জনাব হানিফ বলেন, করোনাকালে মৃতদের পরিবারকে সাহায্যের নামে বৈষম্যমূলক আচরন করেছে জিয়া। কাউকে দিয়েছে ৪ হাজার ডলার। আবার কাউকে দিয়েছে ৬শ ডলার। সমিতিরি সদস্যরাই আগামীতে জিয়ার মূল্যায়ন করবে। আমি চাই নির্বাচনটা সুন্দর ও সুষ্ঠভাবে হোক।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট কাজি আজম আজকালকে বলেন, আমাদের হাতে গড়া চট্টগ্রাম সমিতি। বড় একটি সংগঠনে ভুল বুঝাবুঝি হয়। আমরা গত শনিবার এক সাথে বসেছিলাম। সংগঠনের কল্যাণে সবাই মিলেমিশে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন।
নব গঠিত নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আবু তালেব চান্দু আজকালকে বলেন, চট্টগ্রাম সমিতির এক ক্রান্তিলগ্নে আমরা নির্বাচনের দায়িত্ব নিয়েছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার শাহজাহান মাহমুদের সাথে কথা বলে আমরা একসাথে করণীয় ঠিক করবো। নতুন সদস্য সংগ্রহ, সদস্য নবায়ন ও সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেয়াই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে মিডিয়াকে বিস্তারিত জানাবো।

 

কমিউনিটি সংবাদ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়