ঢাকা, ২০২০-১০-২৬ | ১০ কার্তিক,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো

প্রকাশিত: ০৫:১২, ২৪ মে ২০২০  

মহামারির শুরুর দিকে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। আক্রান্তের পাশাপাশি মৃতের হার বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে বেশ কিছুদিন কড়াকড়ির পর ঈদে ঘরমুখী মানুষকে নিজ পরিবহন নিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে আগের চেয়ে শীথিলতা লক্ষ্যণীয়। চলমান পরিস্থিতিতে গ্রামগুলোতে করোনারোগী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যারা ঈদে বাড়িতে যেতে চান, পুলিশ যেন তাদের চলাচলে বাধা না দেয়। তারা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।

এদিকে ১৭ মে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাতে ঢাকায় ঢুকতে বা বের হতে না পারেন, সে বিষয়ে নিরাপত্তাচৌকি জোরদার করতে নির্দেশ দেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। নির্দেশনা পেয়ে ওই দিন দুপুর থেকে পুলিশ কড়াকড়ি আরোপ করে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ঈদে যাতে নিজ অবস্থান ছেড়ে কেউ গ্রামের বাড়ি না যেতে পারেন, সে ব্যাপারে বিভিন্ন জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এরপর বৃহস্পতিবার বলা হয়, গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, তবে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কেউ চাইলে যেতে পারবেন। বৃহস্পতিবার পুলিশের এই ঘোষণার পর থেকে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নামে সড়কে।

সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে কেউ আক্রান্ত বা করোনার উপসর্গ দেখতে পেলে বাড়ি যেতে উৎসুক হয়ে ওঠেন। একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে তাদের বাড়িতে ফেরার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে, অনেকে গ্রামে পরিবারের কাছে নিজেকে নিরাপদ মনে করলেও এ পরিস্থিতে নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে উপসর্গ থাকা লোকেদের এবং যাদের প্রয়োজন নেই তাদের গ্রামে যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুসারে জানা যায়, গ্রাম্য অঞ্চলগুলোতে ঈদে মানুষ ঘরে ফিরলেও স্থানীয় যুবকরা নিজ উদ্যোগে দলবদ্ধ হয়ে ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে ফেরা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করছেন। অনেক সময় এ ধরনের লোকদের স্কুলঘর বা সাইক্লোন সেল্টারসহ বিভিন্ন জায়গায় রাখা হচ্ছে।

বিবিসির বাংলার ২২ মে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিদিন যত টেস্ট করা হচ্ছে তার মধ্যে অন্তত ১৫ শতাংশের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। এখন বলা হচ্ছে, করোনাভাইরাসের চূড়ান্ত ধাক্কা আসতে পারে জুন অথবা জুলাই মাসে। অথচ এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৪ শ ছাড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের এ সময়টিতে বাংলাদেশের সমাজের একটি অংশের অমানবিক আচরণ অনেকেই লক্ষ্য করেছে। আক্রান্ত কিংবা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে একঘরে করে দেয়া কিংবা বাড়ি ছেড়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করার অভিযোগও উঠেছে। এর ফলে অনেকের মধ্যে লক্ষণ-উপসর্গ থাকলেও তারা টেস্ট করাতে যাননি। তাদের মনে ভয় তৈরি হয়েছে যে রিপোর্ট পজিটিভ হলে হয়তো বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে।

এতোকিছুর পর মানুষ গ্রামে গিয়ে পরিবারের সাথে সময় কাটানোয় খারাপ কিছু ফল আসতে পারে বলে সতর্ক করে বিশেষজ্ঞরা এতো তাড়াতাড়ি চলাচলে ছাড় না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২০ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে মহামারি করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। ফলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ৮৭৩ জন। এটি একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। এতে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩২ হাজার ৭৮ জনে।

শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো নয় হাজার ৯৭৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় আগের কিছু মিলিয়ে ১০ হাজার ৮৩৪টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৭৫টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় আরো এক হাজার ৮৭৩ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরো ২০ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হ‌য়েছেন আরো ২৯৬ জন। এ নি‌য়ে সুস্থ হ‌য়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ছয় হাজার ৪৮৬ জ‌নে।

নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ১৬ জন পুরুষ ও চারজন নারী। চারজন ঢাকা বিভাগের, আটজন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুজন করে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের এবং একজন করে সিলেট ও খুলনা বিভাগের। হাসপাতালে মারা গেছেন ১৫ জন, বাসায় চারজন এবং হাসপাতালে আনার পথে মারা গেছেন একজন। বয়সের দিক থেকে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী দু’জন, ত্রিশোর্ধ্ব তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব আটজন, ষাটোর্ধ্ব তিনজন এবং সত্তরোর্ধ্ব একজন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়