বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২   অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯   ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
কোনো ভুল মানুষকে পাশে রাখতে চাই না বাসস্থানের চরম সংকটে নিউইয়র্কবাসী ট্রাকসেল লাইনে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত একাকার! ছুটি ৬ মাসের বেশি হলে কুয়েতের ভিসা বাতিল ১০ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
৩৮

ডলার সংকট

আমদানিনির্ভর প্রকল্প ঠিক সময়ে শেষ করা নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২২  

 

দেশে চলমান ডলার সংকটের মধ্যে আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশভিত্তিক প্রকল্পগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশন বেশ কিছু প্রকল্পে সংশোধনী এনেছে। এসব প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বাড়ছে। মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর নানা কারণের মধ্যে একটি হলো ডলারের মূল্যবৃদ্ধি।

চলমান পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন না হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে আছে আমদানিনির্ভর বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকল্পগুলো। কারণ এসব প্রকল্পের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যন্ত্রাংশই আনতে হয় দেশের বাইরে থেকে। এতে ব্যয় হয় দেশের রিজার্ভ।

kalerkanthoবিশ্লেষকরা বলছেন, যেসব প্রকল্প দেশের টাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং আমদানিনির্ভর—সেগুলো যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। এই ধাক্কা পড়বে মূলত বিদ্যুৎ বিভাগের বিতরণ, সঞ্চালন, উৎপাদন, কারিগরি—এই চার ধরনের চলমান প্রকল্পগুলোতে। কারণ এসব প্রকল্পের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যন্ত্রাংশ বা সরঞ্জাম আমদানি করতে হয় ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। যেসব প্রকল্পের বৈদেশিক বিনিয়োগ নেই ও আমদানিনির্ভর, সেসব প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন নিয়ে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের। শুধু বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকল্প নয়, অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ও কারিগরি প্রকল্পগুলো নিয়েও রয়েছে আশঙ্কা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেসব প্রকল্পে আমদানি প্রয়োজন সেসব প্রকল্পে আমদানি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। প্রকল্প ঋণের বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে আমদানি ব্যয় মেটালে দেশের রিজার্ভ থেকে ডলার খরচ করতে হবে না। ’ তিনি আরো বলেন, ‘যেসব প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেসব প্রকল্পে যন্ত্রাংশ-সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হলে অবশ্যই রিজার্ভে হাত দিতে হবে। কিন্তু সেটা চলমান পরিস্থিতিতে কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে ভাবতে হবে। ’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে এসেছে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব। প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডলারের দাম বাড়ায় নানা খাতে খরচ বাড়ছে। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে ১৬৮ কোটি ৮৩ টাকা। আজ বৃহস্পতিবার এ প্রস্তাব নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার হারুনুর রশীদ বলেন, ‘ডলারের দাম বেড়েছে, সে জন্য মোট প্রকল্প ব্যয়ের ওপর এটার প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া এই ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরো নানা যৌক্তিক কারণ আছে। ’ তবে এসব কারণ কী এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে একটি সূত্রে জানা গেছে, ডলার সংকটের কারণে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, তাদের ঋণপত্র খুলছে না ব্যাংক। এ কারণে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের যন্ত্রপাতি আমদানি করা যাচ্ছে না। ফলে সঞ্চালন লাইনের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকে ঋণপত্র খোলার ব্যবস্থা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানিতে ঋণপত্র খোলার জন্য দুই মাস ধরে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি) বিভিন্ন ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু কেউই পাঁচ হাজার ২৪০ কোটি টাকার এ ঋণপত্র খুলতে রাজি হয়নি।

পিজিসিবি সূত্র বলছে, পাবনার রূপপুরে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সঞ্চালন লাইনের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৮ সালে একনেকে অনুমোদন পায়। এই প্রকল্পের আওতায় মোট সাতটি প্যাকেজ রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টি প্যাকেজের কাজ চলমান। তবে জটিলতা তৈরি হয়েছে একটি প্যাকেজ (৬) নিয়ে। এই প্যাকেজের আওতায় সঞ্চালন লাইন নির্মাণের জন্য যমুনা নদীতে ১৪টি ও পদ্মা নদীতে দুটি টাওয়ার বসবে। দুটি নদীতে টাওয়ার বসাতে বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করতে হবে। যন্ত্রপাতি আমদানিতে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও তুরস্কের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু ঋণপত্র খুলতে না পারায় যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ঋণপত্র খোলার বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন পিজিসিবির কর্মকর্তারা। সেখানে ঋণপত্র খোলার শর্ত হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার সরবরাহ করবে, এই নিশ্চয়তা চায় সোনালী ব্যাংক। অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ও সোনালী ব্যাংকের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করতেই অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া।

এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ডলার সংকটের কারণে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়াতে যাচ্ছে, রূপপুরে নির্মাণাধীন দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু ওই সময়ে রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে না। ফলে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা  বলেন, ‘ডলারের সংকটের কারণে দেশীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়ন হওয়া নিয়ে আশঙ্কা আছে। কারণ সরকার এখন কোনো পরিস্থিতিতে রিজার্ভের অর্থ খরচ করবে না। সামনের দিনে কী হবে তা এখন বলা কঠিন। তবে সরকারের উচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো আগে বাস্তবায়ন করা, যেখান থেকে আমরা লগ্নি পাব। ’

উল্লেখ্য, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কমায় রিজার্ভ কমেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার জোগান বাড়াতে বাজারে ডলার ছেড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪.২৬ বিলিয়ন ডলার। তবে নেট রিজার্ভ (আইএমএফের হিসাবে) ২৬ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। - কালের কণ্ঠ

 

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর