শুক্রবার   ০৭ অক্টোবর ২০২২   আশ্বিন ২২ ১৪২৯   ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সর্বশেষ:
চুক্তিতে বিয়ে করে ইউরোপে পাড়ি আইফোন ১৪ প্রোর ক্যামেরায় নতুন দুই সমস্যা পায়ের কিছু অংশ কাটা হলো গায়ক আকবরের ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১০০ কোটি ডলার নারী ফুটবলে দক্ষিণ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
৩৮

ব্রেন্টন ছিল জিম ট্রেইনার

প্রকাশিত: ১৬ মার্চ ২০১৯  

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দু’টি মসজিদে বন্দুক হামলা চালিয়ে অন্তত ৪৯ জন মুসলিমকে হত্যাকারী পরিচয় সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানা গেছে। হামলাকারী ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয় নাগরিক বেন্টন ট্যারেন্ট একজন ব্যক্তিগত জিম ট্রেইনার ছিলেন। 

তিনি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর নিউ সাউথ ওয়েলসে’র গ্র্যাফটন শহরের বিগ রিভার জিম’এ চাকরি করতেন।- খবর এবিসি নিউজ ও ডয়চে ভেলে’র

জিমনেশিয়ামটির ম্যানেজার ট্রেসি গ্রে এ সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি নিউজিল্যান্ডের মসজিদে গণহত্যা চালিয়ে তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছেন, তিনি তাদের জিমেরই একজন ট্রেনার। 
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে হাইস্কুল পাশ করার পর থেকে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দু’বছর সেখানে কাজ করেছেন। এরপর তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে বিদেশ সফরে চলে যান। 

 

ট্রেসি বলেন, ট্যারেন্ট একজন নিবেদিত প্রাণ ট্রেইনার ছিলেন। সে প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক সেবার অংশ হিসেবে এলাকার শিশুদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 

তিনি জানান, তার কাছে কখনই মনে হয়নি যে সে এমন সহিংস কিছু করতে পারে। নিশ্চই পরবর্তী বছরগুলোতে তার সঙ্গে এমন কিছু ঘটেছে যা তাকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দিয়েছে। 

ট্যারেন্ট জানিয়েছেন, জিমের চাকরি ছাড়ার পর তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমনের আগে স্বল্প সময়ের জন্য ‘বিটকানেক্ট’ নামক একটি ক্রিপটো কারেন্সি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করেছিলেন। এরপর কিছু টাকা জমিয়ে তিনি সফরে নেমে পড়েন। 
তার পাসপোর্টে’র তথ্যমতে তিনি ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো সফর করেছেন। ট্যারেন্ট তার সফরে বিতর্কিত দেশ উত্তর কোরিয়াও সফর করেছেন। 

ট্যারেন্ট তার সম্পর্কে বলেছেন, তিনি হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার একটি সাধারণ শ্রমজীবি পরিবারের একজন ‘সাধারন শেতাঙ্গ’ মানুষ। 

 

ট্রেসি জানিয়েছেন, ট্যারেন্ট হাইস্কুলে পড়াশোনা করা অবস্থায়ই তার বাবা মারা যান। তার পরিবারে মা ও এক বোন রয়েছেন। 

শুক্রবার ‘আল নূর' মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনার পর এক তদন্তে নিউজিল্যান্ড পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী ট্যারেন্ট ও তার সহযোগীরা অতি-ডানপন্থি, মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবাপন্ন।

ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া একটি ইশতেহার থেকে জানা যায় ট্যারেন্ট অভিবাসী ও মুসলিমদের প্রতি বিরূপ মনোভাবাপন্ন ছিলেন। ৭৪ পৃষ্ঠা দীর্ঘ এই ইশতেহারে বারবার সে শ্বেতবর্ণ মানুষদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলেছেন।
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে ঢুকে হামলার ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। এদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি থাকার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান।

ট্যারেন্ট সামাজিক মাধ্যমে আগেও নানা বিদ্বেষী বক্তব্য ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেই গোটা হামলার ঘটনাটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। সেই ভিডিওতে গুলি করে নিরীহ মানুষকে হত্যা করাকে ‘পার্টি'র সঙ্গে তুলনা করেন তিনি!

 

কেন এই হামলা?
সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই যুবকের ভেতর আগে থেকেই ছিল বর্ণবাদ, অন্ধত্ব।
নিজের ভেতরে এই বাড়তে থাকা বিদ্বেষের সাথে সাথে এমন হামলার কারণ হিসাবে ইশতেহারে সে দিয়েছে ইউরোপের উদাহরণ।

ফ্রান্সে বেড়াতে এসে আশেপাশে বহু অভিবাসী মানুষদের দেখে যুবকটি আস্তে আস্তে এই হামলার জন্য নিজেকে তৈরি করেন। তিনমাস আগেই টার্গেট হিসাবে ঠিক করে ক্রাইস্টচার্চ।

হামলাকারী যুবকের খাতা-কলমে কোনো চরমপন্থি সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
কিন্তু তার ইশতেহার ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে লেখা প্রতিক্রিয়া থেকে পুলিশ ধারণা করছে যে একাধিক বর্ণবাদী, ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তিদের দ্বারা সে অনুপ্রাণিত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, অভিবাসীদের ‘বহিরাগত' ভাবা এই যুবকের বন্দুকের গায় হিটলারের স্লোগান লেখা ছিল!

সাপ্তাহিক আজকাল
সাপ্তাহিক আজকাল
এই বিভাগের আরো খবর