ঢাকা, ২০২০-০৮-১৫ | ৩১ শ্রাবণ,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

বেকার ভাতা প্রশ্নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা মুখোমুখি

আটকে গেছে ১২শ ডলারের স্টিমুলাস

প্রকাশিত: ০৫:৫৫, ৩১ জুলাই ২০২০  



আজকাল রিপোর্ট
আমেরিকান জনগণকে করোনাকালীন সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় স্টিমুলাস বিল নিয়ে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা এখন মুখোমুখি। স্টেটের বেকার ভাতার সাথে অতিরিক্ত ৬০০ ডলার প্রদানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্যরা। যা কি-না আমেরিকান বেকার নাগরিকরা গত মার্চ থেকে প্রথম স্টিমুলাস বিলের (কেয়ার এ্যাক্ট) আওতায় পেয়ে আসছেন। ফেডারেল থেকে প্রাপ্ত এ ৬০০ ডলার বন্ধ হয়ে গেছে শুক্রবার থেকেই। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানরা ৬০০ ডলার প্রদানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, একজন বেকার কাজ না করেই ঘরে বসে যে পরিমাণ বেকারভাতা পাচ্ছেন তা চাকুরি (কাজ করে) করে যা পেতেন তার চেয়ে বেশি। ফলে তারা আর কাজে ফিরে যাচ্ছেন না । এমপ্লয়ার ডাকলেও তারা নানা অজুহাতে ঘরে বসে থাকছেন। রিপাবলিকানরা স্টেটের বেকার ভাতার সাথে নতুন ‘হিলস কেয়ার এ্যাক্ট’ এর আওতায় ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে ২০০ ডলার প্রদানের পক্ষে। এ ২০০ ডলার প্রদান অব্যাহত থাকবে যতদিন পর্যন্ত স্টেট বেকার জনগণের মূল বেতনের শতকরা ৭০ ভাগ দিতে সার্মথ না হবে। এ লক্ষ্যে রিপাবলিকান দলের পক্ষে সিনেট মেজোরিটি লিডার মিচ ম্যাককনেল গত সোমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বিল উত্থাপন করেন। সর্মথন মেলেনি বিরোধী দল থেকে। দ্বিতীয় স্টিমুলাস বিল পাশ করতে হলে অবশ্যই প্রথমটার মতো ডেমোক্র্যাটদের সর্মথন লাগবে। মে মাসে ডেমোক্র্যাটরা বেকার ভাতার সাথে ৬০০ ডলার প্রদানের বিধান আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখাসহ ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বিল (হিরো এ্যাক্ট) হাউজে (হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস) পাশ করে। কিন্তু তা সিনেটে যাবার পর আর আলোর মুখ দেখেনি।
উল্লেখ্য, হাউজে সংখ্যা গরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট আর সিনেটে রিপাবলিকানরা। ডেমোক্র্যাটদের বিলে করোনা বিপর্যয়ের কারণে স্টেট ও স্থানীয় সরকারগুলোকে সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব জোড়ালোভাবে উল্লেখ ছিল। কিন্তু গত সোমবার মিচ ম্যাককোনাল প্রস্তাবিত বিলে স্টেট ও স্থানীয় সরকারগুলোকে সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব স্থান পায়নি। তবে উভয় বিলেই এককালীন প্রত্যেক পরিবারের প্রাপ্ত বয়স্কদের সর্বোচ্চ ১২০০ ডলার ও ডিপেনডেন্ট বাচ্চাদের জন্য ৫০০ জন্য প্রদানের বিধান রয়েছে। প্রথম স্টিমুলাস বিলে ১৭ বছরের বেশি ডিপেনডেন্ট  কোন অর্থ পাননি। এবার দু’দলই ডিপেনডেন্ট বাচ্চাদের ৫০০ ডলার প্রদানের প্রস্তাব করেছে। যেখানে বয়স কাউন্ট করা হবে না। অর্থাৎ সব ছেলেমেয়েরা পাবেন। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ হচ্ছে, অধিকাংশ স্থানীয় সরকারগুলো ডেমোক্র্যাট দলীয় জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে থাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তারা আমাদের প্রস্তাব সর্মথন করেনি।
পহেলা আগস্ট থেকে আর বেকারভাতার সাথে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত ৬০০ ডলার আর পাওয়া যাবে না। ২ কোটি বেকার আমেরিকান পড়বেন এক বিশাল অর্থনৈতিক সংকটে। এ সমস্যা সমাধানে গত সোমবার থেকে একটি সমঝোতায় আসার লক্ষ্যে উভয় দল দফায় দফায় মিলিত হন। কোন ফয়সালা আসেনি। বরং সিনেট ফ্লোরে সরকারি দলের প্রধান মিচ ম্যাককোনেল ও বিরোধী দলীয় প্রধান চাক শুমার এক অপরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখেন। ম্যাককোনেল নিজেই আলোচনার পরিবেশ নেই বলে সরে পড়েন।
অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। আলোচনায় বসেন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মুনশন, হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ মার্ক মেডোস, কংগ্রেসের স্পীকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটের মাইনোরিটি লিডার চাক শুমার। সোমবার সে আলোচনাও ভেস্তে যায়। এমতাবস্থায় এগিয়ে আসেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাস্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখনই ‘স্বল্পমেয়াদি বেকার ভাতা সহায়তা ও ইভিকশন মোরাটোরিয়াম’ বিল পাশ করতে হবে। নাহলে মিলিয়ন মিলিয়ন আমেরিকান সংকটে নিপতিত হবেন। যাতে বেকার আমেরিকানরা স্টেটের ভাতার সাথে অতিরিক্ত অর্থ পান এবং টেন্যান্টরা বাড়ি ও প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদ না হন। ট্রাম্পের এ প্রস্তাবে সায় দেননি ন্যান্সি পেলোসি। তিনি বলেছেন, আমেরিকানদের জীবন মরণ সম্যসায় খন্ড খন্ড কোন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। সবকিছুই একটি প্যাকেজে আসতে হবে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্টিভেন মুনশন প্রেসিডেন্টকে সর্মথন করে বলেন, শুক্রবার ডেডলাইন। এরমধ্যে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকাদের সমঝোতায় আসতে হবে। তা না হলে প্রেসিডেন্ট চান শর্ট টার্মের জন্য ‘আনএমপ্লয়মেন্ট ও ইভেকশন বিল’ পাশ হোক। তারপর উভয় পক্ষ সময় নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় স্টিমুলাস প্যাকেজ বিল নিয়ে আর কোন অগ্রগতি জানা যায়নি।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়