ঢাকা, ২০২০-১০-২৬ | ১০ কার্তিক,  ১৪২৭
সর্বশেষ: 
অমিতাভের পর অভিষেকও করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ধরেই নিচ্ছে বাংলাদেশ জালিয়াতির দেশ : শাহরিয়ার কবির ইরাকে মর্গের পাশে রাত কাটছে বাংলাদেশিদের! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক বাংলাদেশের সেঁজুতি সাহা সাহেদর টাকা থাকত নাসির, ইন্ডিয়ান বাবু ও স্ত্রী সাদিয়ার কাছে ‘বাংলাদেশিদের ভোট দিন’ মানবতার সেবায় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা থামছেই না বিক্ষোভ অব্যাহত গভর্নরের সিদ্ধান্ত মানছে না মেয়র অভিবাসীরা জিতলেন হারলেন ট্রাম্প করোনার ধাক্কা - মে মাসে রপ্তানি কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার পুলিশ সংস্কার বিল উঠলো মার্কিন কংগ্রেসে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমের জন্য মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন আইসিইউ নিয়ে হাহাকার ঈদের ছুটিতে অনিরাপদ হয়ে উঠছে গ্রামগুলো ঘরে ঘরে ভুতুড়ে বিল, বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে সমন্বয় হবে নিউইয়র্কে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ নিউইয়র্কে জেবিবিএ’র পরিচালক ইকবালুর রশীদ লিটনের মৃত্যু নিজ আয়ে চলা শুরু করলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কবে খুলবে নিউইয়র্ক নিউইয়র্কে এবার নতুন ভাইরাসে শিশুরা আক্রান্ত

অনিশ্চিতায় ফেরদৌস খন্দকার

প্রকাশিত: ০১:৫৪, ২০ জুন ২০২০  


ঢাকায় আর্জেন্ট কেয়ার স্থাপন
নাকি ফিরতি ফ্লাইটে
নিউইয়র্কে প্রত্যাবর্তন?

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউইয়র্ক ও ঢাকা
ঢাকায় বাধ্যতামূলক কোয়ান্টিনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকারের হোম কোয়ান্টিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে ২১ জুন। এরপর তিনি কি করবেন? চলে আসবেন নিউইয়র্কে নাকি বাংলাদেশে থাকবেনÑ এ নিয়ে এখন আলোচনা সর্বত্র। ফেরদৌস খন্দকারের বরাতে ঢাকা ও নিউইয়র্কের সূত্রগুলো জানায়, কোয়ারেন্টিন শেষ হলে তিনি বাংলাদেশের করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে চান। নিউইয়র্কের আদলে আর্জেন্ট কেয়ার ও আউট ডোর সেন্টার স্থাপন করতে চান ফেরদৌস খন্দকার। এজন্য সরকারের কাছে অনুমতির আবেদনও করে রেখেছেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে তিনি ফিরে আসবেন নিউইয়র্কে। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন আলোচিত চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকার।  
গত ৭ জুন রোববার কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ বিমানে আরও ১৩১ জন যাত্রীর সাথে ঢাকায় যান ডা. ফেরদৌস খন্দকার। কিন্তু ঢাকায় গিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনী খন্দকার মোস্তাক ও কর্নেল রশীদের অত্মীয়। এ নিয়ে ফেরদৌস খন্দকারের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচার ঝড় ওঠে। এ অবস্থায় তিনি ঢাকায় পৌছার পরই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠায়। প্রকৃত অর্থে গোয়েন্দা সংস্থার নজরবন্দিতে রাখা হয় তাকে। এরই মধ্যে ফেরদৌস খন্দকারের পক্ষে তার সহকর্মীরা অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই জানান, ফেরদৌস খন্দকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। তিনি মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
যেভাবে বিতর্কের শুরু:
নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক ও আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি দর্পণ কবীর নিউইয়র্ক সময় ৫ জুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টের সূত্র ধরে ঘটনাপ্রবাহ এগোতে থাকে। ‘ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে নিয়ে ঘরে ঘরে চিকিৎসা দেয়ার মিথ্যা প্রচারণা কেন?’ শিরোনামে পোস্টে দর্পণ কবীর লিখেনÑ ‘ফেসবুকে একাধিক মিডিয়া কর্মী অনেকদিন ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেনÑ নিউইয়র্কের চিকিৎসক ফেরদৌস খন্দকার একজন দেবদূত। তিনি নিউইয়র্ক শহরে ঘরে ঘরে গিয়ে করোনা রোগীর চিকিৎসা করেছেন। এটি একটি ডাহা মিথ্যা তথ্য। কারণ, নিউইয়র্কের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা নিতে কোন মানুষের অর্থ খরচ করতে হয় না এবং বৈধ বা অবৈধ অভিবাসী কিনা এই প্রশ্নের মুখোমুখিও হতে হয় না। এমন চিকিৎসা ব্যবস্থার সমাজে তিনি কার ঘরে বা কতজন করোনা রোগীর ঘরে গিয়ে চিকিৎসা দিলেন? কেনই বা দিলেন? কারা তার চিকিৎসা নিলেন এবং কেন?
ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার এমন কতজন রোগীর নাম বলতে পারবেন, যারা হাসপাতালে চিকিৎসা পাননি বলে তিনি তাদের চিকিৎসা দিয়েছেন। একজনের নামও তিনি বলতে পারবেন না। আমরা ফেসবুকে দেখেছি, তিনি দু’একজনের বাড়িতে গেছেন ক্যামেরাসমেত সাংবাদিক নিয়ে। প্রচারণাই ছিল লক্ষ্যÑ বুঝতে পারি। তিনি যে কয়জন রোগীর বাড়িতে গিয়েছেন, তারা হাসপাতালে যাননি নিজের ইচ্ছায়। নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তারা। অতি উৎসাহীদের কারণে বা বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার তাদের বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। এদের সংখ্যা কয়েকজন মাত্র। অথচ তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে করোনা রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন বলে অতিরঞ্জিত করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যা হাস্যকর। আর যদি তিনি বলার চেষ্টা করেন যে, চিকিৎসা পাচ্ছিলেন না বলে তিনি করোনা রোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা করেছেন, তাহলে সেটা নিরেট মিথ্যাচার।
তিনি করোনা রোগ সম্পর্কে অন-লাইনে বা সোশাল মিডিয়ায় অনেক কথা বলেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন এবং জ্যাকসন হাইটস এলাকায় পিপিই উপকরণ ও খাদ্য দ্রব্য বিতরণ করেছেন। এই কৃতিত্ব তার আছে। কিন্তু ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসা সেবার প্রচারণা ঠিক হচ্ছে না। যারা করছেন, তারা একটু খোঁজ নেবেন নিউইয়র্কের চিকিৎসা সেবার বিষয়ে।
তাঁর রাজনৈতিক উচ্চবিলাস থাকতে পারে, তিনি ওই লক্ষ্যে দেশে গিয়ে মানুষের সেবা করতে পারেনÑ সাধুবাদ জানাই। কিন্তু নিউইয়র্কের মানুষকে চিকিৎসা সেবার কথা বলে যা বোঝাতে চাচ্ছেন তা ঠিক হচ্ছে না।
নিউইয়র্কে জামাতী মিডিয়া কর্মীরা তাঁকে ঘিরে আছেন, সেটাও অবাক চোখে দেখছি।’
দর্পণ কবীরের এই পোস্টটি যখন দিয়েছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার তখন বিমানে। দর্পণ কবীরের এই লেখাটির পর ঢাকায় সিনিয়র সাংবাদিক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পিআইবি’র মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ একটি পোস্ট দেন ফেইসবুকে। ‘খুনীদেও স্বজন’ শিরোনামে জাফর ওয়াজেদ পোস্টে লিখেনÑ “বঙ্গবন্ধুন খুনী কর্নেল রশীদের খালাতো ভাই ও খুনী মুশতাকের ভাগ্নে আমেরিকা হতে ঢাকায় আসা নিয়ে ফেসবুক, সংবাদপত্রে তোড়জোড় ক’দিন ধরেই। করোনাকালে চিকিৎসা সেবা প্রদানের নামে তার এই আগমনে তোলপাড়। কতিপয় আওয়ামী সমর্থক ফেসবুকে তাকে প্রায় মহামানবের স্তরে নিয়ে গেছে। কুমিল্লার দেবিদ্বারের এই তিনি তারেক রহমানের ডোনার। চমেকের ছঅত্রটি আমেরিকা হতে অঅসার আগে লিখেছেনÑ ‘আমি আসছি’।”
জাফর ওয়াজেদের এই পোস্টটি ভাইরাস হয়। মূলত এরপরই শুরু হয় বিতর্ক, তোলপাড়। ঢাকা বিভিন্ন মিডিয়ায় এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
দেশে ফিরে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার পর উদ্ভুত বিতর্ক নিয়ে নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ফেরদৌস খন্দকার লিখেনÑ ‘দেশে আসার জন্য যখন এয়ারক্রাফটে চড়ে বসি তখনও ভাবিনি, আমার জন্য এতো লজ্জাজনক তিক্ত অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে। যা দেশের মানুষের কাছ থেকে আমার প্রাপ্য ছিল না। এমন কোনো অন্যায়, অপরাধ আমি করিনি। আমি দেশের মন্ত্রী এমপি কিংবা উচ্চপদে আসীন হতে চাইনি। কোভিড-১৯ নিয়ে গত তিনমাস যুক্তরাষ্ট্রে অমানুষিক পরিশ্রম করেছি। দেশেও এসেছি দেশের মানুষের কোনো কাজে নিজেকে লাগানো যায় কিনা সেই উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউ আমার সেবা না চাইলে আমি আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবো। আমার জন্মভূমি বাংলাদেশ। এই দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমি ডাক্তার হয়েছি। দায়িত্ববোধ থেকেই বার বার দেশে আসি। মানুষের জন্য কাজ করি। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে আসি না। এই দেশ থেকে ডাক্তারি পাশ করে বিদেশ গিয়ে ৯০ শতাংশই দেশে আসেন না। আমার অপরাধ আমি দেশে বার বার আসি। প্লেন থেকে নেমেই জানলাম আমাকে বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের ভাতিজা উপাধি দেয়া হয়েছে। আরেক খুনি রশিদের খালাতো ভাই বানানো হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, আমি নাকি পলাতক তারেক রহমানকে নিয়মিত টাকা পয়সা দেই।
এইসব নিয়ে আসলেই আমি বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার বাড়ি কুমিল্লা, নামের সাথে খন্দকার আছে। তাই হয়তো মোস্তাক-রশিদ গংদের আত্মীয় উপাধি দেয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলে হয়তো গোলাম আযমের আত্মীয় বানানো হতো। গোপালগঞ্জ বাড়ি হলে হয়তো বলতো আমি মুফতি হান্নানের আত্মীয়। যারা এইসব অপবাদ দিচ্ছেন জানি না তাদের আমি কি ক্ষতি করেছি। আমি যা না আমারে তা বানিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু আমি যা ছিলাম তা বলছেন না কেন আপনারা? ১৯৯১ সালের পর চট্টগ্রাম  মেডিকেলে শিবির ছাত্রদলের তোপের মুখে ছাত্রলীগের শ্লোগান দিয়েছি। শিবিরের মার খেয়ে ক্যাম্পাসও ছাড়তে হয়েছিল। শিবিরের সাথে যুদ্ধ করে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে পুনপ্রতিষ্ঠিতও করেছি। এই বিষয়ে তথ্য নেয়া খুব সহজ। আপনারা চাইলেই খবর নিতে পারেন। আমরা যখন শিবিরের বিরুদ্ধে ফাইট করেছি তখন আজকের সমালোচকরা কই ছিলেন আমার জানা নাই। বেশি কথা বলতে চাই না। আমি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলাম। আমার সম্পর্কে যদি এই অপবাদের একটাও প্রমাণ করতে পারে তাহলে যে শাস্তি দিবে আমি তা মাথা পেতে নেবো। আর যারা অপবাদ দিচ্ছেন তাদের প্রতি কোনো অনুরোধ কিংবা অভিযোগ নাই। শুধু এই টুকু বলবো, নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। আমার সম্মানহানির এই অপচেষ্টার জন্য রোজ হাশরের ময়দানে আপনাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। নিয়তির বিচার অনেক কঠিন। এটা কাউকেই ছাড়বে না।’
ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে নিয়ে এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। অগণিত মানুষ পক্ষে-বিপক্ষে পোস্ট দিতে থাকেন।
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম লিখেন, ‘আহ্ ফেরদৌস ভাই! আভ্যন্তরীণ কোন্দলের সর্বশেষ ছোবলটা আপনি খেলেন। হয়তোবা এতদিন পরে এসে! আমি নিশ্চিত যে সিনিয়ররা আপনাকে নিয়ে মিথ্যা লিখেছে তারা অন্যদের দ্বারা বায়াসড হয়ে লিখেছেন। আপনি তো ফেসবুকে তাদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এখন পারলে তারা প্রমাণ করুক আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য।’
নিউইয়র্ক প্রবাসী ওয়াহিদুর রহমান লিখেনÑ ‘না আমি কোভিড ১৯ নিয়ে লিখছি না। শুধু বলছি কেন মে ১৮ তারিখের লাইভটি দুঃখ প্রকাশ না করে সরিয়ে নিলেন? জবাব কি দিবেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। আমিতো আপনার লাইভ শেয়ার করেছিলাম। আরো অনেকে করেছেন। তার উপর ভিত্তি করে পোস্ট দিয়েছিলাম। আপনার দেয়া তথ্য সত্য বলে মনে না হওয়ায় আমার পোস্ট সরিয়ে নিয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম। আপনি কোন মন্তব্য না করে বা দুঃখ প্রকাশ না করে আপনার লাইভটি গোপনে অনেক পরে সরিয়ে নিলেন? যা কেবলই আজ আমি দেখলাম। আপনি দুঃখ প্রকাশ করলে নিশ্চয়ই ছোট হতেন না। তথ্যগত ভুল হতেই পারে। এর মধ্যে আরো বহু প্রশ্ন সামনে এসেছে। সব কিছু দেখে মনে হলো সত্য মিথ্যা নিয়ে আপনি প্রচারকেই ভালবেসেছেন, মানবসেবাকে নয়। এটিও একটি রোগ, এ রোগের রোগী আপনি নিজে, চিকিৎসা কি চিকিৎসা বিজ্ঞানে না কি রাজনীতিতে না অন্য কোথাও? তা হয়তো কোভিট ১৯ এর ভ্যাকসিনের মতো এখনো আবিষ্কার হয়নি?’
গত ১০ জুন ডা. ফেরদৌস খন্দকার সর্বশেষ পোস্ট দিয়েছেন ফেইসবুকে। তিনি লিেেখছেনÑ ‘আমার প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষ; সবার জন্যে শুভকামনা। এখনো কেউ কেউ পরিস্কার হতে চাইছেন, ঠিক কি কারণে আমি বাংলাদেশে এসেছি। সবাই সবকিছু জানেন। পুরো বিষয়টি আলোচিত। এরপরও আরও একবার কিছু বিষয় তুলে ধরতে চাইছি।
বন্ধুরা,
বাংলাদেশের চিকিৎসক ও সম্মুখসারির যোদ্ধারা করোনার এই সময়টায় জীবন বাজি রেখে লড়াই করছেন। স্বাস্থ্যখাতের সাথে জড়িতরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই মহামারী মোকাবেলায়। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আমি সবসময়ই দেখিয়ে এসেছি। বৈপ্লবিক কোন পরিবর্তন করে ফেলবো, এমন কিছু ভেবে কিন্তু আমি দেশে আসিনি। আমি কোন না কোনভাবে মাতৃভূমির সেবা দিতে চেয়েছি কেবল।
বন্ধুরা,
নিউইয়র্কে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে; অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এখানে নিজের মতো অনেক চেষ্টা করেছি, মানুষের পাশে থাকার জন্য। এখন নিউইয়র্কের অবস্থা ভালোর দিকে। বাংলাদেশে পরিস্থিতি অন্যদিকে। তাই ছুটে এসেছি দেশে। বছরে এমনিতেই কয়েকবার আসা হয় আমার। এবারের প্রেক্ষাপট অবশ্য ভিন্ন।
করোনা চিকিৎসায় দেশে বিরাট সংখ্যক জনবল নিরলস কাজ করছে। সেখানে হয়তো সাধারণ অন্য রোগের চিকিৎসা কাজে সহায়তা প্রয়োজন। ভেবেছি, হয়তো এসব রোগের চিকিৎসায় কিছুটা কাজে লাগতে পারবো। চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ না পেলে, অন্তত পাশে থাকতে পারবো। নিজেকে বোঝাতে পারবো, নিজের দায়বন্ধতা থেকে দেশে এসেছি।
দেশ কেন, গোটা পৃথিবীর মানুষ এমন পরিস্থিতি কখনো দেখেনি। সেই পরিস্থিতিতে আমি বসে ছিলাম না। ক্লান্তি ভর করেছে। এরপরও কষ্টকে মেনে নিয়েই দেশের উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছি। সাথে করে যেসব সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে এসেছি, ভেবেছি এসব দিয়ে দেবো সম্মুখসারির যোদ্ধাদেরকে। নিউইয়র্ক থেকেও বিভিন্ন সময় এসব সামগ্রী আমি পাঠিয়েছি দেশের সম্মুখসারির যোদ্ধাদের জন্যে।
আমি নিউইয়র্কে থাকলেও; বাংলাদেশ আমাকে ডাক্তার বানিয়েছে। তাই এভাবেই দেশের প্রতি নিজের দায়টুকু শোধ করতে চেয়েছি কেবল। নিজের দেশে আসবো; তাই কেন আসবো? আসতে হলে আগ পাছ ভাবতে হবে; এতসব চিন্তা করিনি। মায়ের কাছে আসতে সন্তানের চিন্তা করতে হয় নাকি?
নাকি কোন পরিকল্পনা করতে হয়? উত্তর সহজ, দেশ আমার কাছে মায়ের মতো।’

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়