শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২0১৮, Current Time : 2:18 am




চোরাচালান: বিমানকে জরিমানা করেও টাকা পায়নি শুল্ক বিভাগ

সাপ্তাহিক আজকাল : 13/01/2018

ঢাকা অফিস: গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক বিচার আদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাটিকে এই দন্ড দিয়েছেল ঢাকা কাস্টমস হাউজ, যা সম্প্রতি প্রকাশ পায়।
দন্ডের পর কী হয়েছে- তা জানতে চাইলে ঢাকা কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার উমর মুবিন বলেন, “বিমানকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এছাড়া বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ (এস২-এএইচভি) ময়ূরপঙ্খীকে বাজেয়াপ্ত করে কাস্টম।
“তবে ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ড দিয়ে উড়োজাহাজটি অবমুক্তির সুযোগ দেওয়া হলেও কোনো টাকা না দিয়েই কেবল অঙ্গীকারনামা দিয়ে উড়োজাহাজটি নিয়ে যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।”
২০১৬ সালের ১২ মে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিমানের ব্যাংকক থেকে আসা বিজি ০৮৯ ফ্লাইটের টয়লেট থেকে ১০ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার বার আটক করে শুল্ক কর্তৃপক্ষ, যার বাজার মূল্য ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
শুল্ক কর্মকর্তারা জানান, এই ঘটনায় বিমানের পক্ষ থেকে যে তদন্তপ হয়েছিল, তাতে কোনো যাত্রীকে দায়ী না করে একটি চক্রকে দায়ী করা হয়। পাশাপাশি বিমানের ক্যাটারিং সার্ভিস ও প্রপকৌশল বিভাগের কেউ জড়িত থাকার সন্দেহও প্রকাশ করা হয়।
সোনা উদ্ধারের তিন দিন পর ১৫ মে মামলা হয় এবং চোরাচালানের ঘটনায় বিমানকে কারণ দর্শানোর নোটিসে দেওয়ার পাশাপাশি চার দফা শুনানিতে অংশ নিতে চিঠি দেয় ঢাকা কাস্টম হাউজ। তবে বিমান কোনো শুনানিতে না এলেও পরে তাদের তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেয় শুল্ক বিভাগে।
ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শুল্ক কর্মকর্তারা বলেন, যাদের সন্দেহ করা হয়েছিল তাদের নাম প্রকাশ না করে, কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে অসম্পূর্ণ তদন্ত করেছে বিমান। অথচ এটা নিশ্চিত হওয়া যায়, বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় সোনার বারগুলো বিমানে উঠিয়ে দক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে টয়লেটে লুকানো হয়েছিল।
এক কর্মকর্তা বলেন, “কোনো যাত্রীর পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ সোনা বিমানের বিভিন্ন টয়লেটের স্ক্রু খুলে সেখানে লুকিয়ে স্ক্রু বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব ছিল না। বিমানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংঘবদ্ধ চোরাচালান চক্রের সদস্যদের সহায়তায় বিমানবন্দরের বাইরে পাচার হত।”
শুল্ক কর্মকর্তা উমর মুবিন বলেন, “কাস্টম আইন অনুসারেই বিমানকে দন্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।”
জরিমানার বিষয়ে জানতে চাইলে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইনামুল বারী বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরটি দেখেছি। এটা নিয়ে বিমানের এমডি বিস্তারিত বলতে পারবেন।”
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসাদ্দেক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শাকিল মেরাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বিষয়টি আমার জানা নেই।”
নতুন বিমানমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, বিষয়টি জেনে পদক্ষেপ নেবেন তিনি।
“অতীতের ভুল-ভ্রান্তি কাটিয়ে বিমানকে সামনের দিকে এগিয়ে নেব। কোনো অপরাধে কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.