শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২0১৮, Current Time : 1:42 am




মুসল্লিদের সংবাদ সম্মেলন
বাংলাবাজার জামে মসজিদ কমিটি প্রত্যাখান

সাপ্তাহিক আজকাল : 13/01/2018

আজকাল রিপোর্ট: ‘নির্দিষ্ট করে কারো বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। আমাদের অভিযোগ তখনই তাদের বিরুদ্ধে যখন তারা বলে ব্রঙ্কসের বাংলা বাজার জামে মসজিদ আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি! আমরা দৃঢতার সঙ্গে বলতে চাই আমরা সবাই মিলে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছি। এখানে অসংখ্য মানুষের দান এবং শ্রম রয়েছে। কারো অবদান অস্বীকারের সুযোগ নেই। এছাড়া এ মসজিদ পরিচালিত হবে সাধারণ মুসল্লি এবং এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। এই মসজিদের একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে। মসজিদের কমিটি হতে হবে গঠনতন্ত্র মেনে। কয়েকজন বসে নামমাত্র মুসল্লিদের নিয়ে একটি কমিটি হলে সেটা মেনে নেয়ার নয়।’
ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার জামে মসজিদ নতুন কমিটি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা এসব কথা বলেন। গত ৭ জানুয়ারি স্টার লিংকের মামুন টিউটোরিয়ালে মুসল্লী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন স্থানায়ী মুরব্বী মাহবুবুর রহমান। লিখিত বক্তব্য রাখেন এলাকাবাসী ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট এবং বাংলাবাজার জামে মসজিদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আলমাস আলী।
আয়োজকরা বলেন, আমরা কারো বিরুদ্ধে নই। মসজিদ নিয়ে আদালত হউক সেটা আমরা কোন সময় চাইনা। এ ধরনের সমস্যা মসজিদে আগে কখনও হয়নি। এখনো সময় আছে যারা কয়েকজন মিলে কমিটি ঘোষণা করেছেন তাদের মধ্যে বোধোদয় হউক। এলাকার মুসল্লীদের নিয়ে, প্রতিষ্ঠাদের নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন করে কমিটি হউক। সেখানে যেই সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক হউক তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।

লিখিত বক্তব্যে বাংলাবাজার জামে মসজিদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরতে আলমাস আলী বলেন, আজকের বাংলাবাজার জামে মসজিদ যেখানে বর্তমান, তা কিন্তু পাঁচ বৎসর পূর্বে এই অবস্থানে ছিলনা। পাঁঁচ বৎসর পূর্বের অবস্থান ছিল প্রতিদিন ফ্যাসন নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গায়। ষ্টারলিং এভিনিউ পার্কচেষ্টার বাঙালী অধ্যুষিত এলাকার ব্যবসা কেন্দ্র বিধায় এখানে কোন মুসলিম ধর্মচর্চা,বা পাঁচওয়াক্ত ও জুম্মা নামাজ আদায়ের কোন স্থান না থাকায় একটি মসজিদের অভাব অনুভূত হয়। মসজিদের উদ্যোগক্তাদের মধ্যে ছিলেন,ি গয়াস উদ্দিন, বখতিয়ার রহমান খোকন, ডা. সবুর, গোলাম কিবরিয়া, এম, এ হাসান, আলমাস আলী, আকসাদ আলী, আব্দুস ছালাম গং।
আলমাস আলী বলেন, প্রতিদিন ফ্যাশন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গা খালি থাকায় তারা উদ্যোগী হয়ে মসজিদের জন্য বরাদ্দ নেওয়া হয়। সেখান থেকে আল্লাহর পবিত্র ঘর বাংলা বাজার জামে মসজিদ নামে দুই হাজার বারো সালের ডিসেম্ভর মাসে যাত্রা শুরু হয়। শুরুতেই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের আশাতীত আগমন লক্ষ্য করা যায়। ধীরে ধীরে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থান সংকুলানে হিমশিম খেতে হয়। মসজিদকে ছোট পরিসর থেকে বড় পরিসরে উন্নীত করার প্রয়োজন দেখা দেয়। পরম করুণাময়ের অশেষ কৃপায় পুরাতন মসজিদের অদুরেই ১৩৫১ অডেল ষ্ট্রীটে মসজিদের জন্য আকসাদ আলী বাবুলের নামে ২০১৩ সালে ৯ আগষ্ট বাড়ি কেনা হয়। এই অবস্থানে উন্নতিলাভের পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম, ত্যাগ তিথিক্ষার ফসল আজকের বাংলাবাজার জামে মসজিদ। যে মসজিদের পিছনে এলাকার মুসল্লিদের দান, মসজিদের লাইফ মেম্বার, সাধারণ মেম্বার, জানা অজানা অনেক মানুষের সাহায্য সহযোগিতা, নিউইয়র্ক, নিউজার্সির মসজিদে মসজিদে ফান্ড রাইজ এবং ষ্টার্লিং এভিনিউর বাঙালী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মসজিদের জন্য মাসিক সঞ্চয়ী অর্থ ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
তিনি বলেন, এত মানুষের সাহায্য সহযোগিতা তাদের অবদান অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই, আমরা তাদের এই দানকে কবুল করার জন্য আল্লার কাছে প্রার্থনা করি। মসজিদের কাজকর্ম তদারকি করার জন্য পাঁচ সদস্য একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। তাদেরকে মসজিদের জন্য একটি খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়নের অনুরোধ করা হয়।
কমিটিকে আরো প্রসারিত করার প্রয়োজনে, গিয়াস উদ্দিনকে সভাপতি ও বখতিয়ার রহমান খোকনকে সাধারণ সম্পাদক করে পনেরো সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে উন্নীত করা হয়। ২০১৪ সালে বখতিয়ার রহমান পদত্যাগ করায় তার স্থলাভিষিক্ত হন মোহাম্মদ এ হাসান। সেই সাথে মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি খসড়া গঠনতন্ত্র ও রচনা করা হয় এবং গঠনতন্ত্রেও প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কমিটির সবাই শপথ বাক্য পাঠ করেন।
আলমাসী আলী বলেন, অন্যন্ত কিন্তু দুঃখের বিষয় এই মসজিদের সভাপতি পত্রিকায় সাক্ষাতকার দিয়ে, মিলাদ মহফিলে বলে বেড়াচ্ছেন তিনি নাকি মসজিদের প্রতিষ্টাতা! তিনি আরোও বলে বেড়াচ্ছেন মসজিদে তিনি নাকি বিশ হাজার ডলার দান করেছেন, যে বিশ হাজার ডলার তার মাধ্যমে মসজিদ খাতে খরচ হয়েছিল সেই টাকা তার আত্মীয়স্বজনদেরকে লাইফ মেম্বারে মাধ্যমে তিনি পরিশোধ করে নিয়েছেন। তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এ সব অলিক কথাবার্তা বলে বেডাচ্ছেন যা ঘৃণিত এবং অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। তিনি এই মসজিদের একজন নিয়মিত মুসল্লিকে হয়রানি করছেন এবং তাকে থানা পুলিশের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে ৪৩ প্রিসেন্টে অভিযোগ করেছেন একেবারে অন্যায়ভাবে, সেই মুসল্লিকে তিনি তার পথের কাটা মনে করেন। কারণ সেই মুসল্লি সভাপতির অনিয়মকে সবসময় তুলে ধরেন।
আলমাস আলী বলেন, কিভাবে একটি সুন্দর সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত মসজিদ কমিটিকে দিন-দুপুরে সভাপতি ও তার অনুগত উপদেষ্টা সবুর, ইফতেখার সিরাজ, আপ্তাব আলী, খলিল মাষ্টার, আনোয়ার মিয়াদের দ্বারা কমিটির সংবিধানকে তছনছ করে সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে, মসজিদের আজীবন সদস্য, সাধারণ সদস্য ও নিয়মিত মুসল্লি যাদের আর্থিক সাহায্যে মসজিদ পরিচালিত হচ্ছে তাদেরকে মুল্যায়ন না করে এমন কি যে কমিটি সচল ছিল সেই কমিটির অজ্ঞাতসারে, সভাপতি তার কর্তৃত্ব হাতের মুঠোয় রাখার জন্য নির্লজ্জভাবে চলমান একটি কমিটির ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টায় লিপ্ত হন।
তিনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫ এ উল্লেখ আছে সাধারণ সভার মাধ্যমে উপদেষ্টা কমিটি নতুনভাবে বাছাইকৃত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের জন্য সাধারণ পরিষদে অনুমোদন করবেন। অনুমোদনটি সভায় উপস্থিত কমপক্ষে দুই তৃতীয়াংশ নিয়মিত ও আজীবন সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে হতে হবে। অফিসিয়ালি পুরাতন কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা না করে এমনকি দুই বৎসর মেয়াদি কমিটির সাংবিধানিক আইণকে লঙ্ঘন করে ইচ্ছেমত নতুন কমিটিকে পাঁচ বৎর মেয়াদকালে উন্নীত করা হয়েছে। মসজিদের সভাপতির অজ্ঞতা ও একঘেয়েমির কারণে মসজিদ পরিচালনাকে ঝুঁকির সম্মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।
আলমাস আলী বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার সভাপতি ও তার অনুগত উপদেষ্টা পরিষদ সহসা নতুন কমিটি ঘোষণার জন্য জুম্মা নামাজের সময়কে বেছে নেন। সেদিনের ঘোষণায় মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মানুষ নতুন কমিটি ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে নিন্দা জানান। তাৎক্ষণিক ঘোষণা স্থগিত করে নামাজ পরবর্তী সময়ে তৃতীয় পক্ষের কারো সাথে পরামর্শ না করে ইমাম আবুল এহিয়াকে সাথে নিয়ে চুপি চুপি দ্বিতীয় তলায় গিয়ে নতুন কমিটিকে শপথনামা পাঠ করান। কি! ধৃষ্টতা তাদের মধ্যে, এতো ধীর্ঘদিনের কমিটিকে অবহেলা ও হেয় প্রতিপন্ন করলেন। একজন সভাপতি কতটুকুন অকৃতজ্ঞ, কতৃত্তবাদি আধিপত্যবাদি ও স্বৈরচারী মনোভাব হলে আল্লাহর ঘর মসজিদকে নিয়ে এরকম নোংরামি খেলায় মেতে উঠতে পারেন!
আলমাস আলী বলেন, আমরা বিগত কমিটি ও মুসল্লিদের পক্ষ থেকে এরকম বিতর্কিত কমিটি গঠনে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি এবং এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করছি।
তিন বলেন, আমরা চাই সভাপতির শুভবুদ্ধির উদয় হউক, তার একঘেয়েমি ও নোংরামি মনোভাব পরিত্যাগ করে, সকলের সহযোগিতায় আলোচনার মাধ্যমে, এলাকার মুসল্লিদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে, বর্তমান অবৈধ কমিটিকে বিলুপ্ত করে, গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে, তা অনুসরণ করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হউক।
আলমাস আলী বলেন,ম আমাদের বিশ্বাস ও আশা এতে মসজিদের জন্য ও এলাকাবাসীর জন্য কল্যাণকর হবে। আমরা চাইনা মসজিদকে নিয়ে বিভেদের বেড়াজাল রচিত হউক। যে বেড়াজালে নতুন প্রজন্ম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম জড়িয়ে পড়ুক। অন্যথায় মসজিদের কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য সভাপতিকে দায়ভার বহন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী হাসান, রায়ান জামান, কিবরিয়া, জাফর তালুকদার ও বখতিয়ার খোকন।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.