শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী ২0১৮, Current Time : 1:08 am
  • হোম »১ম পাতা লিড» বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার শতাধিক : আইএস-এর টার্গেট চেইন স্টোর!
    দেশজুড়ে সেভেন ইলেভেনে অভিযান




বাংলাদেশিসহ গ্রেফতার শতাধিক : আইএস-এর টার্গেট চেইন স্টোর!
দেশজুড়ে সেভেন ইলেভেনে অভিযান

সাপ্তাহিক আজকাল : 13/01/2018

বিশেষ প্রতিনিধি :
অবৈধ অভিবাসী পাকড়াও করতে ইমিগ্রেশন বাহিনী ‘আইস’ গত বুধবার দেশজুড়ে ‘৭-ইলেভেন’ চেন স্টোরগুলিতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের মোট ১৭ টি স্টেটে ৯৮টি স্টোরে এই অভিযান চালানো হয়। এই ৯৮টির মধ্যে ১৬টি স্টোরই নিউইয়র্কে। ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানকে তাদের সময়ের বৃহত্তম বলে অভিহিত করেছে। এই অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন শতাধিক। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে এক অসমর্থিত তথ্যে জানা গেছে।
‘৭-ইলেভেন’ চেন স্টোরে ইমিগ্রেশন বাহিনীর এই অভিযান অবৈধ কর্মচারী নিয়োগের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের প্রতি একটি কঠোর হুঁশিয়ারি বলে মনে করা হচ্ছে। ‘আইস’-এর ভারপ্রাপ্ত ডিরেকটর টমাস ডি হোমান এক বিবৃতিতে সুস্পষ্টভাবেই বলেছেন, যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধ কর্মচারীদের কাজে নিয়োগ দিয়ে থাকে তাদের প্রতি এই অভিযান একটি কঠোর সতর্কবার্তা। তিনি বলেছেন, ‘আইস’ আইন প্রয়োগ করবে। যিনি আইন লংঘন করবেন তিনিই তার কার্যক্রমের জন্য দায়ী থাকবেন।
দেশে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আইন প্রয়োগকারী শীর্ষ কর্মকর্তা টমাস হোমান বলেছেন, লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে আইডেন্টিটি ও কাজের উপযোগিতা যাচাই সংক্রান্ত ফেডারেল আইন যারা ইচ্ছাকৃতভাবে লংঘন করছে সেই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তভাবে স্ক্রুটিনি করা হবে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে ‘আইস’ ইমিগ্রেশন আইন বাস্তবায়নে বিশেষ কঠোরতা অবলম্বন করছে এবং ব্যাপক ধরপাকড় করছে।
এদিকে, ৭-ইলেভেন চেন স্টোরে আইস-এর অভিযান বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এই ঘটনার সাথে তাদের কোন ধরনের সম্পৃক্ততার দায় এড়িয়ে গেছে। টেক্সাসের আরভিংভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের দফতর থেকে বলা হয়েছে, ৭-ইলেভেনের প্রতিটি দোকানই ফ্র্যাঞ্চাইজ এবং পৃথক পৃথক স্বাধীন ব্যবসায়ী মালিকানায় পরিচালিত। তারাই সর্বোতভাবে তাদের কর্মচারীদের ব্যাপারে দায়ী। যাদের তারা নিয়োগ দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কাজ করার যোগ্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে তাদেরই। কোম্পানীর এই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘৭-ইলেভেন’ ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিধিবিধানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে থাকে। যেসব ফ্র্যাঞ্চাইজ ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছে কোম্পানী তাদের সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজ চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে।
আইস তাদের বুধবারের এই অভিযানকে ২০১৩ সালের অভিযানের ফলোআপ বলে অভিহিত করেছে। সে সময় কাগজপত্রবিহীন অবৈধ কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার নয়টি ৭-ইলেভেন ফ্র্যাঞ্চাইজ মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের অনেকেই অপরাধ স্বীকার করেছিল এবং তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
আইস-এর পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, বুধবার যে সব স্টেটের ৭-ইলেভেন স্টোরে অভিযান চালানো হয়েছে সে স্টেটগুলো হচ্ছে, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, ডেলাওয়ার, ফ্লোরিডা, ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, মেরিল্যান্ড, মিশিগান, মিজৌরি, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলিনা, অরেগন, টেক্সাস, ওয়াশিংটন স্টেট এবং ওয়াশিংটন ডিসি।
নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ড ৭-ইলেভেন স্টোরের কর্মচারিরা জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশনের লোকেরা তাদের দোকানে এসেছিল। তারা সবার সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বর, চাকুরি সংক্রান্ত কাগজপত্র ইত্যাদি পরীক্ষা করে চলে যায়। তাদের দোকান থেকে কেউ গ্রেফতার হয়নি।
এস্টোরিয়ার একটি ৭-ইলেভেন স্টোরের বাংলাদেশি কর্মচারি আজকাল’কে জানান, মঙ্গলবার রাত ও বুধবার দুপুরে দুফা তাদের স্টোরে অভিযান চালিয়েছে আইস।
আইস-এর দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে অভিবাসীদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ৭-ইলেভেনের পর অন্যান্য চেইন স্টোরেও অভিযানের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.