শুক্রবার, ২0 এপ্রিল ২0১৮, Current Time : 1:07 am
  • হোম »এই সপ্তাহের খবর» টানা নয় বছরের শাসনামল : আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
    হাসিনার নজিরবিহীন রেকর্ড




টানা নয় বছরের শাসনামল : আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
হাসিনার নজিরবিহীন রেকর্ড

সাপ্তাহিক আজকাল : 13/01/2018

মাসুদ হোসেন, ঢাকা থেকে :
আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজিরবিহীন রেকর্ডের দিন। টানা নয় বছর দেশ শাসন করে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। বাংলাদেশে আর কোনও শাসকই টানা এতটা দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকতে পারেননি। এক মেয়াদ শেষ করেই কেউ ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা হারান। কাউকে আবার গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারাতে হয়। শেখ হাসিনার বর্তমান মেয়াদ শেষ হতে আরও এক বছর বাকি। আরেক বছর পরই তিনি টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকার মাইলফলক স্পর্শ করবেন। টানা নয় বছর শাসন করার পূর্বে আরও একবার তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। সেটাও আরেকটা রেকর্ড। শেখ হাসিনা আশা করছেন, তিনি আরেক মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন। ক্ষমতায় থেকে স্বাধীনতার ৫০ বছর তিনি উদযাপন করবেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে ক্ষমতায় যায়। তারপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও জয় লাভ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোট। এভাবে টানা দুইবার ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করেন শেখ হাসিনা। তিনি বিশ্বের দীর্ঘতম নারী শাসকের পদটিও অলঙ্কৃত করেন। টানা নয় বছরের শাসনকালে তিনি প্রশংসাও পেয়েছেন; সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তবে তিনি এই মূহূর্তে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর সরকার প্রধান। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, ফ্লাইওভার নির্মাণসহ অবকাঠামো ক্ষেত্রেও উন্নতি চোখে পড়ার মতো। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুরো সময়েই স্থিতিশীল ছিল। শেখ হাসিনা একটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ঘোষাণ দিয়েছেন আগেই। তবে তার দল আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভয়াবহ। গুম, খুন, চাঁদাবাজিসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকারের উন্নয়ন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তারপরও দলের ও রাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণ একচ্ছত্র। ক্ষমতায় গিয়ে দেশী-বিদেশী চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধের বিচার করেছেন শেখ হাসিনা। বুলেট ও গ্রেনেটের আঘাতে তাকে খুনের চেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলায় অল্পের জন্যে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। আইভী রহমানসহ অনেকেই ওই হামলায় নিহত হন।
শেখ হাসিনার শাসনকে অনেকেই মিরাকল মনে করেন। পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ অনেকটা ঝড়ের মতো আঘাত করেছিল। কিন্তু সেই আঘাত তিনি সামাল দিয়েছেন। এখন নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। হলি আর্টিজানে হামলার মাধ্যমে জঙ্গিবাদ মাথা উঁচু করতে চেয়েছিল। সেটা দমন করেছেন শক্ত হাতে। ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে আন্দোলন, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ভয়াবহ সহিংসতা দমন করেছেন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর (তৎকালীন) বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। এতে প্রাণ হারান ৫৯ জন সেনা অফিসারসহ ৭১ জন সামরিক-বেসামরিক মানুষ। এতে সেনাবাহিনীতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই সংকটও সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন। সব সময়েই তিনি নানা আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই আছেন। রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাতে তিনি বিচলিত হননি। বরং অভিজ্ঞতার কারণে রাজনীতির চালে তিনি খুবই পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন।
বিগত ২০১৪ সালে নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। ১৫৩টি আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়ে যায় আওয়ামী লীগ। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, ওই নির্বাচনে বিএনপি যাতে না যায় সেটাই চেয়েছিল আওয়ামী লীগ। আর সেই ফাঁদে পা দিয়েছিল বিএনপি। সেই অভিজ্ঞতার কারণে আগামী নির্বাচনে বিএনপি কিছুতেই বর্জন করবে না বলে মনে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বের দীর্ঘতম নারী শাসক হিসাবেও রেকর্ড গড়েছেন। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলকেও পেছনে ফেলেছেন তিনি। টানা দুই মেয়াদে নয় বছরসহ মোট ১৩ বছর প্রধানমন্ত্রী থেকেছেন তিনি। গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এখন পর্যন্ত বিশ্বে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশের সংখ্যা ১৯৩টি। তার মধ্যে ১২ দেশের সরকার প্রধান হিসাবে দেশ চালাচ্ছেন নারী। শাসনকালের দিক থেকে শেখ হাসিনার পরেই রয়েছেন জার্মানীর চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল। তিনি শেখ হাসিনার চেয়ে কিছুটা কম ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার সময়ে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তারপর অনেক বছর নির্বাসিত ছিলেন। আশির দশকের গোড়ার দিকে দেশে ফিরে জাতির পিতা শেখ মুজিবের উত্তরসূরি হিসাবে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনা তার এখনকার প্রতিদ্বন্দ্বি খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করেছিলেন। বর্তমানে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় আছেন। যদিও জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসাবেই জাতীয় পার্টি রয়েছে; কিন্ত জাতীয় পার্টি থেকে সরকার মন্ত্রী দিয়েছে। ফলে জাতীয় পার্টিকে সেই অর্থে বিরোধী দল বলা যায় না।
টানা সরকারে থাকার দ্বিতীয় রেকর্ডটি হচ্ছে এরশাদের। তিনি আট বছর সাত মাস ১৫ দিন ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। টানা নয় বছর ক্ষমতায় থেকে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ সময় ক্ষমতায় থেকেছে আওয়ামী লীগ। এই রেকর্ডও সৃষ্টি হয়েছে মূলত শেখ হাসিনা বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার কারণে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকে ১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশের ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। আর ২১ বছর পর তারা ক্ষমতায় ফেরেন ১৯৯৬ সালে। তখন শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল পাঁচ বছর। সব মিলিয়ে ৪৬ বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল সাড়ে ১৭ বছরের মতো। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। সব মিলিয়ে বিএনপি শাসন করেছে ১৩ বছর। আর জাতীয় পার্টি শাসন করেছে আট বছর সাত মাস পনের দিন।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.