মঙ্গলবার , ১৬ জানুয়ারী ২0১৮, Current Time : 2:54 am
  • হোম »দেশ - প্রবাস» ডেটলাইন ৩১শে ডিসেম্বর
    মালয়েশিয়ায় বৈধতা পাচ্ছেন ৫ লাখ বাংলাদেশি




ডেটলাইন ৩১শে ডিসেম্বর
মালয়েশিয়ায় বৈধতা পাচ্ছেন ৫ লাখ বাংলাদেশি

সাপ্তাহিক আজকাল : 26/12/2017

রি-হায়ারিং কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় বৈধতা পাচ্ছেন ৫ লাখের বেশি অবৈধ বাংলাদেশি। এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ওই কর্মসূচি শেষ হচ্ছে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর। নির্ধারিত
ডেটলাইনের মধ্যেই বাংলাদেশিসহ অবৈধভাবে দেশটিতে কর্মরত বিদেশিদের বৈধতার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কুয়ালালামপুর থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, চলমান রি-হায়ারিংয়ের আওতায় প্রায় ৬ লাখ অবৈধ বাংলাদেশি নিবন্ধিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ভিসা পেয়েছেন। তারা এখন পুরোপুরি বৈধ বা নিয়মিতভাবে দেশটিতে কাজকর্ম করছেন।

নাম ও বয়স জটিলতার কারণে কমপক্ষে ১০ শতাংশ ভিসা পাননি। তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। তবে তাদের ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে, অর্থাৎ তারা জটিলতা নিরসনের সুযোগ পাবেন নাকি দেশে ফিরতে হচ্ছে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। অবশ্য আশার দিক হচ্ছে নিবন্ধিত প্রায় ৬০ শতাংশ শ্রমিকের ভিসাসহ বৈধতার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিবন্ধন শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে তাদের ভিসাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ দিয়েছে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার শহিদুল ইসলামও উল্লিখিত তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত বা ভিন্নমত করেননি। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে তিনি বলেন, ডেটলাইন শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। এটি সমীচীনও হবে না। আমি শুধু এটুকু বলবো, রি-হায়ারিংয়ের আওতায় ফের নিয়মিত হওয়ার জন্য আমাদের প্রায় ৬ লাখ শ্রমিক নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধনের নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর মাত্র ৫ দিন বাকি। নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছেন এমন বাংলাদেশির বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, খুব বেশি নেই, ৫-৬ হাজার বাংলাদেশি অপেক্ষায় রয়েছেন। আশা করছি ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে তাদেরও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। তবে রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনই নিয়মিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তাদের ভিসাসহ বৈধ হওয়ার অন্যান্য প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। এ পর্যন্ত নিবন্ধিত বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় দু’লাখ) রি-হায়ারিংয়ের আওতায় ভিসাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায় পুরোপুরি সম্পন্ন করে দেশটিতে ফের নিয়মিত বা বৈধ হয়েছেন দাবি করে হাইকমিশনার বলেন, বাকিদের ভিসাসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরো ৬ মাস সময় বাড়িয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। আশা করি ওই সময়ে নিবন্ধিত সব বাংলাদেশিই ভিসাসহ নিয়মিত বা বৈধকরণের প্রক্রিয়া পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন। এদিকে মালয়েশিয়া সরকার দেশটিতে গৃহকর্মী (নারী) নিয়োগে ভারত, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ ৯টি দেশকে বাছাই করেছে। এদের অনেকের সঙ্গে কুয়ালালামপুরের ডমেস্টিক এইড রিক্রুটের আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতা হতে যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশ দেশটিতে গৃহকর্মী পাঠাতে চায় না, নাকি মালয়েশিয়া আমাদের দেশ থেকে নারী কর্মী নিতে চায় না? জানতে চেয়েছিলাম কুয়ালালামপুরে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, নারী গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়ে আমাদের চিন্তা রয়েছে। তবে এটি করার আগে আমাদের কিছু বিষয় ভাবতে হচ্ছে। অনেক দেশে আমরা নারী শ্রমিক পাঠাই। সব দেশের অভিজ্ঞতা সমান নয়। এটি বিবেচনায় রেখেই আমরা এ নিয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা সমঝোতার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে। তবে এবারে যে ৯টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া নারী শ্রমিক নিচ্ছে সেখানে কেন বাংলাদেশ নেই? সেই প্রশ্নে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশের হাইকমিশনার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সম্ভাবনাময় দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটিতে রি-হায়ারিং ও ই-কার্ডের আওতায় অনেক শ্রমিক বৈধতা পেয়েছেন এবং পেতে যাচ্ছেন। নতুন শ্রমিকরাও যাচ্ছেন নিয়মিতভাবে। তবে সেখানে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও আছে। ওই মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে শাসক দলের অনেক প্রভাবশালীর নামও ব্যবহার করা হচ্ছে। অবশ্য পররাষ্ট্র, প্রবাসী কল্যাণসহ সরকারের এ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তরা মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের দেশে দেশে বৈধ অভিবাসনের চেষ্টাই করে যাচ্ছেন। হাইকমিশনার শহীদুল ইসলামও বৈধ অভিবাসনের ওপরই জোর দিয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত কয়েক বছরে লাখ লাখ বিদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তাদের বিরাট অংশ দেশটির শিল্প-কারখানায় কাজ করছে। পরিসংখ্যান বলছে, এর মধ্যে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ ইন্দোনেশিয়ার, ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ নেপালের, ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ বাংলাদেশের, ৬ দশমিক ৯ শতাংশ মিয়ানমারের, ভারতের ৫ দশমিক ১ শতাংশ, ফিলিপাইনের ৩ দশমিক ১ শতাংশ, ২ দশমিক ৫ শতাংশ পাকিস্তানের এবং থাইল্যান্ডের রয়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যান্য দেশের ৪ শতাংশ কর্মী কাজ করছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে রি-হায়ারিং কর্মসূচির আওতায় অবৈধদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে মালয়েশিয়া সরকার।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.