সোমবার , ১৮ ডিসেম্বর ২0১৭, Current Time : 1:53 am




টাঙ্গাইলে দশ মাসে ৫২ খুন

সাপ্তাহিক আজকাল : 02/12/2017

ঢাকা অফিস: টাঙ্গাইলে অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দশ মাসে জেলার ১২ উপজেলায় হত্যাকান্ডই হয়েছে ৫২টি। অন্যদিকে নির্যাতন ও ধর্ষণসহ অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ২৫৮টি। এই সকল অপরাধের বেশিরভাগই ছিলো, পারিবারিক, অর্থ, জমিজমা এবং মাদক সংক্রান্ত। এই সকল হত্যাকান্ডের মামলায় আসামি করা হয়েছে ১২৮ জনকে। তার মধ্যে জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে ৬৭ জন, পলাতক রয়েছে ৬১ জন।
সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হত্যাকান্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলো তদন্তাধীন থাকায় বেশিরভাগ মামলারই অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়নি। এর মধ্যে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডগুলোর মামলায় অগ্রগতি না থাকায় দোষীদের বিচারের দাবিতে প্রতিনিয়ত মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান করছে নিহতদের পরিবার, এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। অনেক সময় গ্রেপ্তারের পরেও অনেক অপরাধী জামিনে বের হয়ে স্বজনহারা পরিবারকে মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুরে গত জুলাই মাসে নিজ গৃহে খুন হন শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের কোনো সুরাহা করতে পারেনি পুলিশ। নিহত অনিল কুমার দাসের ছেলে নির্মল কুমার দাসের অভিযোগ আমার দুই চাচা সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জেল হাজতে থাকলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো সুনির্দিষ্ট আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ফলে মামলার তেমন কোনো অগ্রগতিও হয়নি। দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইলে গৃহবধূ নুপুর হত্যাকান্ডের কুল-কিনারাও করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ উল্টো মামলা দিয়ে পরিবারকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ গৃহবধূর শ্বশুর আশোক আলীর।
এব্যাপারে মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া এবং আইনের বিভিন্ন ফাঁক-ফোকর থাকায় অনেক সময় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। ফলে অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে থাকে। যা প্রতিটি সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্তরায়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও পুলিশ সায়েন্স (সিপিএস) বিভাগের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত অবস্থানের কারণেই টাঙ্গাইল অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক দিক দিয়ে টাঙ্গাইল বিভিন্ন অঞ্চলের গেটওয়ে হিসেবে কাজ করে। এখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বরাবরই অস্থিতিশীল, এছাড়াও মাদক ও পতিতা পল্লীর মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এখানে থাকায় এবং পুলিশের সীমাবদ্ধতার কারণে অপরাধ সংঘটিত হয় বেশি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের কঠোরতা, পুলিশের পেট্রোলিং এবং বিচার বিভাগের একাগ্রতায় এই অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন এই অপরাধ বিজ্ঞানী। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম খান বলেন, জেলায় নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলেও তা অসহনীয় পর্যায়ে যায়নি। নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরাধীদের মোটিভেশন করতে পারলে অপরাধ কমবে। পাশাপাশি তিনি সাক্ষীদের সাক্ষ্যদানে অনীহার কারণে মামলা ঠিকমতো এগোতে পারে না বলে দাবি করেন।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম পিপিএম বলেন, ইতিমধ্যে অনেক অপরাধী আইনের আওতায় এসেছে। বাকি অপরাধীদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.