সোমবার , ১৮ ডিসেম্বর ২0১৭, Current Time : 12:58 am
  • হোম »এই সপ্তাহের খবর» একে একে পাচ্ছেন ব্যাংক-বীমা, আবেদন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও
    কপাল খুলছে যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ নেতাদের




একে একে পাচ্ছেন ব্যাংক-বীমা, আবেদন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও
কপাল খুলছে যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ নেতাদের

সাপ্তাহিক আজকাল : 02/12/2017

আজকাল রিপোর্ট: ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতাদের। দলের দায়িত্বশীল নেতারা এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ব্যাংক, বীমার মালিক। শীর্ষ নেতাদের ভাগ্য পরিবর্তনের খবরে মধ্যম সারির নেতারাও প্রতিযোগিতা শুরু করেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এক সহ সভাপতি তার এলাকায় একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য ফাইল প্রস্তুত করছেন। দলীয় বিবেচনায় ব্যাংক-বীমা দেয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
যুুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, এবার বাংলাদেশে ব্যাংক পাওয়ার তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ব্রুকলীনের বাসিন্দা এম এ কাশেম। বাংলাদেশে তাঁর বাড়ী চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে। এর আগে ব্যাংক পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী। তাঁর ব্যাংকের নাম এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ফরাসত আলী পেয়েছেন এন আরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক। তিনি এ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।
দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ একটি বীমা পেয়েছিলেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই বির্তর্কিত কর্মকান্ডের’ কারণে এটি আর সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদের হয়নি। সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানও মালিক হয়েছিলেন কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীও একটি টেকনিক্যাল কলেজের অনুমোদন পেয়েছেন বলেও সূত্র দাবী করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা আজকালকে বলেন, সরকারের এই মেয়াদের শেষ সময়ে এসে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ এবং সহ সভাপতি আকতার হোসেনও ব্যাংকের অংশীদার বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন।
একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ফাইল প্রস্তুত করা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা আজকালকে বলেন, আমি আমার এলাকায় একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য ফাইল প্রস্তুত করছি। এ মহুর্ত্বে এটি বেশি জানাজানি হউক সেটা চাইছি না।
প্রবাসী নেতারা ব্যাংক-বীমার মালিক হচ্ছেন এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ আওয়ীমী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ বলেন, ব্যাংক-বীমা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। ব্যাংক-বীমা পেতে ‘কোয়ালিফাই’ এর বিষয়টি তারা দেখেন।
এনবিআর এর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আবদুল মজিদ বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় কোন কিছু করাকে দেশের মানুষ ভাল চোখে দেখে না। বাংলাদেশে যেসব ব্যাংক রয়েছে সেগুলোর অবস্থাতো ভাল নয়। বাংলাদেশে কি এত ব্যাংক দরকার?
এদিকে প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবাহান গোলাপ। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি।
সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এম এ কাশেম যে ব্যাংক পাচ্ছেন তার নাম ‘পিপলস ইসলামী ব্যাংক’। এি এম এ কাশেমের ব্যাংক পাওয়া খবর নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে নানাভাবে লেখালেখি হচ্ছে।
অনেকেই বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এম এ কাশেমের কাছে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করার মতো অর্থ থাকার কথা নয়। তৃতীয় কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্যই সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে তিনি।
অপরিচিত এম এ কাশেমের ব্যাংক পাওয়া নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে ওই নামে চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদেরও। এরই মধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে সন্দ্বীপের বাসিন্দা ইয়ুথ গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হায়দারকে। সন্দ্বীপের এম এ কাশেম নামে একজন বাণিজ্যিক ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে যাচ্ছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শুভানুধ্যায়ীরা আবুল কাশেম হায়দারের সঙ্গে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করেছেন। ব্যাংকের লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হয়েছে তাকে।
একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে একেএইচ গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সন্দ্বীপের আরেক ব্যবসায়ী আবুল কাশেমকে। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নতুন ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি কিনা, একই প্রশ্ন অনেকেই করেছেন। এখনো অনেকেই মনে করছেন, আমিই ব্যাংক খাতে আসছি। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা আবুল কাশেম আমি নই। একই নাম হওয়ার কারণে অনেকেই আমার বিষয়ে ভুল বুঝেছেন।
এলাকাবাসীর কাছেও প্রায় একেবারেই অপরিচিত যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এম এ কাশেম। তার জন্মস্থান সদ্বীপের রহমতপুরে। এম এ কাশেমের পুরো পরিবারই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সন্দ্বীপে তাদের বাড়ি থাকলেও কেউই সেখানে যান না। ভাইবোনরা সন্দ্বীপের রহমতপুর হাইস্কুলে পড়াশোনা করলেও এম এ কাশেম পড়েছেন সন্দ্বীপ এবি হাইস্কুলে। তবে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।
ব্যাংকের লাইসেন্সের বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস আগে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এম এ কাশেমের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হয়েছিল বলে জানান সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নুরুল হুদা। তিনি বলেন, আমি সন্দ্বীপের দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র দুই মাস। এম এ কাশেমের বিষয়ে বিস্তারিত আমার জানা নেই। তবে ব্যাংকের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এর আগে যোগাযোগ করা হয়েছিল। আগের ইউএনও এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে তথ্য প্রদান করেছেন।
নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেয়া এম এ কাশেম ব্রুকলীনে বসবাস করনে। এম এ কাশেম ছোট পরিসরে ঠিকাদারি করছেন।
এদিকে এম এ কাশেমের ব্যাংক পাওয়ার খবরে পর নিউইয়র্কের অতিপরিচিত ইমাম কাজী কায়্যুম তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, আওয়ামী লীগ নেতারা যেন ব্যাংকগুলো জামায়াতীদের কাছে বিক্রি করে না দেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জনসংযোগ বিষয়ক সম্পাদক কাজী কয়েস বলেন, আমরা পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। সুযোগ থাকার পরও কোন কিছু নিইনি। রাজনীতিকদের লোভী হলে চলে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.