সোমবার , ১৮ ডিসেম্বর ২0১৭, Current Time : 1:09 am




রোহিঙ্গা এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু
বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য

সাপ্তাহিক আজকাল : 23/09/2017

প্রথম দিকে তেমন সাড়া না পাওয়া গেলেও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি এখন একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে জাতিসংঘে। নিরাপত্তা পরিষদ গত সপ্তাহেই বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেছিল। নজিরবিহীনভাবে ১৫টি সদস্য দেশই একমত হয়ে এই নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছে এবং মিয়ানমার সরকারকে তা বন্ধ করতে বলেছে।
এখন যখন সাধারন পরিষদের অধিবেশন চলছে, নিরাপত্তা পরিষদ আবারও বৈঠকে বসেছে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে। সাধারণ পরিষদও এবার শুনেছে রোহিঙ্গাদের আর্তনাদ। তাদের যন্ত্রণা বঞ্চনার কথা। তাদের এই আর্তনাদকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ববাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন নির্যাতিত-নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে। আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে, তাদেরকে তাদের স্বদেশভূমিতে ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সক্রিয় উদ্যোগ নিয়েছেন রোহিঙ্গাদের কল্যাণে বাস্তবানুগ পদক্ষেপ গ্রহণে। উদ্যোগ নিয়েছেন কূটনৈতিক তৎপরতার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বাংলাদেশের বিদেশী কূটনীতিকদের নিয়ে গেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় শিবিরগুলিতে। বিদেশী কূটনীতিকরা নিজেদের চোখে দেখেছেন রোহিঙ্গাদের দুর্দশা, নিজেদের কানে শুনেছেন তাদের ওপর নির্মম নির্যাতনের কাহিনী।
ইতোমধ্যে জাতিসংঘের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বৈঠক হয়েছে ইসলামী রাষ্ট্রসংস্থা ওআইসি’র। এ বৈঠকে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনা তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী দেশগুলির। প্রশ্ন তুলেছেন, মুসলমানদের ওপর কেন নেমে আসছে এত বিপর্যয়। ওআইসি কি ভূমিকা পালন করতে পারছে বিশ্বের মুসলমানদের রক্ষায়? ওআইসি’র এই বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ১৭ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে অবিলম্বে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারীদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিকত্ব প্রদানের আহ্বান জানান হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের একটি বড় সাফল্য। গোড়াতে যে বিষয়টি ছিল এককভাবে কুধুই বাংলাদেশের এখন তা পরিনত হয়েছে আন্তর্জাতিক ইস্যুতে। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরাষ্ট্র চীন রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গৃহীত পরিষদের প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে।
শত শত বছর ধরে মিয়ানমারে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের ওপর বর্মী বাহিনীর নির্যাতন চলে আসছে অব্যাহতভাবে। সাবেক আরাকান রাজ্যের এই অধিবাসীদের বর্মা কখনই নিজেদের বলে মেনে নিতে পারেনি। বরাবর তাদেরকে উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছে তারা। ব্রিটিশের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভের পর রোহিঙ্গা বিরোধী তৎপরতা তাদের তীব্র হয়। বিশেষ করে গনতন্ত্রকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনীর দীর্ঘ শাসন চালু হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের উদ্যোগ আরো জোরদার হয়। রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব বাতিল করে দিয়ে তাদেরকে পরিণত করা হয় এক রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠীতে। এই রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য একদিকে তাদের ওপর যেমন চলেছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন তেমনি একই সঙ্গে চলেছে জাতিগত নির্যাতন। আর যতবার রোহিঙ্গারা এই হামলার শিকার হয়েছে ততবারই তারা প্রাণ বাঁচাতে ছুটে এসেছে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে। বাংলাদেশই তাদের একমাত্র ভরসাস্থল। বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা অনক দিন ধরেই বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে এবারের দলে দলে আসা মানুষেরা।
রোহিঙ্গাদের এবারের আগমন শুরু হয়েছে ২৫ আগস্ট থেকে। এদিন থেকে তাদের ওপর চলছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর হামলা। চার লাখের ওপর রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এ মিছিল চলছেই। অবিলম্বে এর বিহিত করতে না পারলে এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন শেখ হাসিনা। বিশ্ব সংস্থার কাছে সমস্যাটি তুলে ধরছেন। আমরা আশা করব, বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তার এই মানবিক আহ্বানে সাড়া দেবেন। মিয়ানমারকে বাধ্য করবেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে, তাদের দুর্গতির একটা স্থায়ী সমাধান করতে।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.