সোমবার , ১৮ ডিসেম্বর ২0১৭, Current Time : 12:56 am




আজকাল’কে মাহমুদুর রহমান মান্না
বিচার বিভাগকে নিয়ে যা করা হচ্ছে তা দুঃখজনক

সাপ্তাহিক আজকাল : 26/08/2017


মাসুদ হোসেন, ঢাকা থেকে :
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগকে নিয়ে যা করা হচ্ছে তা দুঃখজনক। সর্বোচ্চ আদালত যে কোনও বিষয়ে রায় দিতে পারেন। আর সেই রায়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তার বিরুদ্ধে রিভিউ চাইতে পারেন। সুয়োমোটো এক্সপাঞ্জ চাইতে পারেন। কিন্তু তার বদলে যা করা হচ্ছে তাতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।
মাহমুদুর রহমান মান্না আজকাল’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী নির্বাচন, রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির প্রয়োজনীয়তাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা মতামত দিয়েছেন। একদা ছাত্র রাজনীতির সামনের সারির নেতা ডাকসু’র সাবেক ভিপি মান্না আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তার দল নাগরিক ঐক্য সমমনা দলগুলোর সঙ্গে মিলে রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি জোট গঠনে কাজ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মাহমুদুর রহমান মান্না আরও বলেন, আইনের শাসন প্রয়োগ করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু খোদ সরকারই আইন না মানায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, সরকার সমস্ত প্রশাসনকে যেভাবে করায়ত্ত্ব করেছে; বিচার বিভাগকেও একইভাবে পদানত করতে চায়। প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এমপি, মন্ত্রী সবাই মিলে প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বক্তৃতা করায় আমি মর্মাহত। সংক্ষুব্ধ পক্ষ হিসাবে সরকার আইনী পদক্ষেপ নিতে পারে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের একটা আচরণবিধি আছে। বিচারপতিগণ সব সময় সব কথার জবাব দিতে পারেন না। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনরা যেভাবে বক্তৃতা দিচ্ছে; বিরোধী দল তাদের বিরুদ্ধে কোনও রায়ে অসন্তোষ হয়ে একইভাবে বক্তৃতা দিলে কিংবা সাধারণ মানুষ রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখালে অবস্থাটা কী দাঁড়াবে! আজকে বিচার ব্যবস্থাকে পঙ্গু করার জন্যে সরকারই দায়ী হবে।
আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করার পরিবেশ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রথমেই বলে দিয়েছে যে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই তারা কার্যকর হতে পারবে। ফলে নির্বাচনের আগে দেড় বছর ধরে সরকার ইচ্ছামত সবকিছু করবে। এতে নির্বাচনের লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। নির্বাচনকালে সরকারে কে থাকবে সেটা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা করে ঠিক করার দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু এই আহ্বান নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে না। নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির কথা বলছে না নির্বাচন কমিশন। ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন করার চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। ওই নির্বাচনে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় প্রার্থীরা এমপি হয়েছেন। এই ধরনের নির্বাচন চাপিয়ে দিলে মেনে নেয়া হবে না।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাংবিধানিকভাবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করা ছাড়া কোনও উপায় ছিল না। তাছাড়া, বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় একতরফা নির্বাচন হওয়ায় তাদের কি কোনও দায় নেই? এই প্রশ্নের জবাবে নাগরিক ঐক্যের প্রধান বলেন, সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ছিল। সেটা বাতিল করা হয়েছে। আদালত বলেছিল, দুই মেয়াদ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকতে পারবে। সংবিধানের কথা আসলে অজুহাত। এখন অনেক ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ নিজেই সংবিধান মানছে না।
রাজনীতিতে তৃতীয় মোর্চা গড়ে তোলার কাজে অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মান্না বলেন, এক সময় মানুষ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র বাইরে চিন্তা করতো না। এখন তাদের দুই দলের শাসন দেখার পর মানুষ তাদের দুই দলের বাইরে চিন্তা করতে শুরু করেছে। আমরা পাঁচটি রাজনৈতিক দল মিলে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এখন সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে দলগুলির প্রতিনিধি নিয়ে লিয়াঁজো কমিটি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র বাইরে তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলায় কেউ সফল হয়নি। এবার কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফ্রান্সে দুই বড় দলের বাইরে তৃতীয় দল ক্ষমতায় গেছে। বাংলাদেশের জনগণ ফ্রান্সের মতো এতটা শিক্ষিত না হলেও এখানেও তৃতীয় শক্তি গড়ে তোলা অসম্ভব নয়। ভারতে আম আদমি পার্টি কম সময়েই সাফল্য দেখেছে। ভারতে ঐতিহাসিকভাবে বড় দল কংগ্রেসকে এখন খারাপ অবস্থায় পড়তে দেখা যাচ্ছে। আমরা ইতিবাচক রাজনীতির প্রত্যাশা নিয়ে লড়াই করতে যাচ্ছি। দুইটা বৈঠক করে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। অনেকের সমর্থন পাচ্ছি।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ব্রিটেনে নির্বাচনে দেখেছেন টরি দল এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি। ছোট দলের সমর্থন লেগেছে। আগামী নির্বাচনে আমরা ২০/৩০টি আসন নিয়ে ভারসাম্যের ফ্যাক্টর হতে পারি। এখন আমরা জনগণের কাছে যেতে পারছি না। অনেকটা ঘরোয়া রাজনীতির মতো পরিস্থিতি চলছে। সেমিনার, গোলটেবিল বড় জোর মানববন্ধন তাও আবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে করা ছাড়া অন্য কিছু করলেই বাধা আসছে। ভয়ের চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে সবকিছু। এই বাধা যখন অপসারিত হবে তখনই বোঝা যাবে আমরা কত দূর যেতে পারব।
বাংলাদেশে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বন্যার বর্তমান পরিস্থিতি একদিনে হয়নি। অপরিকল্পিতভাবে সব কিছু করা হয়েছে। নদী-নালা-জলাশয়ে পানি নিষ্কাষণের জায়গা বিনষ্ট করা হয়েছে। সব জায়গায় দখল করেছে। এই বছর আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে অতিবৃষ্টি হয়েছে। সেই পানিই বন্যার সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে সরকার কোনও আলোচনা করেনি। সরকার হাইকোর্ট নিয়ে ব্যস্ত। জনগণ ত্রাণ পাচ্ছে না। বর্তমান সরকার একটি অমানবিক সরকার। জনগণের জানমাল সুরক্ষায় তাদের তাৎক্ষণিক যথেষ্ঠ পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.