সোমবার , ১৮ ডিসেম্বর ২0১৭, Current Time : 1:56 am




ইউএনও গ্রেফতার
প্রশাসনে নৈরাজ্যের নগ্ন চেহারা

সাপ্তাহিক আজকাল : 29/07/2017

একটি গ্রেফতারের ঘটনায় তোলপাড় সারা দেশ। গ্রেফতার বাংলাদেশে একটি নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত
হয়েছে। অপরাধ দমনে যত নয়, তার চেয়ে বেশি গ্রেফতারের শিকার এখন সরকার বিরোধী রাজনীতির
সাথে জড়িত ব্যক্তিরা। গ্রেফতার আতঙ্ক এখন যেমন বিরোধী রাজনৈতিক পরিবারগুলির ঘরে ঘরে, তেমনি
ভিন্ন মতাবলম্বী বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও। কার হাত যে কখন হাতকড়ায় বাঁধা পড়বে কেউ বলতে পারে না।
কোন কথা যে সরকার সহ্য করবে আর কোন কথায় যে আপত্তি নেবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এমন
অনেক আইন সরকার হাতে নিয়ে রেখেছে যা প্রয়োগ করে যে কোন ব্যক্তিকে যে কোন অজুহাতে আটক
করা যায়। এসব কালাকানুনের মধ্যে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে নিকৃষ্ট হিসাবে পরিগনিত হয়েছে
তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা। কারো কোন বক্তব্য বা লেখালেখিতে যে কোন ব্যক্তি ‘সংক্ষুব্ধ’ হয়ে মামলা
দায়ের করলেই জামিন অযোগ্য এই ধারায় নির্ঘাত গ্রেফতার। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং
বিরোধী মত-পথকে রুদ্ধ করার লক্ষ্যে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
কিন্তু এ সব গ্রেফতারের বাইরেও সম্প্রতি ঘটে গেছে এক ভিন্ন ধরনের গ্রেফতারের ঘটনা, যে ঘটনায়
তোলপাড় উঠেছে সারা দেশ জুড়ে। গ্রেফতার হয়েছেন মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত একজন পদস্থ
সরকারী কর্মকর্তা। একটি উপজেলার সর্বময় প্রশাসনিক ক্ষমতার অধিকারী, উপজেলা পর্যায়ে সরকারের
সবচেয়ে উর্ধতন কর্মকর্তা, একজন ইউএনও। জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার এই ইউএনও তারিক
সালমান একজন কর্তব্যনিষ্ঠ অফিসার। পরীক্ষায় নকল করার অপরাধে তিনি একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার
করেছিলেন। এই পরীক্ষার্থীটি নাকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সিনিয়ার নেতা সাবেক চীফ হুইপ আবুল
হাসনাত আবদুল্লাহর ভ্রাতুষ্পুত্র। সেই পরিচয়ে সে হুমকি দিয়েছিল তারিক সালমানকে। তারিক সালমান
তাকে গ্রেফতার করেছিলেন। সম্ভবত এই গ্রেফতারই তার কাল হয়েছিল। গত স্বাধীনতা দিবসে শিশুদের
জন্য একটি চিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। তাতে পুরস্কৃত হওয়া ছবি দিয়ে তিনি একটি
একটি কার্ড ছেপেছিলেন। এই ছবিতে বঙ্গবন্ধুকে বিকৃত করার অভিযোগে মামলা করেছিল একজন
আওয়ামী নেতা। সেই মামলায় তারিক সালমানকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার
ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। ক্ষুব্ধ হন শেখ
হাসিনা নিজেও। ফলে রেহাই পান তারিক সালমান।
তারিক সালমানের রেহাই পাওয়াটাই বড় কথা নয়। প্রুশ্ন উঠেছে এ ঘটনায় দেশের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে
বিরাজিত অবস্থা নিয়ে। একে তো বলা যায় নৈরাজ্য। প্রশাসনে কার কথায় কি হয়, কে কোথায় প্রভাব
বিস্তার করে রয়েছে, মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্তা ব্যক্তিদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও তাদের হস্তক্ষেপ
দেশের শাসন ব্যবস্থাকে কোন অধঃপতনে নিয়ে চলেছে তারিক সালমানের গ্রেফতার তারই এক জ্বলন্ত
দৃষ্টান্ত। ইউএনও পদমর্যাদার একজন সরকারী কর্মকর্তা কোন অদৃশ্য শক্তির অঙ্গুলি হেলনে বিনা অপরাধে
পরিণত হলেন হাতকড়া পরা আসামীতে। তার ওপরঅলা জেলা প্রশাসক তাকে রক্ষা করলেন না, পুলিশ
সুপার তার হেনস্থাকে রোধ করতে এগিয়ে এলেন না। সবাই নিশ্চয় একাট্টা হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকে
‘বিকৃতির’ হাত থেকে রক্ষায়। বোধহয় ভেবেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি এই ভক্তির আতিশয্য দেখিয়ে তারা
শেখ হাসিনাকে খুশি করে দেবেন। আর শেখ হাসিনা খুশি হলে তাদের ভাগ্য আরো খুলে যাবে।
ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। এ ঘটনায় যথাযোগ্য পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেছেন। তথাকথিত
বঙ্গবন্ধু প্রীতির এই অতি উৎসাহে তিনি বিগলিত হননি। ছোট্ট শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবিটিতে তিনি কোন
বিকৃতি পাননি। ছবিটি তিনি পছন্দ করেছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আশা করব বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে
কোন মহলের স্বার্থ হাসিলের হীন প্রয়াসকে তিনি প্রতিহত করবেন। এ্কই সঙ্গে ইউএনও গ্রেফতারের
ঘটনায় প্রশাসনে বিরাজিত যে নৈরাজ্য প্রকাশ পেয়েছে শক্ত হাতে তারও প্রতিকার করবেন।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.