মঙ্গলবার , ১৬ জানুয়ারী ২0১৮, Current Time : 11:11 pm




সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীদের ঘাড়ে ৫৭ ধারার খড়গ

সাপ্তাহিক আজকাল : 21/07/2017

রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সরকারের প্রয়োজন কালাকানুন। কালাকানুন সরকারকে তার ইচ্ছেমাফিক ব্যবস্থা
গ্রহণের সুযোগ দেয়। হাতে কালাকানুন না থাকলে শুধু সাদা আইনে দেশ চালাতে সরকার যেন অসহায় হয়ে
পড়ে। সেই পাকিস্তানী শাসন থেকে বাংলাদেশের এই সাতচল্লিশ বছর পর্যন্ত কোন সরকারই কালাকানুনের
ওপর নির্ভর না করে দেশ চালাতে পারল না। কালো আইন হলেও সরকারী মহল ক্ষমতায় থাকাকালীন
কখনই তাকে কালো বলেন না। তাদের চোখে তখন এগুলি সবই সাদা। তবে তারা যখন ক্ষমতার বাইরে
থাকেন, সরকারের বিরোধিতায় থাকেন, তখন তারা সব ধরনের কালাকানুনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন।
কালাকানুন মানে কালো আইন। ইংরেজ শাসনামল থেকে সেই আইনগুলিই কালো হিসাবে চিহ্নিত হয়ে
আসছে যেগুলি জনগনকে নিপীড়ন-নির্যাতনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এগুলি এমন আইন যার বিরুদ্ধে
প্রতিকার প্রার্থনার কোন সুযোগ নেই। এ সব যাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হয় তারা আর বিচারের দ্বার পর্যন্ত
পৌঁছাতে পারেন না। শুরুতেই তাদেরকে জামিন অযোগ্য বিধিতে আটক করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
যে সুযোগ দেশের সাদা আইন অর্থাৎ পেনাল কোডে নেই। পেনাল কোড বা রাষ্ট্রীয় দন্ডবিধিতে সরকারের
গৃহীত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু কোন সরকারই চায় না তার
কার্যক্রম আদালতে চ্যালেঞ্জ হোক। এর জন্যই সরকারের প্রয়োজন হয় কালাকানুনের।
কত নামে কত ধরনের কালাকানুন যুগে যুগে বাংলাদেশের মানুষের ওপর নেমে এসেছে। নিবর্তনমূলক
আইন, দেশরক্ষা আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, প্রেস এ্যান্ড পাবলিকেশন্স অর্ডিন্যান্স ইত্যাদি বহু কালাকানুনের
পথ পাড়ি দিয়ে দেশের মানুষ আজ কবলিত হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি আইনের শৃঙ্খলে। পুরো আইনটিই যেখানে
নিবর্তনমূলক, সেখানে আরো নগ্নভাবে একটি ধারা এতে সন্নিবেশিত হয়েছে যা পরিচিতি পেয়েছে ৫৭ ধারা
নামে। এটি এমন একটি ধারা যা মানুষের অবরুদ্ধ কন্ঠকে একেবারে স্তব্ধ করে দিতে একচেটিয়া সুযোগ
তুলে দিয়েছে ক্ষমতাসীনদের হাতে। এর শিকারে পরিণত হচ্ছেন বিশেষ করে সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবীরা। কারো
কোন লেখায় যদি কেউ ’সংক্ষুব্ধ’ হন তবে তিনি সেই লেখকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করতে
পারবেন। ’সংক্ষুব্ধ’ হওয়ার জন্য কি কি কারণ বিবেচ্য হবে তা কিছু নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী
সম্পর্কে একটি মন্তব্যের জন্য সুদূর মফস্বলের একজন আওয়ামী লীগ নেতা সংক্ষুব্ধ হয়ে ৫৭ ধারায় মামলা
দায়ের করেছেন। অতি সম্প্রতি এক বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও
গণযোগাযোগ বিভাগের একজন শিক্ষক তার সহকর্মী অপর এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের
করে। বিভাগের পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে উক্ত শিক্ষক নাকি টুইটারে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। ৫৭
ধারার শিকার হচ্ছেন বিশেষ করে সাংবাদিকরা। এই ধারায় এ বছর জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে দায়ের হওয়া
৩৫ টি মামলার মধ্যে ২২ টিই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। ফেসবুক কিংবা টুইটারে মন্তব্য করলেও রেহাই নেই।
তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও এর ৫৭ ধারা দেশবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
এখন আবার প্রণীত হতে চলেছে ডিজিটাল আইন। গত সপ্তাহের ‘আজকাল’-এ প্রকাশিত খবরে জানা গেছে,
এই প্রস্তাবিত আইনেও তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিতর্কিত ও সমালোচিত বিষয়গুলি ভিন্ন আঙ্গিকে
সংযুক্ত হতে চলেছে। থবরে বলা হয়েছে,এর কবল থেকে প্রবাসীরাও রেহাই পাবেন না। প্রবাসে বসে কেউ
ফেসবুকে বা টুইটারে ’আপত্তিকর’ কিছু লেখালেখি করলে তার বিরুদ্ধেও মামলা হতে পারে এবং ঢাকায়
বিমানবন্দরে নামার সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
দেশের মানুষের কন্ঠ রোধ করা এই কালাকানুনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক সমাজ আন্দোলন করছেন। এই
কালাকানুন বাতিল ও এধরনের কোন আইন প্রণয়ন থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান
জানাই।



Chief Editor & Publisher: Zakaria Masud Jiko
Editor: Manzur Ahmed
37-07 74th Street, Suite: 8
Jackson Heights, NY 11372
Tel: 718-565-2100, Fax: 718-865-9130
E-mail: ajkalnews@gmail.com
� Copyright 2009 The Weekly Ajkal. All rights reserved.